Published : 28 Mar 2026, 10:37 AM
পেন্টাগনের বিরুদ্ধে করা মামলায় প্রাথমিক ধাপে বড় জয় পেয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কোম্পানি অ্যানথ্রপিক।
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে আদালত বলেছে, কোম্পানিটিকে ‘পঙ্গু’ করতেই এমন প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফলে সরকারি কাজে কোম্পানিটির ক্লড-এর মতো এআই টুল ব্যবহারের পথ আপাতত সচল রইল।
বিবিসি লিখেছে, বৃহস্পতিবার বিচারক রিটা লিন এআই কোম্পানিটির পক্ষে এ রায় দিয়েছেন।
এর আগে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ নির্দেশ দিয়েছিলেন, সরকারি সব সংস্থাকে অবিলম্বে অ্যানথ্রপিকের প্রযুক্তি ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
বিচারক তার আদেশে বলেছেন, এই নির্দেশ আপাতত কার্যকর করা যাবে না।
রায়ে বিচারক লিন লিখেছেন, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর যেভাবে তাদের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে তা নিয়ে কোম্পানিটি উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। সেই কারণে সরকার অ্যানথ্রপিককে ‘পঙ্গু করার’ ও ‘জনসাধারণের আলোচনা থামিয়ে দেওয়ার’ চেষ্টা করছে।
“এমন বিষয় স্পষ্টতই যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী বা বাকস্বাধীনতার বিরুদ্ধ আচরণ।”
মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অনুসারে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সরকারের সমালোচনা করলে সরকার তার ভিত্তিতে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে না।
এ আদেশের মানে হচ্ছে, মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অ্যানথ্রপিকের টুল সরকার ও সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যোগ থাকা বাইরের বিভিন্ন কোম্পানি ব্যবহার করতে পারবে।
এ রায়ের বিষয়ে বিবিসির মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের প্রতিনিধিরা।
অ্যানথ্রপিকের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতের এই রায়ে কোম্পানিটি ‘খুশি’।
তবে তাদের মূল লক্ষ্য ‘সরকারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করা, যাতে সব আমেরিকান নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য এআই থেকে উপকার পেতে পারেন’।
এ মাসের শুরুর দিকে ট্রাম্প প্রকাশ্যে কোম্পানিটির সমালোচনা করার পর এবং হেগসেথ একে ‘সাপ্লাই চেইন রিস্ক’ বা সরবরাহ শৃঙ্খলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে। এর মাধ্যমে এই প্রথম কোনো মার্কিন কোম্পানিকে প্রকাশ্যে এমন তকমা দেওয়া হয়েছিল।
এর পর মার্কিন যুদ্ধ বিভাগসহ (প্রতিরক্ষা বিভাগ) আরও বেশ কিছু সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা করে অ্যানথ্রপিক।
সাধারণত শত্রুভাবাপন্ন দেশের বিভিন্ন কোম্পানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এ তকমা ব্যবহার করে। এর মানে, সংশ্লিষ্ট টুল বা সেবাটি সরকারি ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট নিরাপদ নয়।
অ্যানথ্রপিক মামলায় দাবি করেছে, সরকারের এমন পদক্ষেপের ফলে তাদের ব্যবসা ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং তাদের বাকস্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।
পেন্টাগন এ মামলায় যুক্তি দিয়েছে, সরকারি ও সামরিক কার্যক্রমে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত অ্যানথ্রপিকের প্রযুক্তি নিয়ে তারা শঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। কারণ কোম্পানিটি চুক্তির নতুন শর্তাবলী মানতে অস্বীকার করেছে।
সংস্থাটির দাবি, এর ফলেই তাদের ‘সাপ্লাই চেইন রিস্ক’ ঘোষণা করার প্রয়োজন তৈরি হয়েছিল।
বিচারক লিন তার আদেশে বলেছেন, ট্রাম্প ও হেগসেথ তাদের প্রকাশ্য বিবৃতিতে অ্যানথ্রপিককে ‘ঔক’ ও ‘বামপন্থী উন্মাদ’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তবে নিরাপত্তার অভাব নিয়ে তারা কিছু বলেননি।
মার্কিন যুদ্ধ বিভাগের নাম উল্লেখ করে বিচারক লিন লিখেছেন, “বিষয়টি যদি কেবল চুক্তি সংক্রান্ত অচলাবস্থা হত তবে প্রতিরক্ষা দপ্তর সম্ভবত ক্লড ব্যবহার বন্ধ করে দিত। তবে সরকারের বর্তমান বিভিন্ন পদক্ষেপ জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থ রক্ষার যুক্তিসঙ্গত সীমাকে ছাড়িয়ে গেছে।”
মামলা করার আগে ২০ কোটি ডলারের এক চুক্তি সম্প্রসারণের নতুন শর্ত নিয়ে অ্যানথ্রপিক কয়েক মাস ধরে প্রতিরক্ষা দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে আসছিল।
পেন্টাগন চেয়েছিল চুক্তিতে কেবল এটুকুই লেখা থাকুক যে, তারা অ্যানথ্রপিকের প্রযুক্তি ‘যে কোনো বৈধ কাজে’ ব্যবহার করতে পারবে।
তবে অ্যানথ্রপিক ও এর সিইও দারিও আমোদেই চিন্তিত ছিলেন, এর ফলে আমেরিকানদের ওপর গণনজরদারি এবং সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় মরণাস্ত্র তৈরির পথ খুলে যেতে পারে।
এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ্যে আসে অ্যানথ্রপিক ও পেন্টাগনের এ দ্বন্দ্ব। এ সময় প্রতিরক্ষা সচিব হেগসেথ চুক্তির নতুন শর্ত মেনে নেওয়ার জন্য অ্যানথ্রপিককে একটি সময়সীমা বেঁধে দেন।
তবে কোম্পানিটি তা মেনে নিতে অস্বীকার করেছে।
আরও পড়ুন…
কালো তালিকা: মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে মামলায় অ্যানথ্রপিক
অ্যানথ্রপিক-পেন্টাগন দ্বন্দ্ব: যুদ্ধ বনাম এআই ও টেক জায়ান্টদের নীতি