মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ৪১ হাজার কর্মীর তথ্য ফাঁস
এ তথ্য ফাঁসের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটির প্রতি সাত জনে এক জন কর্মীর ব্যক্তিগত বিবরণ প্রকাশ্যে চলে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ৪১ হাজারেরও বেশি কর্মীর সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে তা ইন্টারনেটে ফাঁস করেছে একটি হ্যাকার দল।
এ তথ্য উঠে এসেছে উইয়্যার্ড, ওয়াশিংটন পোস্ট ও এনপিআরের প্রতিবেদনে। ফাঁস হওয়া নথিতে কর্মীদের ইমেইল, ফোন নম্বর ও অফিসের ঠিকানার পাশাপাশি সংস্থার গোপন ও নজরদারি সংক্রান্ত কর্মসূচির তথ্যও রয়েছে।
ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে প্রায় ২১ হাজার রেকর্ড মার্কিন ‘কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন’-এর কর্মী এবং ১০ হাজার রেকর্ড ‘ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট’ বা আইসিই কর্মী সংক্রান্ত।
এর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ তথ্যই আইসিইর অপরাধ তদন্ত শাখা ‘হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস’-এর সঙ্গে সম্পর্কিত।
এ তথ্য ফাঁসের ফলে সার্বিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মোট জনবলের প্রায় সাত ভাগের এক ভাগ কর্মীর ব্যক্তিগত বিবরণ প্রকাশ্যে চলে এসেছে।
নিজেদের ‘ডিপার্টমেন্ট অফ পিস’ দাবি করা হ্যাকার দলটি বিবৃতিতে বলেছে, “১৭ জুলাই মার্কওয়েইন মুলিন বলেছিলেন, তিনি ‘তাপ বাড়াচ্ছেন’। আপনি যখন তা করেন, আইসিইর সঙ্গে এটাই ঘটে।”
সংস্থাটির ব্যবহারে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ নীতি লঙ্ঘনের দায়ে জড়িত এজেন্টদের কীভাবে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সেক্রেটারি বলেছিলেন, তারা ‘রাস্তায় নীতি প্রয়োগ জোরদার করছেন (তাপ বাড়াচ্ছেন)’।
তার সেই মন্তব্যের জের ধরেই নিজেদের বিবৃতিতে পাল্টা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এ হ্যাকার দলটি।
যুক্তরাষ্ট্রের মেইন অঙ্গরাজ্যের জোয়ান সেবাস্তিয়ান ডুরান গেরেরো ও হিউস্টনের লরেঞ্জো সালগাদো আরাউজ নামের দুই ব্যক্তিকে গুলির ঘটনায় ওই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেছিল সংস্থাটি।
তবে তাদের কাউকেই আইসিইর সরাসরি আইনি পদক্ষেপের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।
মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ব্যবহৃত একক সাইন-অন সেবাদাতা কোম্পানি ‘অকটা’র মাধ্যমে হ্যাকাররা এই সংবেদনশীল ডেটা চুরি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অকটা ব্যবহারের ফলে কর্মীরা একবার কেবল লগইন তথ্য দিয়ে সিস্টেমের ব্যাকএন্ড, ক্লাউড সার্ভিস বা মোবাইল অ্যাপে পূর্ণ প্রবেশাধিকার পেয়ে যান।
এদিকে, অকটা বলেছে, তাদের নিজস্ব তথ্য বা সিস্টেমে কোনো ধরনের অনুপ্রবেশের প্রমাণ মেলেনি।
হ্যাকার দলটি সংগৃহীত এই তথ্য ‘ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়াল অফ সিক্রেটস’ নামের এক অলাভজনক সংগঠন ও সুইজারল্যান্ডের সাইবার নিরাপত্তা গবেষক ‘মায়া আর্সন ক্রাইম’-এর কাছে পাঠিয়েছে।
পরবর্তীতে তারা ‘ডিপার্টমেন্ট অফ পিস’-এর সরবরাহ করা এই বড় তথ্যভাণ্ডার নিয়ে অনলাইনে অনুসন্ধান করা ডেটাবেইস তৈরি করেছে।
সংগৃহীত তথ্যের সঙ্গে যোগ একটি বার্তায় হ্যাকাররা লিখেছে, “তাদের কাছে আমাদের তথ্য আছে। ফলে আমাদের কাছেও তাদের তথ্য থাকা একেবারেই ন্যায্য।”
উন্মুক্ত এই ডেটাবেইসটির নাম ‘আইসপিক’।
‘ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়াল অফ সিক্রেটস’ প্রতিষ্ঠাতা এমা বেস্ট বলেছেন, এ নথিপত্রে গোপন ও নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনায় যুক্ত কর্মীদের সঙ্গে ডিএইচএস-এর আওতাধীন বহিষ্কার ও নির্বাসন কর্মসূচির মূল কর্মীদের সরাসরি সংযোগের তথ্য রয়েছে।
এদিকে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এক মুখপাত্র বলেছেন, তারা সম্ভাব্য এই তথ্য ফাঁসের বিষয়ে অবগত রয়েছেন এবং দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে কাজ করছেন।
“আমাদের কর্মীদের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের নিরাপত্তা হুমকিকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখি ও সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি। আরও তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা জানানো হবে।”
