০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

রাষ্ট্রদ্রোহ ও গোপন তথ্য চুরির অভিযোগে জার্মানির সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান গ্রেপ্তার

শীতল যুদ্ধের পর দেশটির বৃহত্তম গোয়েন্দা কেলেঙ্কারিগুলোর মধ্যে একটির জন্য তাকে আটক করা হয়।

রাষ্ট্রদ্রোহ ও গোপন তথ্য চুরির অভিযোগে জার্মানির সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান গ্রেপ্তার

জার্মানির সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান আউগুস্ট হানিং। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 07 Oct 2026, 03:25 PM

Updated : 07 Oct 2026, 03:25 PM

রাষ্ট্রদ্রোহ ও রাষ্ট্রীয় গোপন নথি হাতিয়ে নিয়েছেন সন্দেহে জার্মানির সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান আউগুস্ট হানিংকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শীতল যুদ্ধের পর দেশটির বৃহত্তম গোয়েন্দা কেলেঙ্কারিগুলোর মধ্যে একটির জন্য মঙ্গলবার তাকে আটক করা হয়।

এক বিবৃতিতে দেশটির তদন্তকারী আইনজীবীর দপ্তর বলেছে, “রাষ্ট্রদ্রোহমূলক গুপ্তচরবৃত্তি, রাষ্ট্রীয় গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ, রাষ্ট্রদ্রোহ ও গুপ্তচরবৃত্তির প্রচেষ্টার জন্য হানিংকে গভীরভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে।”

তদন্তকারী আইনজীবীরা তার বিরুদ্ধে গোপন নথিপত্রের জন্য অর্থ প্রদান ও একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার ব্যবহারের উদ্দেশ্যে বিশ্লেষণ তৈরি করার অভিযোগ করেছেন।

তবে ওই বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার নাম প্রকাশ করেননি তারা আর বিশ্লেষণটি তার উদ্দিষ্ট প্রাপকের কাছে পৌঁছেছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।

রয়টার্স জানিয়েছে, জার্মানির পার্লামেন্টের নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটিতে থাকা একজন জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘বিএনডি’-র কোনো সাবেক প্রধানকে গ্রেপ্তারের ঘটনা নজিরবিহীন আর এতে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে জার্মানির গোয়েন্দা সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

জার্মান সাময়িকী স্পিগেল জানিয়েছে, আজারবাইজানের এক গোয়েন্দা এজেন্টের সঙ্গে হানিংয়ের যোগাযোগ থাকার অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

রয়টার্স অনুরোধ জানালেও হানিংয়ের গ্রেপ্তারের বিষয়ে জার্মান চ্যান্সেলরের দপ্তর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

২০০৫ সালে সংস্থাটির প্রধান হিসেবে সাত বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পাঁচ বছর পর হানিং বিএনডির সাবেক এক দপ্তর ব্যবস্থাপকের সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে গোপন তথ্য নেওয়ার চুক্তি করেন বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী আইনজীবীরা।

হানিংয়ের পাশাপাশি মানফ্রেড ডি নামের ওই দপ্তর ব্যবস্থাপককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুজনকেই জার্মানির ফেডারেল কোর্ট অব জাস্টিসের বিচারকের সামনে হাজির করার কথা রয়েছে।

তদন্তকারীদের মতে, মানফ্রেড ডি বছরের পর বছর ধরে প্রায় ২০০০ গোপন নথি পাচার করেছেন। যার মধ্যে বিএনডির অভ্যন্তরীণ গোপন বিষয়াবলি এবং জার্মান চ্যান্সেলরির উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা ব্রিফিংয়ের নথিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

জার্মান সংবাদপত্র ‘স্যুদডয়চে সাইটুং’ জানিয়েছে, এসব নথিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, রুশ সামরিক বাহিনী এবং মিত্র দেশগুলোর গোয়েন্দা সংস্থার গোপনীয় তথ্য রয়েছে। তবে পাচার হওয়া তথ্য রাশিয়ায় গেছে এমন প্রমাণ মেলেনি।