নির্বাচনে এআই হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে টেক জায়ান্টদের স্বাক্ষর

জেনারেটিভ এআই এরইমধ্যে রাজনীতিকে প্রভাবিত করতে, এমনকি মানুষদের  ভোট না দেওয়ায় প্ররোচনা দিতে ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 18 Feb 2024, 07:03 AM
Updated : 18 Feb 2024, 07:03 AM

এ বছরের বিভিন্ন নির্বাচনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি প্রতারণামূলক কনটেন্ট ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ প্রবণতা মোকাবেলায় একসঙ্গে কাজ করতে রাজি হয়েছে ২০টি প্রযুক্তি কোম্পানির একটি দল।

বিশ্বের অর্ধেকের বেশি জনসংখ্যা এ বছর ভোটে অংশ নিতে যাচ্ছে। এর ফলে মাত্র কয়েক সেকেন্ডে লেখা, ছবি, ভিডিও’র মতো কনটেন্ট তৈরি করতে পারা জেনারেটিভ আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) খাতের দ্রুত ফুলে ফেঁপে ওঠার বিষয়টি এ বছরের বড় নির্বাচনগুলোকে প্রভাবিত করার ভয় আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।

‘মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্স’-এ ঘোষিত এ প্রযুক্তি বিষয়ক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে ওপেনএআই, মাইক্রোসফট ও ‘অ্যাডোবি’সহ এমন সব কোম্পানি যারা বিভিন্ন কনটেন্ট বানানোর জন্য জেনারেটিভ এআই মডেল তৈরি করছে।

পাশাপাশি, অন্য স্বাক্ষরকারীদের মধ্য রয়েছে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম, যেমন মেটা প্ল্যাটফর্মস, টিকটক ও এক্স। নিজেদের প্ল্যাটফর্ম থেকে ক্ষতিকর কনটেন্ট দূরে রাখার জটিল কাজটি করতে হবে তাদের।

এ চুক্তিতে এআইয়ের তৈরি বিভ্রান্তিকর ছবি, ভিডিও ও অডিও শনাক্ত করার, ভোটারদের প্রচারণামূলক কনটেন্ট সম্পর্কে জানানোর জন্য জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন তৈরি করার ও কোম্পানিগুলোর পরিষেবাতে এআই কনটেন্ট-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিভিন্ন টুল তৈরিতে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

এআইয়ের তৈরি কনটেন্ট শনাক্ত করতে বা এর উৎস চিহ্নিত করার প্রযুক্তিতে ওয়াটারমার্কিং বা মেটাডেটা এমবেডিং অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে কোম্পানিগুলো।

তবে, প্রতিশ্রুতি পুরণের কোনো সময়সীমা বা কোম্পানিগুলো কীভাবে এসব বস্তবায়ন করবে সেটি চুক্তিতে নির্দিষ্ট ভাবে উল্লেখ ছিল না বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।

“আমি মনে করি যে এ চুক্তির ভালো দিকটি হলো এতে অনেক কোম্পানি স্বাক্ষর করেছে।” – বলেন মেটা প্ল্যাটফর্মের গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের সভাপতি নিক ক্লেইগ।

“যদি প্ল্যাটফর্মগুলো নিজেদের শনাক্তকরণ, উৎস, লেবেলিং, ওয়াটারমার্কিং ও আরও অনেক কিছুর নতুন নীতি তৈরি করে তাহলে এটি ভাল। তবে, এর জন্য সম্মিলিত উদ্যোগের বৃহত্তর প্রতিশ্রুতি না থাকলে আমরা আলাদা আলাদা প্রতিশ্রুতির জগাখিচুড়িতে আটকে থাকবো।” – বলেন ক্লেইগ।

জেনারেটিভ এআই এরইমধ্যে রাজনীতিকে প্রভাবিত করতে, এমনকি লোকজনকে ভোট দেওয়ায় নিরুৎসাহিত করতে ব্যবহার করা হচ্ছে। গেল জানুয়ারিতে মার্কিন অঙ্গরাজ্য নিউ হ্যাম্পশায়ারের প্রেসিডেনসিয়াল প্রাইমারি নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অনুরূপ কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে তৈরি একটি রোবোকল লোকজনকে ভোট না দিয়ে বাড়িতে থাকতে উৎসাহ দিয়েছে।

ওপেনএআই-এর তৈরি চ্যাটজিপিটি’র মতো লেখা বা টেক্সট তৈরি করতে পারে এমন এআই টুলের জনপ্রিয়তা থাকলেও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এআইয়ের বানানো ছবি, ভিডিও ও অডিওর ক্ষতিকারক প্রভাব মোকাবেলায় জোর দেবে কারণ, মানুষ লেখা বা পাঠ্য বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করে বলে এক সাক্ষাতকারে বলেছেন অ্যাডোবি’র প্রধান ট্রাস্ট অফিসার ডানা রাও।

"অডিও, ভিডিও ও ছবির সঙ্গে একটি মানসিক যোগসূত্র রয়েছে," বলেন তিনি।

 "এ ধরনের কনটেন্ট বিশ্বাস করার মতো করেই মানুষের মস্তিষ্কের ধরন তৈরি হয়েছে।"