Published : 01 Apr 2026, 10:37 AM
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালাতে তৈরি ডেটা সেন্টার এত বেশি তাপ উৎপাদন করছে যে, আশপাশের ভূমির তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়ছে। এতে তৈরি হচ্ছে এক ধরনের ‘ডেটা সেন্টার হিট আইল্যান্ড’।
বিজ্ঞান সাময়িকী নিউ সায়েন্টিস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রভাবের কারণে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৪ কোটি মানুষ এরইমধ্যে তুলনামূলক বেশি উষ্ণ এলাকায় বসবাস করছেন।
রিয়েল এস্টেট কোম্পানি জেএলএলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টারের সক্ষমতা দ্বিগুণ হতে পারে। এর প্রায় অর্ধেক সক্ষমতাই ব্যবহার করবে এআই খাত।
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ কেমব্রিজের গবেষক আন্দ্রেয়া মারিনোনি ও তার সহকর্মীরা দেখেছেন, ডেটা সেন্টার চালাতে প্রয়োজনীয় শক্তির পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে এবং আগামীতে তা অনেক বেশি বাড়তে পারে। এ কারণেই তারা এর প্রভাব পরিমাপ করতে উদ্যোগ নিয়েছেন।
গবেষণায় গত ২০ বছরের স্যাটেলাইট তথ্য বিশ্লেষণ করে ৮৪০০টির বেশি এআই ডেটা সেন্টারের অবস্থানের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছেন তারা। অন্য প্রভাব এড়াতে জনবহুল এলাকা থেকে দূরের ডেটা সেন্টারগুলোয় বিশেষ নজর দিয়েছেন গবেষকেরা।
তাদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, একটি এআই ডেটা সেন্টার চালু হওয়ার পর আশপাশের ভূমির তাপমাত্রা গড়ে প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়ে। কিছু ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি ৯ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছায়।
শুধু কাছাকাছি এলাকাতেই নয়, ডেটা সেন্টার থেকে ১০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত এই প্রভাব দেখা গেছে। এমনকি ৭ কিলোমিটার দূরেও তাপমাত্রা বৃদ্ধির মাত্রা প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বজায় থাকে।
গবেষক মারিনোনি বলেন, “আমাদের পাওয়া ফলাফল বেশ বিস্ময়কর। এটি বড় ধরনের সমস্যা হয়ে উঠতে পারে।”
জনসংখ্যার তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখেছেন, ১০ কিলোমিটারের মধ্যে বসবাসকারী ৩৪ কোটির বেশি মানুষ এমন জায়গায় থাকছেন, যেখানে ডেটা সেন্টার না থাকলে তাপমাত্রা কম থাকত।
মেক্সিকোর বাজিও অঞ্চল এবং স্পেনের আরাগন প্রদেশে ২০০৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেখা গেছে, যা অন্য কোনো কারণে ব্যাখ্যা করা যায়নি বলে জানান মারিনোনি।
তবে ইউনিভার্সিটি অফ ব্রিস্টলের গবেষক ক্রিস প্রিস্ট মনে করেন, বিষয়টি আরও বিস্তারিতভাবে দেখা দরকার। তার ভাষায়, “এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির পেছনে গণনাজনিত তাপ কতটা আর ভবনের কাঠামোগত তাপ কতটা—তা বোঝার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।”
তবুও মারিনোনির মতে, যেভাবেই হোক ডেটা সেন্টার ভূমির তাপমাত্রা বাড়াচ্ছে। তিনি বলেন, “ডেটা সেন্টার নকশা ও উন্নয়নের সময় সতর্ক থাকা জরুরি।”