Published : 02 Mar 2026, 03:10 PM
স্মার্টফোন বাজারের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ ‘মেমোরি চিপ’-এর আকাশচুম্বী দাম যখন পুরো বিশ্বজুড়ে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তখন নিজেদের নতুন ফ্ল্যাগশিপ ফোন উন্মোচন করল শাওমি।
আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি প্রতিবেদনে লিখেছে, শনিবার বিশ্ববাজারে নিজেদের সর্বশেষ ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন উন্মোচন করেছে চীনা প্রযুক্তি কোম্পানিটি। মেমোরি চিপের দাম নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিক্রিতে ভাটা পড়ার আশঙ্কার মধ্যেই এই ঘোষণা এল।
বাজারে স্যামসাং ও অ্যাপলের মতো দামী বিভিন্ন ফোনের সঙ্গে পাল্লা দিতে চীনা প্রযুক্তি জায়ান্টটি বাজারে এনেছে শাওমি ১৭ ও শাওমি ১৭ আল্ট্রা। এসব ফোন কোম্পানিটি বাজারের ‘হাই এন্ড’ বা প্রিমিয়াম গ্রাহকদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করেছে।
স্মার্টফোনের জন্য অপরিহার্য মেমোরি চিপের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার পরও বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ স্মার্টফোন নির্মাতা কোম্পানিটি গেল বছরের তুলনায় নিজেদের ফোনের দাম বাড়ায়নি।
শাওমি ১৬-এর দাম শুরু হচ্ছে প্রায় ৯৯৯ ইউরো থেকে এবং শাওমি ১৭ আল্ট্রার দাম শুরু হচ্ছে ১ হাজার ৪৯৯ ইউরো থেকে।
কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের তথ্য অনুসারে, এ বছরের প্রথম প্রান্তিকে মেমোরি চিপের দাম ৮০ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এআই ডেটা সেন্টারগুলোতে মেমোরি চিপের ব্যাপক চাহিদার কারণে বাজারে এ ঘাটতি ও দামের উল্লম্ফন তৈরি হয়েছে।
স্মার্টফোনের অন্যতম ব্যয়বহুল অংশ এর মেমোরি।
ফেব্রুয়ারিতে গার্টনার এক পূর্বাভাসে বলেছে, ২০২৬ সালে স্মার্টফোনের দাম ১৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। অন্যদিকে, চিপ সংকটের কারণে ২০২৬ সালে স্মার্টফোনের বাজার ১২.৯ শতাংশ ছোট হওয়ার আশঙ্কা করছে আইডিসি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যেসব কোম্পানি দামী বা প্রিমিয়াম ফোন বিক্রি করে তারা এই বাড়তি খরচ সামলে নিতে পারবে।
তবে শাওমির আয়ের বড় অংশ আসে মধ্যম সারির বা মিড রেঞ্জ ফোন থেকে। এসব ফোনের দাম বাড়ানো হলে বাজারে সেগুলোর চাহিদা কমে যাওয়ার বড় ঝুঁকি রয়েছে। আর দামী ফোনগুলো বিক্রি করে এ ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া শাওমির জন্য কঠিন হতে পারে।
আইডিসি’র ডেটা ও অ্যানালিটিক্স বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সিসকো জেরোনিমো বলেছেন, “শাওমির জন্য এ বছরটি আরও চ্যালেঞ্জিং হবে। কারণ প্রিমিয়াম বা দামী ফোনের বাজারে তাদের পার্টনারশিপ অ্যাপল বা স্যামসাংয়ের মতো শক্তিশালী নয়। ফলে তারা অন্য কম দামী ফোনের কম মুনাফাকে প্রিমিয়াম সেগমেন্ট দিয়ে পুষিয়ে নিতে পারবে না।”
গত নভেম্বরেই শাওমি সতর্ক করেছিল, ২০২৬ সালে পুরো স্মার্টফোন শিল্পেই হ্যান্ডসেটের দাম বাড়াতে হতে পারে।
‘সিসিএস ইনসাইট’-এর প্রধান বিশ্লেষক বেন উডের ধারণা, শাওমিকে সম্ভবত তাদের সাশ্রয়ী ও মধ্যম সারির বিভিন্ন ফোনের দাম বাড়াতে হবে।
শাওমির আয়ের প্রধান উৎস এখনও ইলেকট্রনিক পণ্য হলেও কোম্পানিটি চীনে তাদের বিদ্যুচালিত গাড়ি বা ইভি ব্যবসার দ্রুত বিস্তার ঘটাচ্ছে। বর্তমানে তাদের মোট বিক্রয়লব্ধ আয়ের প্রায় এক-চতুর্থাংশ আসে এই খাত থেকে।
মেমোরি চিপের এ সংকটের সময়ে এটি তাদের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শাওমির সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে তাদের স্মার্টফোন থেকে আয় গত বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ কমেছে। তবে একই সময়ে তাদের ইভি ব্যবসার বিক্রি বেড়েছে প্রায় ২০০ শতাংশ।