০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

ক্যালিফোর্নিয়ার শিশু সুরক্ষা আইন নিয়ে মামলায় গুগল, মেটা, টিকটক

এই তিন প্রযুক্তি জায়ান্টের দাবি, শিশুদের জন্য কোনটা উপযোগী সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেবল মা-বাবার।

ক্যালিফোর্নিয়ার শিশু সুরক্ষা আইন নিয়ে মামলায় গুগল, মেটা, টিকটক

১৬ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসক্ত করার ঝুঁকি কমাতে নতুন আইন করেছে ক্যালিফোর্নিয়া। ছবি: এআই

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 07 Nov 2026, 02:19 PM

Updated : 07 Nov 2026, 02:19 PM

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১৬ বছরের কম বয়সি শিশুদের আসক্তি কমাতে ক্যালিফোর্নিয়ার নেওয়া নতুন আইনটির কার্যকর হওয়া ঠেকাতে মামলা করেছে গুগল, মেটা ও টিকটক।

আইনটিকে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপমূলক ও বাকস্বাধীনতার পরিপন্থী দাবি করে প্রযুক্তি জায়ান্টগুলো বলেছে, শিশুদের জন্য কোনটা উপযোগী সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেবল মা-বাবার।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান প্রতিবেদনে লিখেছে, ১৬ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসক্ত করার ঝুঁকি কমাতে ক্যালিফোর্নিয়া নতুন আইন করেছে, যা কোনো বিচারক স্থগিতাদেশ না দিলে বা বাতিল না করলে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকরের কথা রয়েছে।

এ আইনের প্রয়োগ বন্ধের দাবিতে অঙ্গরাজ্যটির বিরুদ্ধে আলাদা আলাদা মামলা দায়ের করেছে গুগল, মেটা ও টিকটক।

আইনি জটিলতা এড়াতে গুগল ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান হোসে, মেটা স্যান ফ্রান্সিসকোতে ও টিকটক লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে।

‘অ্যাসেম্বলি বিল ১৭০৯’ নামে পরিচিত ক্যালিফোর্নিয়ার এ আইনে শিশুদের জন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে ‘মনস্তাত্ত্বিক শোষণে অনুপ্রাণিত করে’ এমন কোনো ফিচার যোগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নিজস্ব অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ‘পার্সোনালাইজড রেকমেন্ডেশন’ পাঠানো বা ‘অটোপ্লে’ ফিচারের সাহায্যে একটানা ভিডিও দেখানোর মতো বিষয়গুলো এ আইনের আওতায় বন্ধ হবে। এগুলো শিশুদের মানসিক আসক্তি তৈরি করায় তা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন অঙ্গরাজ্যটি।

পাশাপাশি, এ ধরনের ফিচার থাকা শিশুদের পুরনো অ্যাকাউন্টগুলোও মুছে ফেলার বাধ্যবাধকতাও আরোপ করেছে ক্যালিফোর্নিয়া।

বুধবার দায়ের করা আলাদা মামলাগুলোয় গুগল, মেটা ও টিকটক দাবি করেছে, আইনটি জোর করে কনটেন্ট উপস্থাপনায় ক্যালিফোর্নিয়ার নিজস্ব পছন্দ চাপিয়ে দিচ্ছে ও সন্তানের সুরক্ষায় মা-বাবার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে খর্ব করছে।

কোম্পানিগুলোর ভাষ্য, এই আইন মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে উল্লেখিত বাকস্বাধীনতার সুরক্ষা ও ফেডারেল ‘কমিউনিকেশনস ডিসেন্সি অ্যাক্ট’-এর ‘সেকশন ২৩০’ ধারার লঙ্ঘন।

এই ধারা ব্যবহারকারীদের কনটেন্টের কারণে যে কোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে সরাসরি দায়বদ্ধতা থেকে সুরক্ষা দেয়।

বৃহস্পতিবার বিবৃতিতে এসব মামলাগুলোর একমাত্র বিবাদী ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টার দপ্তর বলেছে, তারা আইনি নথিগুলো পর্যালোচনা করছেন।

“অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তার স্বার্থে ক্যালিফোর্নিয়ার এ আইন সুরক্ষায় আমাদের দপ্তর সম্পূর্ণ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।”

আলাদা আলাদা মামলা করলেও ইউটিউবের মালিকানাধীন কোম্পানি গুগল, ফেইসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল কোম্পানি মেটা ও চীনের বাইটডান্সের মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্ম টিকটক এ তিন জায়ান্টই আইনি পদক্ষেপে একাট্টা হয়েছে।

Image

নিউসাম বলেছেন, ‘অনিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তি যখন আমাদের সন্তানদের ঝুঁকিতে ফেলছে ক্যালিফোর্নিয়া তখন চুপ করে বসে থাকবে না’। ছবি: রয়টার্স

১০ সেপ্টেম্বর বিলটিতে স্বাক্ষর করার সময় ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম বলেছিলেন, প্রযুক্তি সম্পর্কিত যে কোনো আলোচনায় শিশুদের নিরাপত্তাকে সবার আগে রাখতে হবে এবং ‘অনিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তি যখন আমাদের সন্তানদের ঝুঁকিতে ফেলছে ক্যালিফোর্নিয়া তখন চুপ করে বসে থাকবে না’।

আইনের বিরোধিতা করে গুগলের মুখপাত্র হোসে কাস্তানেদা বলেছেন, “পারিবারিক সিদ্ধান্তের জন্য মা-বাবাই সবচেয়ে উপযুক্ত স্থানে থাকেন। এই ধরনের অতিরিক্ত বিস্তৃত আইন শিশুদের জন্য বয়সোপযোগী ভিডিও খুঁজে পেতে আমরা যে প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছি সেটাকে বাধাগ্রস্ত করবে।”

অন্যদিকে, মেটা তাদের মামলায় বলেছে, একই ধরনের সেবা দেওয়া অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শিশুদের অনির্দিষ্টকাল সময় কাটানোর সুযোগ রেখে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য মেটার শত শত কোটি পোস্ট বাছাই বা দেখানোর সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তের ওপর প্রভাব খাটাতে পারে না।

একই সুর মিলিয়ে টিকটক বলেছে, “আইনপ্রণেতাদের কাছে কোনো একটি ধারণা বা ছবি ক্ষতিকর মনে হতে পারে। তবে কেবল সেই অজুহাতে তরুণদের সুরক্ষার কথা বলে কারও বাক স্বাধীনতাকে বন্ধ করা যায় না।”

ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন আইনটিকে কেবল সামাজিক মাধ্যম জায়ান্টগুলোই নয়, মুক্ত বাকস্বাধীনতা ও ডিজিটাল অধিকার রক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠনও ‘অতিমাত্রায় হস্তক্ষেপ করা’ বলে বর্ণনা করেছে।

আইনটিকে ‘প্রাইভেসি ও বাকস্বাধীনতার জন্য এক দুঃস্বপ্ন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে অলাভজনক ডিজিটাল অধিকার সংগঠন ‘ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশন’।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে যে পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তেমন কঠোর বিধিনিষেধ বিশ্বের অন্যান্য নানা দেশেও জোরদার করা হচ্ছে।

অগাস্টে প্রাইভেসি ও ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রায় সব মার্কিন অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে সমঝোতার অংশ হিসেবে ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলার জরিমানা দিতে ও টিনএজাদের ফেইসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের সীমা নির্ধারণে রাজি হয়েছিল মেটা।