Published : 08 Jan 2026, 10:40 AM
গত বছর সোনালি রঙের একটি স্মার্টফোন বাজারে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পরিবার। তবে এক বছর পেরিয়ে গেলেও ফোনটির কোনো দেখা নেই।
এ সপ্তাহে লাস ভেগাসে শুরু হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি মেলা ‘সিইএস ২০২৬’। সেখানে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো তাদের নতুন নতুন ডিভাইস প্রদর্শন করলেও ট্রাম্পের ফোন লাপাত্তা।
গত বছরের জুনে অ্যাপল ও স্যামসাংকে টেক্কা দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে ‘আসল আমেরিকানদের’ জন্য নিজস্ব ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন ও মোবাইল পরিষেবা আনতে চেয়েছিল ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের অধীন ট্রাম্প মোবাইল। কোম্পানিটি পরিচালনা করেন ট্রাম্পের দুই ছেলে ডনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্প। সে সময় সোনালি রঙের এই ফোনটির দাম ধরা হয়েছিল ৫০০ ডলার।
অ্যাপলের সাম্প্রতিক আইফোনগুলোর দাম যেখানে ৮০০ থেকে ১২০০ ডলারের মধ্যে, সেখানে ট্রাম্প মোবাইলের ফোনটি তুলনামূলক সাশ্রয়ী হিসেবেই উপস্থাপন করা হয়। নতুন এই উদ্যোগের অধীনে ‘টি১’ নামের ফোনটি অগাস্ট বা সেপ্টেম্বরে বাজারে আনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিল কোম্পানিটি।
শুরুর দিকে ট্রাম্প মোবাইল দাবি করেছিল, টি১ এমন গ্রাহকদের জন্য তৈরি, যারা নিজেদের দেশে তৈরি সেরা পণ্যের প্রত্যাশা করেন। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ফোন সরবরাহের সময়সূচি ও যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদনের পরিকল্পনা দুটিই বদলাতে থাকে। এর মধ্যেও কোম্পানিটি ফোনটির জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে ১০০ ডলার করে অগ্রিম নেওয়া চালিয়ে গিয়েছে।
ফোন ঘোষণার পরপরই অবস্থান বদলেছে ট্রাম্প মোবাইল। প্রথমে ‘যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি’ বললেও পরে ফোনটিকে ‘গর্বিত আমেরিকান’ একটি ডিভাইস হিসেবে প্রচার শুরু করে তারা। বর্তমানে কোম্পানির ওয়েবসাইটেও টি১-কে ‘গর্বিত আমেরিকান ডিজাইন’-এর ফোন বলা হচ্ছে। তবে এই দাবির পক্ষে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা নেই সেখানে।
বিশ্লেষকদের মতে, ১ হাজার ডলারের কম দামে স্মার্টফোন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সাপ্লাই চেইন ও লজিস্টিকস সুবিধা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নেই। একই বাস্তবতার মুখে পড়েছিল অ্যাপলও। সে কারণেই আইফোন উৎপাদন চীন ও ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেওয়ার ট্রাম্পের দাবি বাস্তবায়ন করা তাদের পক্ষেও সহজ হয়নি।
২০২৫ সালের গ্রীষ্মের শেষ দিকে এসে টি১ ফোনটি আদৌ কবে বাজারে আসবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা আরও ঘনীভূত হয়েছে। তখন ট্রাম্প মোবাইল ইঙ্গিত দিয়েছিল, যারা অগ্রিম ১০০ ডলার জমা দিয়েছেন তারা বছরের শেষ দিকে ফোনটি পেতে পারেন। বর্তমানে ওয়েবসাইটে শুধু লেখা রয়েছে ‘এই বছরের শেষদিকে’। এ যে আসলে কোন বছরের শেষদিকে তা বলা মুশকিল।
ফোনটি দেরি হওয়ার কারণ বা নির্দিষ্ট বাজারে আসার সময় নিয়ে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রয়েছে, ট্রাম্প মোবাইলের একজন সার্ভিস প্রতিনিধি বলেছেন, জানুয়ারির শেষ দিকে ফোনটি বাজারে আসতে পারে। বাজারে আসতে দেরি হওয়ার জন্য তারা গেল বছরের ৪৩ দিনব্যাপী মার্কিন ফেডারেল গভর্নমেন্ট শাটডাউনকেও দায়ী করেছেন।
এই দেরি বা অনুপস্থিতি ইন্টারন্যাশনাল ডেটা কর্পোরেশন বা আইডিসির বিশ্লেষক ফ্রান্সিসকো জেরোনিমোকে খুব একটা অবাক করেনি। তার মতে, শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল যে, ফোনটি বাজারে আনা সহজ হবে না।
জেরোনিমো বলেন, একটি স্মার্টফোন তৈরি করা যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। তাই শেষ পর্যন্ত ফোনটি আদৌ বাজারে আসে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
এদিকে ফোনটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হলেও ট্রাম্প মোবাইল প্রতি মাসে ৪৭ দশমিক ৪৫ ডলারে নিজেদের ওয়্যারলেস বা মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা বিক্রি করছে। এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ট্রাম্পের ৪৫তম ও ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হওয়ার বিষয়টি সামনে রেখে।
যারা দ্রুত স্মার্টফোন ব্যবহার করতে চান, তাদের জন্য পুরোনো আইফোন ও স্যামসাং গ্যালাক্সি মডেলের রিফারবিশড সংস্করণও বিক্রি করছে ট্রাম্প মোবাইল। এসব ফোনের দাম ৩৭০ থেকে ৬৩০ ডলারের মধ্যে।
জেরোনিমোর মতে, নতুন স্মার্টফোন তৈরি করার ঝামেলা ও ঝুঁকি এড়িয়ে গিয়ে পুরোনো ফোন ঘষামাজা করে বিক্রি করাকেই হয়তো এখন তুলনামূলক সহজ পথ হিসেবে বেছে নিয়েছে ট্রাম্প মোবাইল।
আরও পড়ুন…