Published : 05 Nov 2025, 01:37 PM
স্টুডিও জিবলিসহ জাপানের বেশ কয়েকটি নামী প্রকাশনা কোম্পানি ও স্টুডিও ওপেনএআইকে তাদের সৃজনশীল কাজ এআই মডেল ট্রেইনিংয়ে ব্যবহার না করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে।
ওই চিঠিতে তারা দাবি জানিয়েছে, কোম্পানিটি যেন অনুমতি ছাড়া তাদের সৃজনশীল কাজগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল ট্রেইনিংয়ে ব্যবহার না করে।
চিঠিটি দিয়েছে জাপানের কনটেন্ট ওভারসিজ ডিস্ট্রিবিউশন অ্যাসোসিয়েশন সিওডিএ। এটি দেশটির অনেক বড় প্রকাশক ও প্রযোজনা কোম্পানির প্রতিনিধিত্ব করে। এর মধ্যে রয়েছে জনপ্রিয় অ্যানিমেশন স্টুডিও স্টুডিও জিবলি, যারা বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় ‘স্পিরিটেড আওয়ে’ ও ‘মাই নেইবার তোতোরো’ সিনেমা তৈরি করেছে।
সিওডিএ’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওপেনএআই যেন তার এআই মডেল ট্রেইনিংয়ের সময় সদস্য কোম্পানিগুলোর কনটেন্ট ব্যবহার না করে বিশেষ করে কোনো অনুমতি ছাড়া।
ওপেনএআইয়ের জেনারেটিভ এআই টুলগুলো চালু হওয়ার পর থেকেই জিবলি স্টাইলের ছবি তৈরি করা সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
এ বছরের মার্চে চ্যাটজিপিটি এর নিজস্ব ইমেজ জেনারেটর চালুর পর অনেক ব্যবহারকারী নিজেদের সেলফি বা পোষা প্রাণীর ছবি জিবলি স্টাইলে বানিয়ে পোস্ট করতে শুরু করে।
এমনকি ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানও তার এক্স প্রোফাইল ছবি ‘জিবলিফায়েড’ করে ফেলেছিলেন।
এখন ওপেনএআইয়ের নতুন ভিডিও জেনারেটর ‘সোরা’ অ্যাপ আরও বেশি মানুষের হাতে পৌঁছাতে শুরু করায় সদস্যদের কনটেন্ট আরও বেশি হারে ট্রেইনিংয়ে ব্যবহৃত হতে পারে এমন আশঙ্কায় সিওডিএ উদ্বেগ প্রকাশ করছে। তাই তারা আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানাল যেন ওপেনএআই অনুমতি ছাড়া এসব কাজ ব্যবহার না করে।
ওপেনএআই বরাবরই কপিরাইট নিয়ে বিতর্কের মুখে রয়েছে। কোম্পানিটির নীতি অনেকটা ‘আগে ব্যবহার করো, পরে ক্ষমা চাও’ ধরনের। আগেই কনটেন্ট ব্যবহার করা হয়, পরে যদি কেউ আপত্তি জানায়, তখন বিষয়টা মীমাংসা করার চেষ্টা করে। এর ফলে ব্যবহারকারীরা সহজেই কপিরাইটযুক্ত চরিত্র বা প্রয়াত সেলিব্রিটিদের ছবি ও ভিডিও তৈরি করতে পারছে।
এই পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে নিনটেন্ডো, এমনকি ড. মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের পরিবার আশঙ্কা করছে, এসব কনটেন্ট সহজেই ‘ডিপফেইক’-এ ব্যবহার হতে পারে।
প্রযুক্তি সাইট টেকক্রাঞ্চ লিখেছে, ওপেনএআই চাইলে সিওডিএ-র অনুরোধ মেনে চলতে পারে, না হলে ক্ষতিগ্রস্ত কোম্পানিগুলো মামলা করতে পারবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আইন এখনো স্পষ্ট নয় তাই কপিরাইটযুক্ত বিষয় এআই ট্রেইনিংয়ে ব্যবহার করা বৈধ কি না তা নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই।
এর কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের কপিরাইট আইন সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছিল ১৯৭৬ সালে এবং এখন পর্যন্ত আদালতে খুব কম সংখ্যক মামলাতেই এই বিষয়ে রায় এসেছে।
সম্প্রতি এক মার্কিন ফেডারেল বিচারক উইলিয়াম অলসাপ রায় দিয়েছেন যে, প্রতিদ্বন্দ্বী এআই কোম্পানি অ্যানথ্রপিক কপিরাইট আইন ভঙ্গ করেনি। যদিও তারা ট্রেইনিংয়ে ব্যবহার করা বইগুলো অবৈধভাবে সংগ্রহ করেছিল বলে জরিমানা গুণতে হয়েছে।
সিওডিএ বলছে, জাপানের কপিরাইট আইনে এই কাজকে সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হতে পারে।
তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যখন ‘সোরা ২’-এর মতো টুল ব্যবহার করে কপিরাইটযুক্ত কোনো কাজ হুবহু বা প্রায় একইভাবে তৈরি হয়, তখন সেটি কপিরাইট ভঙ্গের মধ্যে পড়ে বলে আমরা মনে করি। জাপানের কপিরাইট আইনে এমন কোনো নিয়ম নেই, যেখানে কেউ আগে অনুমতি না নিয়ে পরে আপত্তির কারণে দায় এড়াতে পারে।’
এদিকে, স্টুডিও জিবলির কিংবদন্তি পরিচালক হায়াও মিয়াজাকি সরাসরি এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে ২০১৬ সালে যখন তাকে একটি এআই দিয়ে তৈরি ৩ডি অ্যানিমেশন দেখানো হয়েছিল তিনি তাতে ঘৃণা প্রকাশ করেছিলেন।
তিনি বলেছিলেন, “আমি এই জিনিসগুলো দেখতে পারি না বা এতে কোনো আগ্রহ পাই না। আমি মনে করি এটি জীবনকেই অপমান করছে।”