Published : 08 Dec 2025, 11:49 AM
বুলেট ট্রেনের বিস্ময়কর গতি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে এসব ট্রেন চলার জন্য চাকার ওপর নির্ভর করে না। তবে কিছু চৌম্বকীয় ট্রেন রয়েছে, যেগুলো নির্দিষ্ট গতিতে পৌঁছানোর জন্য শুরুতে রাবার চাকা ব্যবহার করে।
এসব চৌম্বকীয় বুলেট ট্রেন বা ‘ম্যাগলেভ’ ট্রেন চলার সময় রেলপথকে স্পর্শ করে না। ট্রেনে থাকা অত্যন্ত শক্তিশালী চুম্বক ও রেলপথের কয়েল ব্যবহার করে এগুলো ভেসে থাকে। এ প্রযুক্তি চাকার ঘর্ষণ পুরোপুরি দূর করে দেয়, যার কারণে এসব ট্রেন খুব দ্রুত চলতে পারে, বিশেষ করে জাপানের ‘এসসি ম্যাগলেভ’ ঘণ্টায় ৩৭৫ মাইল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট স্ল্যাশগিয়ার।
এ ধরনের চৌম্বকীয় ট্রেনকে চাকার ওপর নির্ভর করে চলতে হয় না। ট্রেনে থাকা চুম্বক ও রেলপথের চুম্বকের মধ্যে আকর্ষণ ও সংযোগ ব্যবহার করে ট্রেনকে আগের দিক থেকে পরের দিকে টেনে আনে। এতে ট্রেনটি রেলপথ স্পর্শ করে না ও এতে কোনো ঘর্ষণ নেই। পুরো এ পদ্ধতিটাই প্রচলিত ট্রেনের চাকা-ঘর্ষণের কারণে হওয়া দুর্ঘটনার ঝুঁকির তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ।
ম্যাগলেভ ট্রেনে তীব্র বাঁক নেওয়ার সময় রেল থেকে নামার মতো দুর্ঘটনা সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি বিভাগ বলেছে, “ম্যাগলেভ ট্রেন যখন গাইডওয়ের দেয়ালের মধ্যবর্তী স্বাভাবিক অবস্থান থেকে সরে যায় তখন ট্রেনকে সঠিক স্থানে ফিরিয়ে আনার জন্য চৌম্বকীয় শক্তি আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।”
তবে ম্যাগলেভ ট্রেন সাধারণ ট্রেনের তুলনায় নিরাপদ হলেও দুর্ঘটনা একেবারেই ঘটবে না এমন নিশ্চয়তা নেই। কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুর মতো দুর্ঘটনাও ঘটেছে।
সব ম্যাগলেভ ট্রেন দেখতে একরকম হলেও এগুলো চৌম্বকীয় শক্তি ব্যবহারের ধরন একরকম নয়।
এক ধরনের ম্যাগলেভ ট্রেনকে বলে ‘ইলেকট্রোম্যাগনেটিক সাসপেনশন’ বা ইএমএস ট্রেন। এ ট্রেনে রেলপথের আশপাশে ট্রেনের অংশ জড়ানো থাকে, যার পাশে ও নিচে চুম্বক থাকে। ফলে চুম্বকের আকর্ষণের মাধ্যমে রেলপথের প্রায় এক তৃতীয় ইঞ্চি উপরে ভেসে থাকে ট্রেনটি।
জার্মানির ২০০৬ সালের ম্যাগলেভ সিস্টেম ও চীনের নতুন ম্যাগলেভ ট্রেন ইএমএস ধরনের।
এদিকে, ‘ইলেকট্রোডাইনামিক সাসপেনশন’ বা ইডিএস ট্রেনকে প্রাধান্য দিয়েছে জাপান। এ ধরনের ট্রেন জাপানেই তৈরি হয়েছিল। এ ট্রেনে চুম্বক ব্যবহার করে ট্রেনকে রেল থেকে দূরে ঠেলানো হয়। ফলে ট্রেন প্রায় চার ইঞ্চি উপরে ভেসে থাকে।
ইএমএস-এর ট্রেনের তুলনায় ইডিএস ট্রেনের সুবিধা হল এগুলো সামান্য বিদ্যুৎ পরিবাহন করতে পারে। ফলে পুরো সিস্টেমের পাওয়ার চলে গেলেও ইডিএস ট্রেন কিছুক্ষণ চলতে পারে।