Published : 31 Mar 2026, 12:11 PM
ব্যাকটেরিয়ার চেয়েও ছোট আকারের কিউআর কোড তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা। বিশেষ সিরামিকের ওপর খোদাই করা এ কোডটি বিদ্যুৎ ছাড়াই শত শত বছর তথ্য সংরক্ষণ করতে পারে বলে দাবি তাদের।
তথ্য সংরক্ষণে বিজ্ঞানীদের এক অভিনব পথ এই কিউআর কোড খুলে দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।
অস্ট্রিয়ার ‘ভিয়েনা ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি’র একদল গবেষক চার্জওয়ালা কণার রশ্মি ব্যবহার করে এ কিউআর কোডটি তৈরি করেছেন।
বিশেষ ধরনের সিরামিকের ওপর খোদাই করা কোডটি কয়েক শতাব্দী ধরে তথ্য সংরক্ষণ ও পড়ার উপযোগী।
কেবল ১.৯৮ বর্গ মাইক্রোমিটার আকারের এ কোডটি বিশ্বের ক্ষুদ্রতম কিউআর কোড হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান করে নিয়েছে। কোডটি স্ক্যান করলে সরাসরি ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটে নিয়ে যায়।
কোডটি এতটাই ছোট যে, সাধারণ আলোতে বা খালি চোখে দেখা অসম্ভব। কোডটি দেখার জন্য ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপের প্রয়োজন।
‘ভিয়েনা ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি’র ‘ইনস্টিটিউট অফ মেটিরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’র অধ্যাপক পল মেয়ারহফার বলেছেন, “আমরা এখানে যে কাঠামোটি তৈরি করেছি তা এতটাই সূক্ষ্ম যে সাধারণ আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে তা মোটেও দেখা সম্ভব নয়।
“তবে এটাই সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় নয়... আমরা অতি ক্ষুদ্র, দীর্ঘস্থায়ী ও বারবার পড়া সম্ভব এমন কিউআর কোড তৈরি করেছি।”
এ অভাবনীয় সাফল্যটি এসেছে পাতলা সিরামিক ফিল্ম ব্যবহারের মাধ্যমে, যা সাধারণত উচ্চসক্ষমতাওয়ালা কাটার যন্ত্রপাতিতে প্রলেপ দিতে ব্যবহৃত হয়। এর মানে, ছোট হওয়ার পরও উপাদানটি চরম প্রতিকূল পরিবেশেও নকশাটি ঠিক রাখতে পারে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, বর্তমানে তথ্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত চৌম্বকীয় ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসের তুলনায় সিরামিকের ওপর খোদাই করা এ কিউআর কোড কয়েকশ বছর স্থায়ী হতে পারে।
‘ভিয়েনা ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি’র সিনিয়র সায়েন্টিস্ট আলেকজান্ডার কার্নবাওয়ার বলেছেন, “আমরা তথ্যের যুগে বাস করছি, অথচ আমাদের জ্ঞান এমন সব মাধ্যমে সংরক্ষিত হচ্ছে, যা বিস্ময়করভাবে ক্ষণস্থায়ী।
“সিরামিক স্টোরেজ মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা প্রাচীন সভ্যতার মতো পথ অনুসরণ করছি, যাদের শিলালিপিগুলো আমরা আজও পড়তে পারি। বিভিন্ন তথ্যকে এমন স্থিতিশীল ও ক্ষয়হীন উপাদানে লিখছি আমরা, যা সময়ের সঙ্গে টিকে থাকবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও পুরোপুরি সহজলভ্য থাকবে।”
সিরামিক ব্যবহারের আরেকটি সুবিধা হচ্ছে, এতে সঞ্চিত তথ্য ধরে রাখার জন্য কোনো বিদ্যুৎ বা রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হয় না। এ প্রযুক্তির পরিধি বাড়ানো গেলে কেবল একটি ‘এ৪’ সাইজের কাগজে দুই টেরাবাইটেরও বেশি তথ্য এঁটে যাওয়া সম্ভব।
গবেষকরা বলেছেন, তারা এখন এ খোদাই পদ্ধতি ব্যবহার করে ভিন্ন ধরনের ডেটা স্টোরেজ কৌশল কাজ করবে কি না তা নিয়ে গবেষণার পরিকল্পনা করছেন।
ড. কার্নবাওয়ার বলেছেন, “আমাদের লক্ষ্য এখন অন্যান্য উপাদান ব্যবহার করা, তথ্য লেখার গতি বাড়ানো ও বড় পরিসরে উৎপাদনের প্রক্রিয়া তৈরি করা। যাতে সিরামিক ডেটা স্টোরেজ কেবল গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ না থেকে শিল্পক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যায়।
“একইসঙ্গে আমরা খতিয়ে দেখছি কীভাবে সাধারণ কিউআর কোডের চেয়েও জটিল ডেটা কাঠামোগুলো দ্রুত, শক্তিশালী ও সাশ্রয়ীভাবে সিরামিকের পাতলা স্তরে লেখা এবং নির্ভুলভাবে পড়া যায়।”