বিষণ্ণতায় ভাল স্মৃতি মনে করাতে পারে ‘সুগন্ধ থেরাপি’: গবেষণা

এক অনন্য উপায়ে বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্মৃতি মনে করানোর জন্য বিশেষ পরিচিতি আছে ঘ্রাণশক্তির, যেখানে অন্য উদ্দীপকেরও প্রয়োজন পড়ে না।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 20 Feb 2024, 12:20 PM
Updated : 20 Feb 2024, 12:20 PM

বিষণ্ণতায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রায়ই তাদের জীবনের বিভিন্ন স্মৃতি মনে রাখতে পারেন না। যেমন- বন্ধুদের সঙ্গে ডিনার পার্টি বা প্রিয় কফি শপের স্মৃতি। তবে, এর বিকল্প সম্ভবত মিলছে এতোদিনে।

ছোট পরিসরে করা নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিষণ্ণ বা হতাশাগ্রস্থ ব্যক্তির জীবনের সেইসব ‘আত্মজীবনীমূলক স্মৃতি’ মনে করিয়ে দিতে সহায়ক হতে পারে ‘সেন্ট থেরাপি’।

মঙ্গলবার এ সংশ্লিষ্ট গবেষণাপত্রটি প্রকাশ পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘জামা নেটওয়ার্ক ওপেন’ জার্নালে, যেখানে গুরুতর বিষণ্ণতায় আক্রান্ত ৩২ জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির চালানো গবেষণায় তাদের স্মৃতি মনে করানোর জন্য সুগন্ধী হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল কফি, কমলালেবু ও ভিকস ভ্যাপোরাব।

এর আগের বিভিন্ন গবেষণাতেও একই ধরনের মেমরি টেস্ট চালানো হয়েছিল, তবে সেইসব ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীর ‘কিউ’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে শব্দ ও ছবি। তবে নতুন গবেষণায় শব্দের পরিবর্তে সুগন্ধি ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা দেখতে চেয়েছেন, এটি মানুষের ‘আত্মজীবনীমূলক স্মৃতি’ মনে করাতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে কি না।

গবেষকরা পরীক্ষায় দেখতে পান, শব্দের তুলনায় গন্ধ থেকেই বেশি স্মৃতি মনে পড়ে অংশগ্রহণকারীদের।

‘ইউনিভার্সিটি অফ পিটসবার্গ’-এর মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও এ গবেষণার লেখক কিম্বারলি ইয়ং বলেছেন, “এটা আমার কাছে অবাক করার মতো বিষয় যে, কেউ এর আগে বিষণ্ণ ব্যক্তির স্মৃতি মনে করানোর বিষয়টিতে মনোযোগ দেওয়ার কথা ভাবেননি।”

এক অনন্য উপায়ে বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্মৃতি মনে করানোর জন্য বিশেষ পরিচিতি আছে ঘ্রাণশক্তির, যেখানে অন্য উদ্দীপকেরও প্রয়োজন পড়ে না।

“ঘ্রাণতন্ত্র মানবদেহের একমাত্র সংবেদনশীল সিস্টেম, যা মস্তিষ্কের বিভিন্ন ‘মেমরি সেন্টার’ ও ‘ইমোশনাল সেন্টার’-এ সরাসরি প্রবেশ করতে পারে,” মার্কিন গণমাধ্যম এনবিসি নিউজ’কে বলেন ‘ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া’র ‘নিউরোবায়োলজি ও বিহেভিয়ার’ বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মাইকেল লিওন আরভিন। তবে তিনি এ গবেষণার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।

“আর সেই স্মৃতির রাজ্যে পৌঁছাতে বিকল্প পথ খুঁজতে হয় দেহের অন্যান্য ইন্দ্রীয়কে।”

তাই তাত্ত্বিকভাবে গন্ধ ব্যবহার করে বিষণ্ণতায় আক্রান্ত ব্যক্তির মস্তিষ্কের বিভিন্ন ‘ইমোশনাল সেন্টার’ থেকে সেইসব স্মৃতি ফেরানো যেতে পারে, যা তার বিষন্নতা ভোলানোর জন্য সহায়ক হবে।

“স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে পারলে আমাদের সমস্যা সমাধান, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এমনকি অন্যান্য ত্রুটিও উন্নত হতে পারে, যেগুলো বিষণ্ণ ব্যক্তিরা প্রায়শই অনুভব করেন,” বলেছেন ইয়াং।

এর কারণ হিসেবে গবেষকরা বলছেন, স্মৃতির কথা এলে, বিষণ্ণতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বিভিন্ন আবেগজনিত ঘটনাকে পক্ষপাতমূলকভাবে একই কাতারে নিয়ে আসার প্রবণতা দেখা যায়। উদাহরণ হিসেবে ধরা যায়, কারও ‘কলেজে কাটানো সময়’কে একটি ক্যাটেগরিতে নিয়ে আসা।

এই ‘মেমোরি বায়াস’ কোনো ব্যক্তিকে নেতিবাচক চিন্তাভাবনার প্যাটার্নে আটকে রাখে, যা ভাঙা কঠিন। উদাহরণ হিসেবে ধরা যায়, ‘আমি একজন ব্যর্থ মানুষ’ এমন নেতিবাচক ধারণা।

এই গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদেরক একটি কাঁচের জার থেকে ২৪টি গন্ধের নমুনা শুঁকতে বা  কোনো শব্দ শোনার পর সেইসব গন্ধ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল ল্যাভেন্ডার, জিরা, হুইস্কি, কাশির সিরাপ ও জুতার পালিশ’সহ আরও অনেক কিছুই।