০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

ন্যানো ব্যানানা: অদ্ভুতুরে এ নামটি কী করে এল?

গুগল বর্তমানে একে ‘ন্যানো ব্যানানা প্রো’ বা ‘ন্যানো ব্যানানা ২’ বলেও ডাকছে। তবে শুরুতে এমন নামকরণের কোনো পরিকল্পনা ছিল না।

ন্যানো ব্যানানা: অদ্ভুতুরে এ নামটি কী করে এল?
গুগল জেমিনাই এআই ইমেজ জেনারেটরের অফিশিয়াল নাম কারিগরি নথিতে ‘জেমিনাই ৩ প্রো ইমেজ প্রিভিউ’, যা দিয়ে বাস্তবসম্মত ছবি তৈরি করা যায়। ছবি: এআই দিয়ে বানানো

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Apr 2026, 10:41 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:25 PM

এআই পণ্যের নামকরণ অনেকটা ‘ভাগ্যের খেলা’র মতো। কিছু নাম দেখে মনে হয় মাসের পর মাস গবেষণাগারে ঘষামাজা করে রাখা হয়েছে আবার কিছু নাম মনে হয় হুট করে কোনো টুপি থেকে তুলে আনা।

অ্যানথ্রপিকের ক্লড মডেলের নামটিতে বেশ আভিজাত্য রয়েছে, গুগলের এআই মডেল জেমিনাই নামটিও মন্দ না। অন্যদিকে, ওপেনএআইয়ের এআই মডেল চ্যাটজিপিটি নাম হিসেবে বেশ বাজে। তবে সবখানে ছড়িয়ে পড়ার কারণে মানুষ এ নামে অভ্যস্ত হয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট স্ল্যাশগিয়ার।

গুগল জেমিনাই এআই ইমেজ জেনারেটরের অফিশিয়াল নাম কারিগরি নথিতে ‘জেমিনাই ৩ প্রো ইমেজ প্রিভিউ’, যা দিয়ে বাস্তবসম্মত ছবি তৈরি করা যায়।

তবে এ টুলের আরেকটি নাম ‘ন্যানো ব্যানানা’, যা একইসঙ্গে বেশ অদ্ভুত ও কৌতূহল জাগানিয়া নাম। গুগল বর্তমানে একে ‘ন্যানো ব্যানানা প্রো’ বা ‘ন্যানো ব্যানানা ২’ বলেও ডাকছে। তবে শুরুতে এমন নামকরণের কোনো পরিকল্পনা ছিল না।

‘ন্যানো ব্যানানা প্রো’ নামটি এত অদ্ভুত হওয়ার কারণ এ মডেলটিকে কখনোই সিরিয়াসলি নেওয়ার কথা ছিল না। ‘এরিনাডটএআই’ নামের প্ল্যাটফর্মে এআই সিস্টেমগুলোকে যখন বেনামে পরীক্ষা চালানো হচ্ছিল তখন একটি সাময়িক কোডনেইমের প্রয়োজন পড়ে।

শেষ মুহূর্তে প্রোডাক্ট ম্যানেজার নয়না রাইসিংঘানিকে হুট করে একটি নাম দিতে বলা হলে তিনি ‘ন্যানো ব্যানানা’ নামটি প্রস্তাব করেন।

নামটি আসলে রাইসিংঘানির নিজের দুটি ডাকনামের সংমিশ্রণ। গুগলের ব্লগে রাইসিংঘানি লিখেছেন, “আমার কিছু বন্ধু আমাকে ‘নয়না ব্যানানা’ বলে ডাকে, আর অন্যরা আমাকে ‘ন্যানো’ বলে ডাকে। কারণ আমার উচ্চতা কম ও আমি কম্পিউটার পছন্দ করি। আমি স্রেফ আমার দুটি ডাকনামকে একসঙ্গে জুড়ে দিয়েছি।”

‘ন্যানো ব্যানানা’ নামটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ‘এরিনা ডটএআই’ প্ল্যাটফর্মে গুগল তাদের এ টুলের পরিচয় গোপন রাখার চেষ্টা করলেও অনেকে আঁচ করতে পেরেছিলেন যে এই উন্নত মানের ইমেজ জেনারেশন টুলটি গুগলেরই তৈরি।

টুলটি প্রথম আপলোড করা হয়েছিল ২০২৫ সালের ১২ অগাস্ট। কেবল কয়েক দিনের মধ্যেই ব্যবহারকারীরা এআই দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করতে শুরু করেন।

এক সপ্তাহ জল্পনা-কল্পনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দুটি পোস্ট ব্যবহারকারীদের সন্দেহকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

গুগল এআই স্টুডিওর প্রোডাক্ট লিড লোগান কিলপ্যাট্রিক একটি কলার ইমোজি পোস্ট করেন এবং নামটির নেপথ্যে থাকা নয়না রাইসিংঘানি দেয়ালে টেপ দিয়ে আটকানো এক কলার ছবি শেয়ার করেছেন।

অবশেষে ২০২৫ সালের ২৬ অগাস্ট ‘ন্যানো ব্যানানা’ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে এবং জনপ্রিয়তায় চ্যাটজিপিটি’কে ছাড়িয়ে যায়।

প্রযুক্তির জগতে ফলের নামে পণ্যের নাম রাখা নতুন কিছু নয়। অ্যাপল, ব্ল্যাকবেরি বা র‍্যাস্পবেরি পাই-এর নাম আমরা সবাই জানি। চাইলে ‘ব্যানানাফোন’ নামের কলা আকৃতির এক ব্লুটুথ হেডসেটও কেনা যায়, যা স্মার্টফোনের সঙ্গে যোগ করা যাবে।

২০১৯ সালের এক গবেষণা পত্রে ‘ব্যানানাস’ নামের এক অ্যালগরিদমের কথাও উল্লেখ আছে, যার পূর্ণরূপ হচ্ছে ‘বেসিয়ান অপ্টিমাইজেশন উইথ নিউরাল আর্কিটেকচারস ফর নিউরাল আর্কিটেকচার সার্চ’। নামটি মেলাতে তারা যে কষ্ট করেছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

বড় বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানি এখনও ফলের নাম ব্যবহার করতে পছন্দ করে। যেমন, ওপেনএআই তাদের ‘ও১’ মডেলটি তৈরির সময় অভ্যন্তরীণভাবে ‘স্ট্রবেরি’ কোডনেইম ব্যবহার করেছিল। মেটা বর্তমানে ‘অ্যাভোকাডো’ কোডনেইমের এক এআই মডেল নিয়ে কাজ করছে।

‘ন্যানো ব্যানানা’ হয়ত অফিসিয়াল নাম হওয়ার কথা ছিল না তবে মানুষ তা পছন্দ করায় নামটা টিঁকে যায়। বড় কোম্পানিগুলো তাদের ব্র্যান্ডের নাম মানুষের মনে গেঁথে দিতে কোটি কোটি অর্থ খরচ করে, অথচ গুগল ভাগ্যক্রমে খুব সহজেই সে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

মডেলটি সবার নজরও কেড়েছে, আর এর অদ্ভুত কোডনেইমটি মানুষের মনে গেঁথে গেছে। এক্ষেত্রে গুগলও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছে। তারা কোনো ‘কমিটি-অনুমোদিত’ গতানুগতিক নাম দিয়ে এ মজার নামটিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেনি।