‘ক্রিপ্টোজু এনএফটি’ চালু হওয়ার পর এর আর্থিক মূল্য কমেছে প্রায় ৩৭ শতাংশ। এর অর্থ হলো, ভক্তরা এ রিফান্ডের পরও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন।
Published : 08 Jan 2024, 02:12 PM
ক্রিপ্টোমুদ্রানির্ভর একটি গেইম এনেছিলেন মার্কিন ইনফ্লুয়েন্সার লোগান পল। ব্যার্থ ওই গেইমে অর্থ ঢেলে লোকসানের মুখে পড়া ভক্তদের কাছ থেকে এনএফটি কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন তিনি।
২০২১ সালে ‘ক্রিপ্টোজু’ নামের গেইম আনার ঘোষণা দিয়েছিলেন আলোচিত এ ইউটিউব তারকা। তবে, ভক্তরা গেইম টোকেনের পেছনে লাখ লাখ ডলার খরচ করলেও তা কখনোই বাস্তবায়িত হয়নি।
২৮ বছর বয়সী পল এখন বলছেন তিনি নিজেই এ টোকেনগুলো কিনে নেবেন, তবে শর্ত হচ্ছে তার বিরুদ্ধে মামলা করার পথে না যাওয়ার প্রতিশ্রুতি যদি মেলে।
তবে, ভক্তদের সকল অর্থ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
‘ক্রিপ্টোজু’ এমন এক গেইম হওয়ার কথা ছিল, যেখানে গ্রাহক ক্রিপ্টোমুদ্রার মাধ্যমে ভার্চুয়াল প্রাণী কেনাবেচা ও প্রজননের সুবিধা পেতেন।
সে সময়ে পল মানুষকে ‘ক্রিপ্টোকারেন্সি কালেক্টেবল’ কেনার জন্য উৎসাহিত করেছেন। আর একে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন এমন ‘মজাদার গেইম’ হিসেবে, যেখানে আর্থিক আয়ের সুযোগ মেলে।
তবে, কয়েক লাখ ডলার মূল্যের এনএফটি ও ক্রিপ্টো কয়েন বিক্রি করার পরে তিনি ‘ক্রিপ্টোজু’ সম্পর্কে কথা বলা বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি প্রকল্পটিকে এক প্রকার বানচাল করে দেন বলে উঠে এসেছে বিবিসির প্রতিবেদনে।
২০২২ সালে ‘কফিজিলা’ নামের আরেক ইউটিউবার এ প্রকল্প সম্পর্কে তদন্ত করে ভিডিও সিরিজ প্রকাশ করলে পল ক্ষমা চেয়ে বলেন তিনি ‘এটি ঠিক করতে’ চান।
ওই ঘটনার এক বছর পর এখন বাই-ব্যাক প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি, যেখানে খরচ হতে পারে ২৩ লাখ ডলারের মতো।
প্রতি এনএফটি কেনার জন্য তিনি গ্রাহকদের ‘০.১ ইথার’ করে ফেরত দেবেন, যেটিও একটি ক্রিপ্টোমুদ্রা।
এনএফটিগুলো ০.১ ইথারে বিক্রি হয়েছিল ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে।
তবে, ‘ক্রিপ্টোজু এনএফটি’ চালু হওয়ার পর এর আর্থিক মূল্য কমেছে প্রায় ৩৭ শতাংশ। এর অর্থ হলো, ভক্তরা এ রিফান্ডের পরও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে পল লেখেন, “যারা আসলেই ক্রিপ্টোজু খেলতে চেয়েছিলে তাদের পরিপূর্ণ করার উদ্দেশ্যেই আমার এই বাই-ব্যাক। যারা ক্রিপ্টো মার্কেটে জুয়া খেলে হেরেছে তাদের ক্ষতিপূরণের জন্য নয়।”
তিনি আরও যোগ করেন, একে ‘বিনিয়োগের বাহন’ হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্য নেই তার।
এনএফটি কেনা ভক্তরা রিফান্ড গ্রহণের সুযোগ পাবেন ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ পর্যন্ত। আর এটি করার শর্ত হচ্ছে, লোগান পল বা ‘ক্রিপ্টোজু’-এর সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোন আইনি দাবি করতে পারবেন না ভক্তরা।
এনএফটি’র পেছনে ৪০ হাজার ডলার খরচ করা এক বিনিয়োগকারী গত বছর বিবিসিকে বলেছিনে, তিনি রিফান্ড নিতে আগ্রহী নন। তিনি চান, এই বহুল আলোচিত গেইম ও এনএফটিগুলো এর বহুল প্রচারিত সম্ভাবনা পূরণ করে তা নিশ্চিত করতে লোগান পল যেন প্রকল্পটি সম্পূর্ণ করেন।
“এটা যত বড় হতে পারত, আমার মনে হয় না ততটা হবে, প্রতিষ্ঠাতারা বিনিয়োগকারীদের যে প্রতিশ্রুতি দেন সেটি যেন তারা করবেন– সেটা গুরুত্বপূর্ণ” – বলেছিলেন ৩৫ বছর বয়সী ওই বিনিয়োগকারী।
এর আগে ২০২১ সালের জুনে পল ক্রিপ্টোকারেন্সি কয়েক ‘ডিঙ্ক ডইঙ্ক’-এর প্রচার করেন, যার মূল্য ক্রমশ কমে এখন ‘মূল্যহীন’ হয়ে পড়েছে। তিনি পরবর্তীতে নিউ ইয়র্ক টাইমস-কে বলেছিলেন যে মুদ্রাটি তৈরিতে সহায়তা করা ও ক্রিপ্টোকারেন্সিতে তার আর্থিক অংশীদারিত্বের বিষয়টি খোলাসা না করেই এ প্রচারণা চালানোয় তিনি অনুতপ্ত।
“আমি অবশ্যই ততটা দায়িত্বশীল আচরণ করিনি যতটা করা উচিত ছিল।”
ক্রিপ্টোজু কেস ‘তুলনামূলকভাবে নতুন এবং অনিয়ন্ত্রিত বাজারে বিনিয়োগের ঝুঁকিকে তুলে ধরে’, বলেছেন আইনি সংগঠন রহমান রাভেলি’র পার্টনার সাইদুর রহমান, যার অভিজ্ঞতা রয়েছে ক্রিপ্টো জালিয়াতি মামলা নিয়ে৷
তবে, হাই-প্রোফাইল মামলাগুলো সামগ্রিকভাবে ক্রিপ্টোকারেন্সির সুনামের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে, এমনটি রহমান মনে করেন না বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি। কিন্তু তিনি বলেছেন, মামলাগুলো এ বিষয়ে আরও আইনী কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার কথা জানান দেয়।
দেশ ভেদে নিয়মের মাত্রা ভিন্ন হলেও, রহমান বলেন, ভোক্তাদের ‘এনএফটি কেনা বেচা বা এই ধরনের জিনিসের অধিকার থাকতেই পারে’।
তিনি আরও বলেছেন যে, ভোক্তারা তাদের প্রাথমিক খরচ ফেরত পাওয়ার জন্য মামলা-মোকদ্দমার মধ্য দিয়ে যেতে চান কি না তা নির্ভর করে তারা প্রাথমিকভাবে কতটা বিনিয়োগ করেছিলেন তার ওপর।
“এর কারণ হচ্ছে, আদালতে যাওয়ার খরচ এবং ঝামেলা তাদের ফেরত পাওয়া অর্থের চেয়েও বেশি হতে পারে।”