Published : 21 Jul 2023, 12:35 AM
শেয়ারের বেঁধে দেওয়া সর্বনিম্ন দর বা ফ্লোর প্রাইসের বিপক্ষে এক অনুষ্ঠানে মত দিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। তবে সেই অনুষ্ঠানেই পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেছেন, ‘বাজারের স্বার্থেই’ এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে ‘ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবেলাইজেশন ফান্ড (সিএমএসএফ)’ আয়োজিত ‘সিএমএসএফের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো’ শীর্ষক সেমিনারে তারা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।
ফরাসউদ্দিন বলেন, “পুঁজিবাজার বড় হচ্ছে, পুঁজিবাজারকে স্বাভাবিক গতিতে চলতে দেওয়া উচিৎ। শেয়ার দরে কখনও উত্থান হবে, আবার পতন হবে। এটিকে মুক্তভাবে উঠানামা করতে দিতে হবে। কৃত্রিমভাবে কোনো সীমা ঠিক করে দিয়ে শেয়ারের দাম উঠা-নামা নিয়ন্ত্রণ করা উচিৎ নয়।”
নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, “আমাদের অর্থনীতি আগের চেয়ে বেশি উন্মুক্ত হয়েছে, বড় হয়েছে। এজন্য ঝুঁকিও বেশি হবে। সিএমএসএফের এর উদ্দেশ্য হচ্ছে ঝুঁকি কমিয়ে আনা।”
ফরাসউদ্দিনের বক্তব্যর পরে ফ্লোর প্রাইসের বিষয়ে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত।
তিনি বলেন, “বাজারের স্বার্থে অনেক কিছুই আমাদের করতে হয়, যা আমাদের অপছন্দ হলেও। আমাদের প্রধান কাজ হলো পুঁজির নিরাপত্তা।”
ইউক্রেইন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ‘বাধ্য হয়ে’ ফ্লোর প্রাইস দিতে হয়েছে উল্লেখ করে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, “অস্বাভাবিক সময়ে তো বাজার ব্যবস্থাপনায় আমাদের অনেক পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। অনেকটা বাধ্য হয়েই নিতে হয়, যদিও তা আমরা পছন্দ করছি না।
“ (ফ্লোর প্রাইস) তুলে দিয়ে অনেককে সম্পদ লুণ্ঠন করতে সহায়তা করব, অর্থ নিয়ে চলে যেতে দিব নাকি বিনিয়োগকারীদের পুঁজির নিরাপত্তা দেখব? আপনারাই সিদ্ধান্ত নেন।”
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত যেসব কোম্পানি অবণ্টিত লভ্যাংশ সিএমএসএফে জমা দেয়নি- এমন কোম্পানির নিরীক্ষা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, নিরীক্ষা শেষ হলেই যারা অর্থ জমা দেয়নি, তাদের জরিমানা করবে বিএসইসি।
সিএমএসএফ চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, “এ তহবিল থেকে ২২৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে পুঁজিবাজারে। প্রথম বছর ১১ কোটি টাকা মুনাফা যোগ হয়েছে তহবিলে। এ বছর আরও বেশি আসবে বলে আশা করছি।
“আমরা এখনও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিনিয়োগ করছি। এর পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা চলছে। কেউ যদি কোনও ফান্ডে বিনিয়োগ করেন, তাহলে সমপরিমাণ অর্থ সিএমএসএফ তহবিল থেকেও বিনিয়োগ করা হবে আগ্রহী ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে।”
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, “পুঁজিবাজার নিয়ে অনেক কথা বার্তা রয়েছে বাজারে। আমরা মনে করি, পুঁজিবাজারকে আরও সামনে নিয়ে যেতে হবে। এখান থেকেই দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন হতে হবে শিল্পের জন্য।”
ফ্লোর প্রাইস নিয়ে যা হয়েছে
২০২০ সালের ৮ মার্চে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়লে পুঁজিবাজারে যে ধস নামে, সে সময় ১৯ মার্চ বিএসইসি প্রথমবারের মত ‘ফ্লোর প্রাইস’ আরোপ করে। সে সময় এই উদ্যোগ সফলও হয়েছিল।
৬৬ কর্মদিবস সাধারণ ছুটি শেষে ২০২০ সালের মে মাস থেকে পুঁজিবাজার উত্থানে ফেরে। ২০২১ সালের ৭ এপ্রিল প্রথমবারের মত ৬৬টি কোম্পানির ‘ফ্লোর প্রাইস’ প্রত্যাহার করে একদিনে সেগুলোর দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা ২ শতাংশ করা হয়।
দ্বিতীয় ধাপে ৩ জুন প্রত্যাহার করা হয় আরও ৩০টি কোম্পানির ‘ফ্লোর’। এই ৯৬টি কোম্পানির চিত্র পর্যালোচনা করে ১৭ জুন ফ্লোর প্রাইস পুরোপুরি তুলে দেওয়া হয়।
ইউক্রেইন যুদ্ধ শুরুর পর ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে পুঁজিবাজারে যে দরপতন দেখা দেয়, তার মধ্যে গত ২৮ জুলাই ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্ম নেমে আসে ছয় হাজার পয়েন্টের নিচে। সেদিনই সব কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস আরোপ করে তা ৩১ জুলাই থেকে কার্যকরের ঘোষণা দেওয়া হয়।
‘মূল বাজারে’ ফ্লোর প্রাইসের নিচে শেয়ার বেচা না গেলেও ‘ব্লক মার্কেটে’ ১০ শতাংশ ছাড়ে বিক্রি করা যায়। তবে এই সুবিধা নিতে পারেন কেবল বড় বিনিয়োগকারীরা। কারণ সেখানে একবারে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করতে হয়।