Published : 14 Jul 2025, 07:05 PM
সপ্তাহখানেক ধরে পুঁজিবাজারের সূচক ও লেনদেন আগের চেয়ে বাড়ার বিষয়টি সামনে এনে আস্থা ফেরার কথা বললেও ভবিষ্যতে সংকটের শঙ্কার কথাও এসেছে ঢাকায় আয়োজিত এক কর্মশালায়।
সেখানে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম গত দেড় বছর ধরে নতুন কোনো কোম্পানি তালিকাভুক্ত না হওয়ায় সামনে এক বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারে আরেকটি ‘বাবল (বুদবুদ)’ তৈরি হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন।
সোমবার ঢাকার পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে ‘ক্যাপিটাল মার্কেট পুনর্গঠন ও বাস্তবতা’ শীর্ষক কর্মশালায় ডিবিএ সভাপতি বলেন, ‘‘গত দেড় বছর ধরে শেয়ার সরবরাহ না থাকায় ভবিষ্যতে সংকট তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।
“আগামীর বাবলকে রুখতে অবশ্যই ভাল মানের শেয়ারের যোগান বাড়াতে হবে, যা একেবারেই বন্ধ রয়েছে।’’
বিগত সময়ে রাজনৈতিকভাবে ও নানাভাবে নিম্নমানের কোম্পানি তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান সাইফুল ইসলাম।
সপ্তাহখানেক ধরে পূঁজিবাজারের সূচক ও লেনদেন আগের চেয়ে বাড়ছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন আলোচকরা।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, “পুঁজিবাজার পুনর্জাগরণ করতে হলে পুনর্গঠন জরুরি। এক বছরের মধ্যে বাজারে অন্তত ১০টি প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) আনার লক্ষ্য নিয়ে ডিএসই কাজ করছে।’’
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুরোপুরি না ফিরলে পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে না বলে মন্তব্য করেন আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান এ কে এম হাবিবুর রহমান।
কর্মশালায় অতিথি হয়ে আসা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আশ্বস্ত করে বলেছেন, “বিএনপি ক্ষমতায় আসলে বাংলাদেশ ব্যাংক, পুঁজিবাজারসহ আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থায় কোনো রাজনৈতিক নিয়োগ দেবে না।’’
তিনি দাবি করেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময়ে ব্যাংক ও পুঁজিবাজারে কোনো কেলেঙ্কারি হয়নি।
আমীর খসরুর মতে, আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোতে হস্তক্ষেপ করলে ও রাজনৈতিক নিয়োগ হলে সমস্যা চলতেই থাকবে।
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এ ধরনের হস্তক্ষেপ ও নিয়োগ করবে না আশ্বস্ত করেছেন সাবেক এ বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, এ রকম কিছু না করায় বিএনপির সময়ে ব্যাংক খাতে কোনো সমস্যা হয়নি।
মানুষের আর্থিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে রাজনীতির মত অর্থনীতিকেও গণতান্ত্রিক করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর অতিনিয়ন্ত্রণ ও শক্তিশালী স্বনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় বাজারের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।”
পুঁজিবাজারের বিকাশ শুধু কয়েকটি ভালো কোম্পানিকে প্রাথমিক আইপিও দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বলে মনে করেন বিএনপির এই নেতা।
এক প্রশ্নে আমীর খসরু বলেন, “দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে মৌলিক পরিবর্তন না এলে বড় ধরনের কোনো সংস্কার সম্ভব নয়।”
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে অর্থনীতি ও পুঁজিবাজারকে আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব থাকায় পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ আসছে না বলেও মন্তব্য করেন আমীর খসরু।
বিনিয়োগকারীদের আস্থায় আনতে পুঁজিবাজার পুনর্গঠনে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংস্কারের কার্যক্রমকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, টেকসই বাজারের স্বার্থে বাস্তবভিত্তিক পুনর্গঠন জরুরি।
“শুধু কর সুবিধা দিয়ে পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তি আকর্ষণীয় করা সম্ভব নয়।”
ইআরএফ ও ডিবিএ আয়োজিত এ কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন ডিএসই পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন ও ক্যাপিটাল মার্কেট জানার্লিস্ট ফোরামের (সিএমজেএফ) সভাপতি গোলাম সামদানী ভূঁইয়া।