১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গোয়েন্দা নজরে পুঁজিবাজারের এক প্রতারক চক্র: ডিএসই

“ডিএসইর নাম, লোগো ও অফিস ঠিকানা ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে তারা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল।”

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Aug 2025, 04:18 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:11 PM

‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ তথ্য দিয়ে প্রলোভন দেখিয়ে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার একটি চক্রকে গোয়েন্দা সংস্থা শনাক্ত করেছে বলে জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ।

ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আসাদুর রহমান বলেছেন, তাদের সহযোগিতা নিয়েই নারায়ণগঞ্জকেন্দ্রিক এ চক্রটিকে শনাক্ত করেছে গোয়েন্দা সংস্থা।

মঙ্গলবার ঢাকার পুরানা পল্টনে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, চক্রটি নিজেদের ‘ডিএসই অনুমোদিত ব্যক্তি’ পরিচয় দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতারণা চালিয়ে আসছে।

“ডিএসইর নাম, লোগো ও অফিস ঠিকানা ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে তারা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। শিগগিরই তারা আইনের আওতায় আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।’’

‘প্রতারক চক্রের আর্থিক প্রতারণা রোধে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা’ শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনে আসাদুর রহমান বলেন, “হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় প্রতারক চক্রকে গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারিতে আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে বিনিয়োগকারীদেরও সচেতন থাকতে হবে, কারণ অসতর্ক হলেই এ ধরনের প্রতারণার শিকার হতে হয়।”

দেশের দুই পুঁজিবাজার ডিএসই ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা সরাসরি কোনো বিনিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করে না জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত এমডি বলেন, “বিনিয়োগের একমাত্র বৈধ পথ হলো ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের অনুমোদিত স্টক ব্রোকার। এর বাইরে অন্য কোনো মাধ্যমে বিনিয়োগ করলে তা অবৈধ প্রতারণার ঝুঁকি তৈরি করে।”

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রতারণা করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করছে প্রতারক চক্রটি। তারা প্রথমে ‘ডিএসইর অনুমোদিত’ প্রতিনিধি দাবি করে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। নিজেদের বিশ্বাসযোগ্য দেখাতে কথিত বিনিয়োগের টাকা তারা নেয় ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে। 

বিনিয়োগকারীদের বেশি মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে তারা অল্প টাকা নেয়। শুরুতে চার হাজার টাকা নিয়ে দুই হাজার টাকা মুনাফা দেয়। পরে ধীরে ধীরে টাকার পরিমাণ বাড়তে থাকে। পরে ৪০ হাজার টাকা নিয়ে বলে টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে মুনাফা যাচ্ছে না।

সমস্যা সমাধানের জন্য তখন আরও ৪০ হাজার টাকা দাবি করে ওই চক্র। অর্থ পাঠানোর পরে প্রতারক চক্রটি নিজেদের মোবাইল বন্ধ করে দেয়। 

এ ধরনের প্রতারণা রোধে রাজধানীর খিলক্ষেত থানায় গত ৩ ও ২৬ অগাস্ট অভিযোগ করে ডিএসই। পাশাপাশি সব ব্রোকারেজ হাউসকে চিঠি দেওয়া হয়। 

প্রতারণার ফাঁদ থেকে বাঁচতে বিনিয়োগকারীদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি কেবল অনুমোদিত ব্রোকারদের মাধ্যমে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দিচ্ছে ডিএসই। সেজন্য ডিএসই ও সিএসসি’র ওয়েবসাইটে দেওয়া অনুমোদিত ব্রোকারদের তালিকা দেখতে বলা হয়েছে। 

ডিএসইর প্রধান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া ও উপ-মহাব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।