Published : 24 Mar 2026, 10:02 PM
চলমান ইরান যুদ্ধে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিভিন্ন ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছে মোবাইল ফোন কোম্পানি গ্রামীণফোন। এর প্রভাবে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে তাদের আয়ও ২ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে বলে আভাস দিয়েছে কোম্পানিটি।
পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে বিনিয়োগকারিদের এ তথ্য দিয়েছে। একই কারণে কোম্পানিটির করপূর্ববর্তী মুনাফা ৩ শতাংশ কমার আভাস দেওয়া হয়েছে।
এ হিসাবে জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে গ্রামীণফোনের আয় প্রায় ৭৭ কোটি টাকা এবং করপূর্ববর্তী মুনাফা ১৯ কোটি টাকা কমতে পারে।
২০২৫ সালের জানুয়ারি–মার্চ সময়ের অনিরীক্ষিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানিটির আয় ছিল ৩ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা। আর ওই সময়ে নিট মুনাফা হয় ৬৩৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।
ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এ বার্তায় মোবাইল ফোন অপারেটরটি বলছে, জ্বালানি সংকটে বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এতে দেশের সার্বিক বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের পরিসর সংকুচিত হতে পারে।
টেলিযোগাযোগ খাতের এ কোম্পানি প্রথমবারের মত বিনিয়োগকারীদের নিজেদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আগাম বার্তা দিলে।
গ্রামীণফোন মনে করে, যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাঘাতসহ আরও কিছু কারণে সার্বিক ব্যবসা বাণিজ্যের পরিচালনা খরচও বেড়ে যেতে পারে। মানুষের চলাচল কমে যাবে। তাতে আয় কমে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে তাদেরও।
বিনিয়োগকারীদের যেকোনো বিষয়ে আগাম ধারণা দেওয়া বিশ্বব্যাপী বড় কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে উত্তম চর্চার অংশ হিসেবে এ ধরনের পূর্বাভাস প্রকাশ করার কথা বলেছে গ্রামীণফোন।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে সম্ভ্যাব্য বাড়তি খরচে যতটা সম্ভব লাগাম টানার উদ্যোগ থাকার কথা তুলে ধরে কোম্পানিটি বলেছে, এ সংকট দেশের জ্বালানি খাত ও অর্থনীতিকে অনেকটা চাপে ফেলেছে। চলমান মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করেছে। এর ফলে বাংলাদেশের আমদানিনির্ভর জ্বালানি পরিস্থিতিও চাপে পড়েছে। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আমদানি ব্যয় বেড়ে যেতে পারে যদিও এখনো সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল রয়েছে।