Published : 25 Jan 2025, 10:07 PM
দৈনিক লেনদেনের সময় ৪৫ মিনিট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ‘অন্যদের অনুরোধে’ এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)।
রোববার থেকে লেনদেন সময় ৩০ মিনিট এগিয়ে সকাল সাড়ে ৯টায় আনার সিদ্ধান্ত ছিল। তাতে লেনদেন শেষ করার কথা বিকাল পৌনে ৩টায়। বর্তমানে লেনদেন চলে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত।
নতুন সময় নির্ধারণ করে অধীন ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানকে গত বুধবার চিঠিও দেয় সিএসই।
সিএসই ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
“রোববার থেকে আগের নিয়মে লেনদেন করা হবে। অন্যরা অনুরোধ করেছে বিএসইসির কাছে, তাই আমরা এক সপ্তাহ অপেক্ষা করব।"
তার ভাষ্য, “দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) চাইলে লেনদেনের সময় এগিয়ে আনতে পারে।”
তবে ডিএসই লেনদেনের সময়ে কোনো পরিবর্তন আনেনি।
এর আগে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে একীভূত করার প্রস্তাব দেন ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম। তার ওই প্রস্তাবের দুই সপ্তাহ পর লেনদেনের সময় বাড়ানোর পথে হাঁটে সিএসই।
কিন্তু দুই স্টক এক্সচেঞ্জে দুই সূচিতে লেনদেনে আপত্তি জানায় ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।
গত বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি বলে, ‘‘কোনো দেশে একই টাইম জোনে একাধিক স্টক এক্সচেঞ্জে পৃথক ট্রেডিং সময়সূচি থাকার বিষয়টি নজিরবিহীন ও চিন্তাবহির্ভূত।”
ডিএসই ও সিএসই উভয় এক্সচেঞ্জে একই সিকিউরিটিজ শেয়ার কেনা-বেচা করে। একই সময়ে ট্রেডিং শুরু হওয়ায় বিনিয়োগকারী উভয় এক্সচেঞ্জ যাচাই-বাছাই করে প্রতিযোগিতামূলক দরে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করতে পারেন।”
এই যুক্তি তুলে ধরে সংগঠনটি সিএসইর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানায়।
বর্তমানে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জ একই সময়ে লেনদেন শুরু ও সম্পন্ন করে। বেলা ১০টায় শুরু হয়ে চলে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত। শেষ ১০ মিনিট হয় পোস্ট ক্লোজিং।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সিএসই লেনদেন এগিয়ে সাড়ে ৯টায় শুরু করে চালাবে বেলা দুই টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত। শেষ ১০ মিনিট হবে পোস্ট ক্লোজিং সময়।
দেশের ব্যাংকিং সময়ের সঙ্গে সমন্বয় করে পুঁজিবাজারের লেনদেন সূচি তৈরি হয়ে আসছে। সাধারণ সময়ে ব্যাংক খোলে বেলা ১০টায়। এই সময়কেই হিসাব করে দুই স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন শুরু করার ইতিহাস।
কোনো বিনিয়োগকারী শেয়ার কিনতে গিয়ে অর্থ সংকটে ভুগলে তাৎক্ষণিক ব্যাংক থেকে টাকা তুলে শেয়ার কেনার সুযোগ দিতেই এই ব্যবস্থা।