‘সম্পর্কের টানাপোড়েন’ ভুলে রোনালদোকে প্রশংসায় ভাসালেন জেজুস
এই মহাতারকাকে পাশে চেয়েছিলেন, নিজেই জানালেন পর্তুগালের প্রধান কোচ।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে ‘মতবিরোধে জড়ালেও’, আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে তার অবসরের সিদ্ধান্ত নাড়া দিয়েছে জর্জে জেজুসকে। আবেগঘন বার্তায় পর্তুগালের প্রধান কোচ জানালেন, ফুটবলের মহাতারকাকে আরও কিছুদিন পাশে চেয়েছিলেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যমে বৃহস্পতিবার পাঁচ মিনিটের একটি ভিডিও দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন ৪১ বছর বয়সি রোনালদো। ফলে ওয়েলসের বিপক্ষে নেশন্স লিগের ম্যাচটাই পর্তুগালের জার্সিতে হয়ে থাকল তার শেষ ম্যাচ।
২০০৩ সালে ১৮ বছর বয়সে পর্তুগালের হয়ে শীর্ষ পর্যায়ে অভিষেক হয় রোনালদোর। এরপর দীর্ঘ পথচলায় তিনি গড়েন মহাকাব্যিক এক ক্যারিয়ার। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল করেছেন তিনি। ম্যাচ ও গোল- দুটোই পর্তুগালের সর্বোচ্চ তো বটেই, বিশ্ব রেকর্ডও। পর্তুগালের হয়ে ৪৫টি অ্যাসিস্টও করেছেন এই ফরোয়ার্ড।
দেশের প্রথম বড় শিরোপা- ২০১৬ ইউরো জয়ে অধিনায়ক ছিলেন রোনালদো। পরে দুটি নেশন্স লিগ জয়েও দেশকে নেতৃত্ব দেন তিনি।
দেশের জার্সিতে আরও খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল রোনালদোর। কিন্তু কোচ জেজুসের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে গত ফিফা উইন্ডোর মাঝপথে ক্যাম্প ছাড়ার পর বদলে যেতে থাকে সবকিছু। ওই ঘটনার পর, বিশাল এক বার্তায় কোচের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তোলেন তিনি।
ক্যাম্প ছাড়ার পর থেকেই জাতীয় দলে রোনালদোর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। নভেম্বরের উইন্ডোতে তিনি ডাক পাবেন কিনা তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলতে থাকে। সেই অপেক্ষা আর করলেন না তিনি। ইতি টেনে দিলেন সব আলোচনার।
ফুটবল আঙিনার সবার স্তুতির জোয়ারে ভাসছেন পর্তুগালের ইতিহাসের সেরা ফুটবলার। তার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন জেজুসও।
“ক্রিশ্চিয়ানো গ্লোবাল আইকন, পর্তুগাল ও জাতীয় দলের জন্য উদাহরণ। আমাদের অডিটোরিয়ামে তার একটি বিশাল ছবি ঝুলিয়ে রেখেছি, যাতে তরুণ খেলোয়াড়রা প্রতিদিন তাকে দেখতে পারে।
“আমি তাকে আমার সঙ্গে দলে থেকে যাওয়ার অনুরোধ করেছিলাম, কারণ তাকে আমার পাশে প্রয়োজন ছিল। তবে তার সিদ্ধান্ত আমাকে মেনে নিতে হবে।”
৭২ বছর বয়সি জেজুস বলেন, তাকে সারাজীবন স্মরণে রাখবে পর্তুগিজরা।
“পর্তুগিজ মানুষের হৃদয়ে তার জন্য সবসময়ই জায়গা থাকবে। সে চিরকাল পর্তুগিজ ফুটবলের আইকন হয়ে থাকবে।”
