২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ফুটবলের স্ট্রাইকার থেকে ভবিষ্যতে এনএফএলের ‘কিকার’ কেইন

আমেরিকান ফুটবলের জনপ্রিয় আসর ন্যাশনাল ফুটবল লিগে ‘কিকার’ হিসেবে খেলার ব্যাপারটি গুরুত্ব দিয়েই ভাবছেন ইংলিশ তারকা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 24 Sep 2026, 11:59 AM

Updated : 24 Sep 2026, 11:59 AM

ফুটবলের পর হ্যারি কেইনের সবচেয়ে ভালোবাসার খেলা গলফ। তবে ফুটবল ক্যারিয়ার শেষে অন্য খেলায় ক্যারিয়ার গড়ার ভাবনায় তিনি গলফকে রাখছেন না। বরং অনেকটা চমকেই দিলেন ইংলিশ অধিনায়ক। আমেরিকান ফুটবলের জনপ্রিয় আসর ন্যাশনাল ফুটবল লিগে ‘কিকার’ হিসেবে খেলার ব্যাপারটি গুরুত্ব দিয়েই ভাবছেন বলে জানালেন বিশ্ব ফুটবলের বড় তারকা।

ফুটবল ও রাগবি মিলিয়ে ভিন্ন ধরনের একটি খেলা এই আমেরিকান ফুটবল। সেখানে ‘ফুটবল’ বলতে মূলত এই খেলাকেই বোঝায়, প্রথাগত ফুটবলকে আমেরিকানরা সাধারণত বলে থাকেন ‘সকার।’ আমেরিকান ফুটবলের তুমুল জনপ্রিয় আসর এনএফএল (ন্যাশনাল ফুটবল লিগ)। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় পেশাদার খেলাধুলায় সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় লিগগুলোর একটি এই এনএফএল।

সেই খেলার প্রতি অনুরাগের কথা এবার খোলাসা করলেন কেইন। যদিও প্রথম ভালোবাসা ফুটবলেই তিনি বুঁদ আছেন এখনও এবং খেলে যেতে চান আরও অনেক দিন। তবে ইংল্যান্ডের হয়ে নেশন্স লিগ অভিযান শুরুর আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ৩৩ বছর বয়সী তারকা শোনালেন তার সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের গল্প।

“এটা (এনএফএলে খেলা) এমন একটা ব্যাপার, যা আমি আরেকটু গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার চেষ্টা করব। অবশ্য সবকিছু নির্ভর করছে আগামী পাঁচ-ছয় বছরে আমার ক্যারিয়ারে কী ঘটে, আমার অনুপ্রেরণা কেমন এবং আমি কী করতে চাই, এসবের ওপর।

এভাবে বলা যেতে পারে, গলফের চেয়ে এনএফএল আমার জন্য অনেক বেশি বাস্তবসম্মত।”

এনএফএলের দল নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের বিরাট ভক্ত কেইন। তবে তার জন্য বড় প্রেরণা হতে পারেন ডালাস কাউবয়েজের ব্র্যান্ডন অব্রি। এনএফএলের সেরা কিকার বলে বিবেচিত এই তারকা আগে ফুটবল খেলেছেন এবং মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) দল টরন্টো এফসিতেও ছিলেন। কেইনের সাবেক ক্লাব টটেনহ্যাম হটস্পারের সাবেক ফরোয়ার্ড ক্লাইভ অ্যালেন খেলেছেন এনএফএল ইউরোপে।

কেইনের ধারণা, ফুটবলে পেনাল্টিতে তার দক্ষতার কারণেই এনএফএলে ‘কিকার’ হিসেবে তিনি সফল হতে পারেন। তবে বলা যতটা সহজ, কাজটা আদতে কঠিন, সেই বাস্তবতাও তার জানা আছে।

“ফুটবলে আমি নিয়মিত পেনাল্টি নিয়ে থাকি এবং এতে প্রায় একই রকম চাপ ও কৌশল লাগে। আমি যদি এটা করতাম, অনুশীলনের দিক থেকে অন্য যেকোনো খেলার চেয়ে এর বেশি কাছাকাছি থাকতাম আমি।

তবে এটাও জানি, সব সেরা খেলার ক্ষেত্রেই টিভিতে দেখে যতটা সহজ মনে হয়, অনেকেরই মনে হয় যে সহজেই এটি সম্ভব, কিন্তু সবসময় তা সহজ হয় না। আমি যদি এটা সত্যিই করি, তবে সেটিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েই নেব। এর আগে হয়তো ছয় মাস থেকে এক বছর অনুশীলন করার চেষ্টা করব।”

এনএফএলের কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে এখনও আলোচনা হয়নি এবং অদূর ভবিষ্যতে সেই সম্ভাবনা নেই বলেও নিশ্চিত করলেন কেইন। তবে ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের অধ্যায় শেষে মেজর লিগ সকারে পাড়ি জমালে তখন এনএফএলে খেলার বাস্তব সম্ভাবনাও তৈরি হবে বলে মনে করেন তিনি।

“হয়তো ভবিষ্যতে আমি যদি এমএলএস বা ওই ধরনের কোনো ক্লাবে যাই, তখন মৌসুমের মধ্যে সমন্বয় করে এই দুটোকে হয়তো মেলানো যেতে পারে। কিন্তু আবারও বলছি, এই চিন্তাটা কেবল আমার মনের কোণেই আছেন। কারণ এই মুহূর্তে আমি এখানে যতদিন সম্ভব খেলে যেতে চাই।

যদিও আমার মনে হয়, আমার মতো ৩৩ বছর বয়সে এসে অবসর বা ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবাটা মাঝেমধ্যে সহজ হয়ে যায়। কিন্তু আমি আমার সবশেষ দুই, পাঁচ বা দশ বছর থেকে যতটা সম্ভব নিংড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। আপাতত আমি (ফুটবল) খেলেই যাব।”

আপাতত বায়ার্ন মিউনিখে নতুন চুক্তির “খুবই কাছাকাছি’ আছেন বলে জানালেন কেইন। এই ক্লাবের হয়ে গত মৌসুমে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর বিশ্বকাপেও আলো ছড়িয়ে এখন ব্যালন দ’র জয়ের লড়াইয়ে আছেন তিনি।

জিততে পারলে কতটা উচ্ছ্বসিত হবে, সেটি জানালেও তিনি বললেন, অন্যদের কাছ থেকে প্রশংসা শুনতেই তার বেশি ভালো লাগে।

“আমার দিক থেকে বললে, এটি জিততে পারাটা হবে অসাধারণ। জিততে পারলে খুবই গর্বিত হব। আমি মনে করি, নিঃসন্দেহে আমি এটি জেতার লড়াইয়ে আছি। সময়ই বলে দেবে। ভোটাররা তাদের পছন্দের ফুটবলারকে ভোট দেবেন।

যখন অন্যেরা আমার সম্পর্কে কথা বলে, যখন অন্য সতীর্থ বা সাবেক ফুটবলার বা যেই হোক না কেন, তারা আমার অর্জনের প্রশংসা করে, তখন আমি আরও বেশি গর্বিত বোধ করি। আমার মনে হয়, নিজে থেকে কথা বলার চেষ্টার চেয়ে এটাই আমাকে বেশি গর্বিত করে।”