‘হামজার বিপক্ষে খেলতে চেয়েছিলাম’
হামজা চৌধুরী এ ম্যাচে খেলবেন না বলে ‘হতাশ’ ভুটান অধিনায়ক চেনচো গাইয়েলতশেন।
বাংলাদেশের তারকা ফুটবলার হামজা চৌধুরীর মুখোমুখি না হওয়াটা চেনচো গাইয়েলতশেনের জন্য স্বস্তিরই হওয়ার কথা। বাংলাদেশের জাল খুঁজে পেতে হামজার প্রবল বাধা পেরিয়ে যেত হতো ভুটানের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে। কিন্তু ক্লাবের ব্যস্ততায় ইংল্যান্ড প্রবাসী ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। কিন্তু এ নিয়ে খুশির বদলে ভুটান অধিনায়কের ‘হতাশা’ যেন বেশি।
পল্টনের জাতীয় স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করবে ভুটান। এ ম্যাচ সামনে রেখে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে ভুটান অধিনায়ক চেনচো, কোচ গ্যারি ফিলিপস বলে গেলেন তাদের দলীয় লক্ষ্য। চেনচো বরং হামজার বিপক্ষে খেলার সুযোগ না পাওয়া নিয়ে কথা বললেন বেশি।
“হ্যাঁ, গতবার চোটের কারণে আমি আসতে পারিনি এবং ভুটানের হয়ে খেলতে পারিনি। ফলে হামজার বিপক্ষে খেলাটা আমি মিস করেছি। এবার হামজা খেলছে না বলে আমি খুশি নই। আসলে আমি চেয়েছিলাম হামজা খেলুক। কারণ সবাই জানে সে আমাদের সাফ অঞ্চলের একজন অনেক বড় তারকা।
“তার কাছ থেকে শেখাটা আমাদের জন্য একটি ইতিবাচক দিক হতো এবং আমি মনে করি, আমরা হামজার সাথে খেলতে পছন্দ করব। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, আমি শুনেছি সে প্রথম ম্যাচের জন্য আসছে না।”
এবার বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা-অনেক দলেই আছে প্রবাসী খেলোয়াড়। ভুটানের সবাই স্থানীয়। চেনেচো তাদের নিয়েই খুশি। বললেন, ঢাকা থেকে ভালো ফল নিয়ে ফিরতে চান দেশে।
“আমি মনে করি এখন বিশ্ব ফুটবল অনেক বদলে গেছে। এখন শুধু বাংলাদেশ বা শ্রীলঙ্কা নয়, আমার মনে হয় বেশিরভাগ দেশই, যেমন ইন্দোনেশিয়া অনেক ‘বিদেশি’ খেলোয়াড় নিচ্ছে। আমি মনে করি একমাত্র ভুটান দলই শতভাগ ভুটানি। তাই জাতীয় দলের হয়ে, ১০০% ভুটানিদের নিয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি খুব গর্বিত।
“যেমনটা বললাম, হামজা খেললে আমরা তার বিপক্ষে খেলতে ভালো লাগতো। কিন্তু সাফ জেতা প্রতিটি দলেরই স্বপ্ন। তাই আমরা প্রথম ম্যাচটা জেতার চেষ্টা করব এবং সেমি-ফাইনালের জন্য নিরাপদ অবস্থানে থাকার চেষ্টা করব।”
ভুটানের অস্ট্রেলিয়ান কোচ গ্যারি ফিলিপস অবশ্য প্রস্তুতির কমতির কথা জানালেন রাখঢাক না করেই। তবে বললেন, আত্মবিশ্বাস নিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে নামবে দল।
“যেমনটা আমি আগেই বলেছি, প্রস্তুতি ছাড়া যেকোনো দলের বিপক্ষে খেলাটা সবসময় খুব কঠিন। আর স্বাগতিক দলের বিপক্ষে খেলাটা স্বভাবতই সবার ওপর চাপ বাড়িয়ে দেয়। তবে এটি কোনো এএফসি বা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের টুর্নামেন্ট নয়, এটি স্থানীয় দেশগুলোর জন্য একে অপরের সাথে খেলার একটি সুযোগ।
“আমাদের প্রস্তুতিটা কিছুটা ধাপে ধাপে হয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত আমরা কোনো ম্যাচ (প্রস্তুতি) খেলিনি। আমি কয়েক সপ্তাহ আগে অনূর্ধ্ব-২০ দলের সাথে যুক্ত ছিলাম। গত ফিফা উইন্ডোতে ভুটান একটি জাতীয় লিগ খেলেছিল, তাই খেলোয়াড়দের সেখান থেকে নিয়ে আসা কঠিন ছিল; তবে এটি আমার জন্য খেলোয়াড়দের দেখার এবং সেরা স্কোয়াড নির্বাচন করার একটা সুযোগ ছিল। বাংলাদেশ বা অন্যান্য দলের মতো আমাদের তেমন প্রস্তুতি হয়নি, তবে আমরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছি।”
