Published : 12 Jul 2026, 08:35 PM
কোনো কিছুতেই যখন সুইজারল্যান্ডের রক্ষণ ভাঙতে পারছিল না আর্জেন্টিনা, যখন মনে হচ্ছিল, ম্যাচ গড়াবে টাইব্রেকারে, তখনই জাদুকরি মুহূর্ত উপহার দিলেন হুলিয়ান আলভারেস। চোখধাঁধানো গোলে এগিয়ে নিলেন দলকে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে এই ফরোয়ার্ড মনোযোগ দিচ্ছেন সামনের দিকে। ম্যাচ শেষে বললেন, লক্ষ্যে পৌঁছাতে আর মাত্র দুটি ম্যাচ বাকি।
ক্যানসাস সিটিতে উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের শেষ কোয়ার্টার-ফাইনালে সুইসদের ৩-১ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্ব আসরের সেমি-ফাইনালে উঠেছে শিরোপধারীরা।
জয়ের ব্যবধানে অবশ্য ম্যাচের চিত্র ফুটে উঠছে না। আর্জেন্টিনার সঙ্গে চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছে সুইজারল্যান্ড। আলেক্সিস মাক আলিস্তেরের গোলে দশম মিনিটে এগিয়ে যায় লাতিন আমেরিকার দলটি। দ্বিতীয়ার্ধে সুইজারল্যান্ডকে সমতায় ফেরান দান এনোদোয়ে।
ওই গোলের মিনিট পাঁচেক পর ইচ্ছা করে ডাইভ দেওয়ায় বাগাইল এমবোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। প্রতিপক্ষের একজন কম থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে একের পর এক আক্রমণ করে যায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু সুইসদের রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় নির্ধারিত সময় শেষ হয় ১-১ সমতায়।
অতিরিক্ত সময়ের প্রথমভাগেও গোল পায়নি কোনো দল। ১১২ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলটি করেন আলভারেস। বক্সের বাইরে বল পেয়ে একটু জায়গা বানিয়ে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে বল জালে পাঠান তিনি। ডাইভ দিয়েও নাগাল পাননি গোলকিপার গ্রেগর কোবে।
ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে এবারের বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলটি নিয়ে কথা বলেন আলভারেস।
“এমন শট এর আগেও একটা নিয়েছিলাম। এবার জায়গা পেয়ে যাই, কেউ আমাকে বাধা দিতে এগিয়ে আসেনি এবং খুব চমৎকারভাবে শটটি নিতে পারি। অসাধারণ একটা গোল।”
তার গোলের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত ম্যাচের পরিস্থিতি কেমন ছিল, সেটাও সংক্ষেপে তুলে ধরেন আতলেতিকো মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড।
“আমাদের একজন খেলোয়াড় বেশি থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়েছিল। জানতাম, সবাই মিলে যদি আক্রমণ চালিয়ে যাই, তাহলে গোল আসবেই। অবশ্যই, আরও আগেই ম্যাচটি জিতে নিতে চেয়েছিলাম। তবে আমরা জানি, ম্যাচ জেতা সহজ নয়, বিশ্বকাপের সব ম্যাচই এমন। আর দুটি ম্যাচ বাকি আছে।”
ম্যাচের শেষ দিকে তৃতীয় গোলটি করে আর কোনো অনিশ্চয়তা রাখেননি লাউতারো মার্তিনেস। আরও একটি ম্যাচে শেষ পর্যন্ত চাপে থাকলেও, নিজেদের ওপর আস্থা, ধৈর্য হারায়নি আর্জেন্টিনা।। নিজেদের সবটুকু দিয়ে আরও একবার বিশ্ব সেরার মুকুট জিততে চাওয়ার কথা বললেন আলভারেস।
“আরও একবার, আমাদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভুগতে হয়েছে। ম্যাচটি আবারও দীর্ঘ হয়েছে। তবে আমরা ধৈর্য হারাইনি। শেষ দিকে তারা রক্ষণে পাঁচজন নিয়ে খেললেও, আমরা মাঠের এক পাশ থাকে আরেক পাশে বল ঘুরিয়েছি। সৌভাগ্যবশত, আমরা গোল পেয়েছি, জিততে পেরেছি এবং সেমি-ফাইনালে উঠেছি।
“আমরা যেভাবে চাই সেভাবে খেলতে পারছি না, তবে ম্যাচের কিছু কিছু অংশে আমরা ভালো খেলছি, যদিও সেই মান ধরে রাখতে পারছি না। আমাদের প্রতিপক্ষগুলো এমন যারা আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, যা পরিস্থিতি কঠিন করে তোলে। (আমাদের ওপর) বিশ্বাস রাখুন। গত আট বছর ধরে আমরা যেভাবে সেরাটা দিয়ে আসছি, সেভাবেই দেব। আর্জেন্টিনাকে যতদূর সম্ভব এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব।”
ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী ১৭ জুলাই বাংলাদেশ সময় ১টায় (এএম) ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।