Published : 19 Jul 2026, 04:00 PM
বল দখলে রেখে দ্রুত ও নিখুঁত পাসে ছন্দময় ফুটবল খেলা স্পেনের মূল শক্তি। সেমি-ফাইনালে দলটির বিপক্ষে অসহায় আত্মসমর্পণের পর ফ্রান্সের কয়েকজন বলেছিলেন, উপরে উঠে আরও চাপ দেওয়া উচিত ছিল তাদের। এতে কোনো কাজ হতো বলে মনে করেন না হুলেন লোপেতেগি। এই স্প্যানিশ কোচের মতে, কেবল তত্ত্বেই স্পেনকে চেপে ধরা সহজ, মাঠের খেলায় খুবই কঠিন।
স্পেনের মতো আর্জেন্টিনাও বল দখলে রেখে খেলতে পছন্দ করে। প্রায় একই ঘরানার ফুটবল খেলা দুই দল মুখোমুখি হবে এবারের বিশ্বকাপের ফাইনালে। নিউ জার্সিতে ২০ জুলাই বাংলাদেশ সময় ১টায় (এএম) শুরু মাঠের লড়াই।
স্পেন-আর্জেন্টিনার সবশেষ দেখা হয়েছিল আট বছর আগে। ২০১৮ সালে সদ্য উদ্বোধন হওয়া মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে সেদিন লিওনেল মেসি বিহীন লাতিন আমেরিকার দলটিকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল স্প্যানিশরা। ওই প্রীতি ম্যাচে স্পেনের কোচ ছিলেন লোপেতেগি।
ওই ম্যাচে আর্জেন্টিনার যেন দমবন্ধ করে রেখেছিল স্পেন। বল পায়ে এমন আধিপত্য দেখিয়েছিল, খেলা দেখে মনে হচ্ছিল যেন প্রতিপক্ষ কোনো ছায়ার পেছনে ছুটছে।
তবে এবার মঞ্চ ভিন্ন। তাই ওই রকম একচেটিয়া আধিপত্যের ম্যাচ দেখা যাবে বলে মনে করেন না বর্তমানে কাতারের কোচ হিসেবে কাজ করা লোপেতেগি। বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে সেই স্মৃতি রোমন্থন করলেন ৫৯ বছর বয়সী এই কোচ।
“এটা দারুণ এক স্মৃতি। কারণ আমার মনে হয়, আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে দুর্দান্ত একটি ম্যাচ খেলেছিলাম।
“সেদিন আমরা মাঝমাঠের ফাঁকা জায়গাগুলো বন্ধ করে দিতে পেরেছিলাম, বল নিয়ে তাদের রক্ষণে চাপ তৈরি করতে পেরেছিলাম এবং পুরো দল ভালো পারফরম্যান্স করেছিল। তবে এই দুটি ম্যাচ সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমরা এখন বিশ্বকাপ ফাইনালের কথা বলছি, কোনো প্রীতি ম্যাচের নয়।”
এবারের বিশ্বকাপে উড়তে থাকা ফ্রান্সকে মাটিতে নামিয়ে আনে স্পেন। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে গত দুই আসরের ফাইনালিস্টদের ২-০ গোলে হারিয়ে দেয় তারা। সেদিন ভয়ঙ্কর আক্রমণভাগের ফরাসিদের কোনো সুযোগই দেয়নি স্পেন। ৮০তম মিনিটের পর লক্ষ্যে প্রথম শট রাখতে পারে কিলিয়ান এমবাপের দল।
ম্যাচটির পর ফ্রান্সের কয়েকজনের মনে হয়েছিল, স্পেনকে মাঠের আরও ওপরের দিকে কঠোরভাবে চেপে ধরা উচিত ছিল তাদের। চলতি বিশ্বকাপে কাতারের ডাগআউটে থাকা লোপেতেগি ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ছিলেন স্পেনের গোলরক্ষক। তিনি বলেন, এই পরিকল্পনাটি ট্যাকটিক্স বোর্ডে যতটা সহজ দেখায়, স্পেনের জ্যামিতিক পাসিংয়ের সামনে ততটাই কঠিন।
“তত্ত্বটি খুব সহজ, কিন্তু এটা সত্যি যে, স্পেনের মতো একটি দলকে চেপে ধরা মোটেও সহজ নয়। মূলত দলগতভাবে খেলাটি বোঝার ক্ষেত্রে তাদের সম্মিলিত ক্ষমতার কারণে।
“এটা কেবল এক বা দুজন খেলোয়াড়কে চেপে ধরার বিষয় নয়; বরং বল পেতে পারে এমন অনেক খেলোয়াড়কে সঠিক সময়ে, সঠিক জায়গায় এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিস্থিতিতে একসঙ্গে চেপে ধরতে পারার ক্ষমতা রাখতে হবে।”
এরপর স্পেনের বিপক্ষে খেলার আরেকটি সমস্যার কথা বলেন লোপেতেগি। তার মতে, দলটির খেলোয়াড়রা কেবল একটি কৌশলের অংশ নয়, ব্যক্তিগত দক্ষতাতেও তারা চাপ থেকে বেরিয়ে আসতে পারে।
“দলগত সামর্থ্যের পাশাপাশি তাদের ব্যক্তিগত দক্ষতাও রয়েছে- অনেক খেলোয়াড় যে পরিস্থিতি সামলাতে পারে না, তারা সেখান থেকে নিজেরাই বেরিয়ে আসতে পারে। এভাবে তারা চাপ কাটিয়ে ওঠে এবং স্বাভাবিকভাবেই প্রতিপক্ষকে দুর্বল করে দেয়।”
স্পেন ও আর্জেন্টিনা বল দখলে রাখতে পছন্দ করে এবং ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এমন খেলোয়াড় দুই দলেরই আছে। তবে লোপেতেগির মতে, একেবারে নিচ থেকে ধৈর্য নিয়ে খেলা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে স্পেনের বাড়তি সুবিধা আছে।
“স্পেনের মতো যে দল বল দখলে রাখতে চায়, তাদের বিপক্ষে স্বাভাবিকভাবেই প্রতিপক্ষ চাপ দিতে চাইবে। কিন্তু একই সঙ্গে সেটি স্পেনের জন্য আরও বেশি ফাঁকা জায়গা খুঁজে পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে।”