Published : 13 Jul 2026, 12:32 PM
গত বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা এবারও পৌঁছে গেছে সেমি-ফাইনালে। নকআউট পর্বে টানা তিন ম্যাচে মুখোমুখি হতে হয়েছে কঠিন চ্যালেঞ্জের। তবে শেষ পর্যন্ত ঠিকই ম্যাচ জিতে একের পর এক ধাপ পার হয়ে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে টিকে আছে আর্জেন্টিনা। স্বয়ং লিওনেল মেসি বলছেন, তাদের এমন সাফল্যযাত্রা সাধারণ ও স্বাভাবিক কোনো ব্যাপার নয়। তার মতে, সমর্থকদের উচিত সময়টা উপভোগ করা, কারণ কেউ জানে না আবার কবে এমন সময় আসবে।
১৯৭৮ বিশ্বকাপে প্রথমবার শিরোপা জয়ের স্বাদ পাওয়া আর্জেন্টিনা পরের বিশ্বকাপে বাদ পড়ে যায় দ্বিতীয় ধাপের গ্রুপ পর্ব থেকে। পরের দুটি বিশ্বকাপে তারা ফাইনালে খেলে। দিয়েগো মারাদোনার অসাধারণ পারফরম্যান্সে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। ১৯৯০ আসরে খুব কাছাকাছি গিয়েও ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির কাছে হেরে যায় শেষ সময়ের পেনাল্টি গোলে।
এবার শিরোপা ধরে রাখার সম্ভাবনা আবার জাগিয়ে তুলেছে তারা। প্রয়োজন স্রেফ আর দুটি জয়।
সেমি-ফাইনালে আসার পথটা এবার অবশ্য সহজ ছিল না তাদের। প্রতিপক্ষরা যদিও কাগজে-কলমে পিছিয়ে ছিল তুলনামূলকভাবে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে সেমি-ফাইনালে উঠেছে তারা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশে থাকা কোনো দলের বিপক্ষে না খেলেই। তবে দ্বিতীয় রাউন্ডে কেইপ ভার্ড, শেষ ষোলোয় মিশর ও কোয়ার্টার-ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় তাদের।
ফেভারিট হয়েও ম্যাচের পর ম্যাচ এমন ভোগান্তি কাম্য নয় কোনো দলেরই। তবে এই যে তুমুল লড়াই করে জয়, পেছন থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়, এসবের অন্য রোমাঞ্চও তো আছে! ইএসপিএন আর্জেন্টিনার সঙ্গে কথোপকথ মেসি তুলে ধরলেন সেই দিকটিই।
টানা দুটি কোপা আমেরিকা ও মাঝে একটি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরও যে তীব্র তাড়না নিয়ে খেলছে দল, তা দারুণ প্রশংসনীয় বলে মনে করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
“এটা ভালো যে (আর্জেন্টিনার) জনগণও আমাদের মতোই এটি উপভোগ করছে। আমরা এভাবেই বাঁচি।
এই দলে এমন ফুটবলার আছে, যারা অস্বাভাবিক কাজ করতে অভ্যস্ত। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর, আমরা যা কিছু জিতেছি, এই সবকিছু জয়ের পরও আবার ক্ষুধা নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়া এবং এই পর্যায়ে শীর্ষ চারের মধ্যে থাকা, আরেকটি সেমি-ফাইনালে খেলা, এসব সহজ নয়, স্বাভাবিক নয়। সেজন্যই আমাদের এটা যতটা সম্ভব উপভোগ করতে হবে।”
১৯৮৬ বিশ্বকাপের পর ৩৬ বছর বিশমঞ্চে ট্রফির দেখা পায়নি আর্জেন্টিনা। ১৯৯৩ কোপা আমেরিা=কা জয়ের পর মহাদেশীয় এই সাফল্যের জন্যও অপেক্ষা করতে হয়েছে ২৮ বছর। সেই আর্জেন্টিনা এখন সময়ের পরিক্রমায় অপ্রতিরোধ্য সাফল্য রথে ছুটছে।
ভবিষ্যতে আবার করে এমন সময় আসবে, মেসিরও অজানা। আর্জেন্টাইন মহানায়ক তাই সময়টাকে উপভোগ করতে এবং মূল্যায়ন করতে বললেন।
“আমরা জানি না, আবার কখনও এরকম কিছু হবে কি না। যদি হয়ও, জানি না সেটা কবে হবে। গতবারের আগে আমরা দীর্ঘ সময় বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ছিলাম না। এরপর তাই যা কিছু আসবে, সবকিছু উপভোগ করা এবং কদর করা উচিত। আমরা চেষ্টা করব বিশ্রাম নিতে, শক্তি ফিরে পেতে এবং সেমি-ফাইনালে নেমে আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে।”
সেমি-ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, যাদের সঙ্গে ক্যারিয়ারে প্রথমবার খেলার অভিজ্ঞতা হবে মেসির।