Published : 22 Jun 2026, 09:13 AM
বিচিত্র সব ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখিই হলেন ফ্রান্সিসকো কন্সেইসাও। বাবার পর ছেলে হিসেবে বিশ্বকাপে খেলার অনুভূতি নিয়ে যেমন প্রশ্ন থাকল, ডিআর কঙ্গো ম্যাচে অসংখ্য ব্যাক-পাস দেওয়ার কৌশল ছিল কিনা, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে পাস দিবেন কিনা-এমন বাঁকা প্রশ্নও উঠল। তরুণ এই ফরোয়ার্ড পরিস্থিতি সামাল দিলেন ভালোভাবেই। উজবেকিস্তান ম্যাচ সামনে রেখে তিনি বললেন, তাদের আর ভুলের সুযোগ নেই।
ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ ড্রয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা পর্তুগাল হিউস্টনে দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে উজবেকিস্তানের। বাংলাদেশ সময়, মঙ্গলবার রাত ১১টায় শুরু হবে ম্যাচটি।
প্রথম ম্যাচে দারুণ অভিজ্ঞতা হয়েছে কন্সেইসাওয়ের। ২০০২ সালে তার বাবা সের্জিও পর্তুগালের হয়ে খেলেছিলেন বিশ্বকাপ। ২০২৬ সালে সেই আঙিনায় পা পড়ে ছেলের। বাবাকে ‘সেরা উপদেষ্টা’ উল্লেখ করে, গর্ব অনুভব করার কথা বললেন কন্সেইসাও।
বাবাকে নিয়েই তার দিকে প্রশ্ন ছুটে গেল। বিশ্বকাপের পর রবের্ত মার্তিনেসের বদলে পর্তুগালের ডাগআউট সের্জিওর দাঁড়ানোর গুঞ্জন উঠেছে জোরেশোরে। তবে, ‘এ নিয়ে কথা বলা অসম্মানজনক হবে’-বলে পাশ কাটিয়ে গেলেন কন্সেইসাও।
ডিআর কঙ্গো ম্যাচে ‘অহেতুক ব্যাক-পাস’ দেওয়া, এবং উজবেকিস্তান ম্যাচের করণীয় নিয়ে ওঠা প্রশ্ন অবশ্য কাটাতে পারলেন না ২৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
“ব্যাক-পাস দেওয়া আমাদের কৌশল ছিল না। আমাদের খেলার ধরন আক্রমণাত্মক; সেই মানের খেলোয়াড়ও আমাদের আছে, কিন্তু আমরা ভালোভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারিনি। যেভাবে খেলেছি, সেটা সেরা মানের নয়, পরের ম্যাচে আমাদের ভুলগুলো শুধরে নিতে হবে।”
“অবশ্যই, আমরা জিততে এবং নিজেদের মানের প্রতি সুবিচার করতে মুখিয়ে আছি। যদি, আমাদের সবার মানসিকতা ঠিক থাকে, মানের ক্ষেত্রে উন্নতি করতে পারি, আমরা জিতব।”
কলম্বিয়ার বিপক্ষে ৩-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ শুরু করা ম্যাচে উজবেকিস্তান প্রতিপক্ষের পেনাল্টি এরিয়ায় বলে স্পর্শই করতে পারেনি। রক্ষণ সামলেছে অনেক নিচে নেমে। প্রতিপক্ষের ছক এমন হলে, গোলের সুযোগ তৈরি করাই কঠিন। যত কঠিনই হোক করতে হবে, বললেন কন্সেইসাও।
“আমরা যে দিকগুলো নিয়ে কাজ করছি, সেগুলোর মধ্যে এটি একটি; তাদের বক্সে ঢোকার পথ বের করা। পাঁচ ডিফেন্ডারদের নিয়ে খেলে উজবেকিস্তান, সেটা আমরা জানি। তবে, সুযোগ তৈরি করা, শট নেওয়া এবং তাদের রক্ষণ এলোমেলো করে দিতে সম্ভাব্য সব চেষ্টা করা- এগুলো নির্ভর করবে আমাদের ওপর।”
১ পয়েন্ট পাওয়া পর্তুগালের নকআউট পর্বে ওঠার আশা জোরাল রাখতে, উজবেকিস্তান ম্যাচে ইতিবাচক ফল পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কন্সেইসাওয়ের কাছে গ্রুপ পর্ব পেরুনো আরও গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি কারণে। বাবা সের্জিওর বিশ্বকাপ যাত্রা থেমেছিল গ্রুপ পর্বে, তিনি ছুটতে চান অনেক দূর।
“আমার মনে হয় না, বাবার ২০০২ বিশ্বকাপের স্মৃতি সুখের। তারা গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল (হাসি)। তবে, এটা সবসময় গর্বের, যে আমার বাবা বিশ্বকাপ খেলেছিলেন এবং এখন আমি এখানে। আশা করি, গল্পটা ভিন্ন হবে।”
“আমরা যতদূর সম্ভব, যেতে চাই। সেই মান আমাদের আছে, মাঠে সেটা মেলে ধরতে হবে। দলকে সবসময় সাহায্য করার জন্য আমি এখানে, যতটা সম্ভব সাহায্য করতে চাই। আমি একটা স্বপ্ন পূরণ করছি। ১০ মিনিট বা ৯০ মিনিট-যতটুকু সময় খেলি না কেন, আপনারা আমার কাছে সর্বোচ্চটা প্রত্যাশা করতে পারেন।”