২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ
Published : 14 Jun 2026, 04:38 PM
‘যেকোন উপায়ে টিকে থাকতে হবে আমাদের’, গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলার আগে হাজিমে মরিয়াসুর ভাবনা এটাই! জাপান কোচের এমন ভাবনার কারণ, ‘এফ’ গ্রুপের বাকি দলগুলো। নেদারল্যান্ডস, তিউনিসিয়া ও সুইডেনের সঙ্গে একই গ্রুপে থাকায় তিনিও ঠিক ঠাহর করতে পারছেন না, এখান থেকে কে বা কারা সক্ষম হবে পরের ধাপে যেতে।
আজও শেষ ষোলোর বৈতরণী পার হতে না পারা জাপান রোববার ডালাসে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপ শুরু করবে। যদিও এর আগে মরিয়াসু পরের ধাপে যাওয়ার প্রশ্নে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠেই উত্তর দিয়েছিলেন, কিন্তু এখন জাপান কোচ ভীষণ সতর্ক।
“এই পর্যায়ে যেকোন উপায়ে আমাদের টিকে থাকতে হবে। একই সঙ্গে আমি দেখছি, আমাদের গ্রুপটা খুবই কঠিন। মেধাবীদের মধ্যে সেরাদের নিয়ে দল গড়েছে নেদারল্যান্ডস।”
“মূল ম্যাচগুলোর কথা যদি বলি, এই গ্রুপে যে কোনো দলই জিততে পারে। তিউনিসিয়া ক্লিনশিট নিয়ে বাছাই পেরিয়ে এসেছে। সুইডেনেরও শীর্ষ মানের খেলোয়াড়, স্ট্রাইকার আছে। তো, আমরা জানি না, এই গ্রুপ থেকে কে বা কারা টিকে যাবে। এটা অনুমান করা আসলেই কঠিন।”
কেবল অনেক না পারার বৃত্ত ভাঙতেই নয়, ‘ব্লু সামুরাই’দের এবার খেলতে হবে নিয়মিত অধিনায়ক ওয়াতারু এন্দোকে ছাড়া। দলের যার প্রভাব ভীষণ। ৩৩ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার বিশ্বকাপ দলেও ছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পায়ের চোটের কারণে তাকে বাদ দিতে বাধ্য হন জাপান কোচ।
এন্দোর বদলে মরিয়াসু দলে ডেকেছেন ফরোয়ার্ড শুতো মাচিনোকে। তবে, লিভারপুলে খেলা ওয়াতারুকে না পাওয়ার হতাশা রয়েই গেছে ৫৭ বছর বয়সী এই কোচের, যার হাত ধরে গত কাতার বিশ্বকাপে শেষ ষোলোয় উঠেছিল জাপান।
“আমি যখন ওয়াতারুকে বার্তাটি পাঠালাম, তার কাছ থেকে পাওয়া প্রতিক্রিয়া আমরা কল্পনার চেয়ে ভিন্ন ছিল। তাকে এমন বার্তা (বাদ দেওয়ার বার্তা) দিতে খুব খারাপ লেগেছিল আমার।”
“অবশ্যই ওয়াতারু কষ্ট পেয়েছিল, কিন্তু তার পরিবারের সদস্যরা, তার প্রিয়জনেরা- সবাই বিষয়টি বুঝতে পেরেছিল। আমিও জানি, এমন একটি বার্তা তাদের গভীরভাবে আঘাত করবে এবং এ জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের কাছে আন্তরিক ক্ষমা চাই।”
ওয়াতারু না থাকায় আয়াক্স আমস্টার্ডামের ডিফেন্ডার কো ইতাকুরার বাহুতে উঠবে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড। দলের সব খেলোয়াড়ের সাথে যোগাযোগ, প্রত্যেকের প্রত্যাশা সম্পর্কে জানাশোনা থাকায় ইতাকুরাকে বেছে নিয়েছেন, জানালেন মরিয়াসু।
“ইতাকুরাকে অধিনায়কের দায়িত্ব নিতে বলার কারণ হচ্ছে, সে এমন একজন, যে কিনা মাঠের ভেতরে-বাইরে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াইয়ের জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসছে। আমি বলছি, সে দলকে পুরোপুরি বোঝে। যেটা বলা হয়েছে এরইমধ্যে, সে সেগুলো উপলব্ধি করে।”
“সে প্রতিটি খেলোয়াড়ের সঙ্গে আলাদাভাবে যোগাযোগ রাখতে পারে এবং দলীয় কাজের ক্ষেত্রে তার কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। একারণেই সে অধিনায়ক। তবে, দলের সবাই খুব পেশাদার এবং ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলের জন্য কাজ করতে সক্ষম। সবার নেতৃত্ব দেওয়ার মানসিকতা আছে। এদের মধ্যে একজনকে অধিনায়ক ও নেতা বেছে নেওয়া আমার জন্য কঠিন ছিল।”