Published : 19 Jul 2026, 03:16 PM
‘যে ম্যাচ কেউ খেলতে চায় না’ সেটাতেই হয়েছে ১০ গোলের পাগলাটে এক লড়াই। গোল উৎসবে হয়েছে অনেক রেকর্ড, অনেক কীর্তি। লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে, কিংবদন্তি পেলেকে ছাড়িয়েছেন মাইকেল ওলিসে।
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ৬-৪ গোলে জিতেছে ইংল্যান্ড। ম্যাচের উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো-
লিওনেল মেসিকে (২১ গোল) টপকে ২২ গোল নিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন কিলিয়ান এমবাপে। স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে শীর্ষে ফেরার সুযোগ আছে মেসির সামনে।
১০ গোল করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন এমবাপে। ৮ গোল নিয়ে মেসির অবস্থান দুই নম্বরে।
চতুর্থ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের যে কোনো আসরে ১০ বা ততোধিক গোল করেন এমবাপে। ৫৬ বছর আগে সবশেষ এমন কিছু করতে পেরেছিলেন পশ্চিম জার্মানির জার্ড মুলার। ১৯৭০ বিশ্বকাপে তিনি করেন ১০ গোল।
চলমান আসরে মেসির চেয়ে ৫৭ মিনিট বেশি সময় খেলেছেন এমবাপে। যদি ৯০ মিনিট কিংবা এর বেশি সময় খেলেন তাহলে এই ফরাসিকে ছাড়িয়ে গোল্ডেন বুট জিততে ফাইনালে হ্যাটট্রিক অথবা দুই গোল ও এক অ্যাসিস্ট করতে হবে মেসির।
২০২৬ বিশ্বকাপে মোট ১৪ গোলে অবদান রেখেছেন এমবাপে (১০ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট)। শেষ ৬০ বছরে যে কোনো আসরে এটাই কোনো ফুটবলারের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক গোলে অবদান রাখার কীর্তি।
সেমি-ফাইনাল ছাড়া বিশ্বকাপের প্রতিটি পর্বে গোল আছে এমবাপের (গ্রুপ পর্ব, শেষ বত্রিশ, শেষ ষোলো, কোয়ার্টার-ফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ ও ফাইনাল)। তিন সেমি-ফাইনাল খেলে কোনো গোল করতে পারেননি তিনি।
ফ্রান্স-ইংল্যান্ড মিলে করেছে ১০ গোল। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে এটাই সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড। ১৯৫৮ সালে ফ্রান্স ও পশ্চিম জার্মানি মিলে করেছিল ৯ গোল।
১৯৮২ আসরে হাঙ্গেরি ও এল সালভাদর (১০-১) ম্যাচের পর বিশ্বকাপে এটাই সর্বোচ্চ গোল।
বিশ্বকাপে মাত্র চার ম্যাচে ফ্রান্স-ইংল্যান্ড ম্যাচের চেয়ে বেশি গোল হয়েছে।
এবারই প্রথমবার তৃতীয় হয়ে বিশ্বকাপ শেষ করল ইংল্যান্ড। ১৯৬৬ সালে শিরোপা জয়ের পর এটাই বিশ্বকাপে তাদের সেরা সাফল্য।
বিশ্বকাপ জয়ের পর আরও দুইবার তৃতীয় হওয়ার সুযোগ ছিল দলটির সামনে। তবে, পারেনি। ২০১৮ সালে বেলজিয়াম এবং ১৯৯০ সালে ইতালির বিপক্ষে হারে। দুই ম্যাচে ব্যবধান ছিল ২-১।
ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের যে কোনো আসরে সবচেয়ে বেশি ৭ গোল করেছেন জুড বেলিংহ্যাম। ১৯৮৬ সালে ৬ গোলের রেকর্ড ছিল গ্যারি লিনেকারের। দুই জনের কেউই পেনাল্টি থেকে কোনো গোল করেননি।
চতুর্থ ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করেছেন বুকায়ো সাকা। এর আগে হ্যাটট্রিক করেন জিওফ হার্স্ট (জার্মানির বিপক্ষে, ১৯৬৬), গ্যারি লিনেকার (পোল্যান্ডের বিপক্ষে, ১৯৮৬), হ্যারি কেইন (পানামার বিপক্ষে, ২০১৮)।
বিশ্বকাপের যে কোনো আসরে সবচেয়ে বেশি ৭ অ্যাসিস্টের কীর্তি গড়েছেন মাইকেল ওলিসে। এই তালিকায় পেলেকে পেছনে ফেলেছেন তিনি। ১৯৭০ বিশ্বকাপে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি করেছিলেন ৬ অ্যাসিস্ট (শেষ ৬০ বছরের পরিসংখ্যান)।
ওলিসের কাছ থেকে বল পেয়ে পাঁচটি গোল করেছেন এমবাপে। শেষ ৬০ বছরে, বিশ্বকাপের যে কোনো আসরে যা একজন খেলোয়াড়ের অন্যজনকে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট।
২০১০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে টানা দুই ম্যাচে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হেরেছিল ফ্রান্স। এরপর, এবারই প্রথম বিশ্ব আসরে টানা দুই ম্যাচ হারল দলটি। সেমি-ফাইনালে তারা হেরেছিল স্পেনের বিপক্ষে।
১৪ বছর দিদিয়ো দেশোঁর কোচিংয়ে ২৬ বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেছে ফ্রান্স। এতে কোচ হিসেবে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে ডাগআউটে থাকার রেকর্ড গড়েন তিনি। পেছনে ফেলেন হেলমুট শনকে।
এবারের আসরে ১০৩ ম্যাচে হয়েছে ৩০৭ গোল। এতে গড়ে ম্যাচপ্রতি হয়েছে ২.৯৮ টি করে গোল। ১৯৫৮ বিশ্বকাপের পর এবারই ম্যাচ প্রতি গোল গড় সবচেয়ে বেশি।
৫৮ বছর পর প্রথমবার প্রথমার্ধে চার ম্যাচে গোল হজম করল ফ্রান্স। সবশেষ ১৯৬৮ সালে ইউরো বাছাইপর্বে যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধে চার গোল হজম করে তারা।
প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে যে কোনো ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটে একটি করে গোল ও অ্যাসিস্ট করেছেন ডেক্লান রাইস।