Published : 17 Jul 2026, 03:37 PM
বিস্ময়ের সীমানা যেন ছাড়িয়ে গেছেন লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও আলো ছড়াচ্ছেন বিশ্বকাপে। বিশ্ব মঞ্চে যেন নিজের সেরা আসর কাটাচ্ছেন তিনি এবার। এই বয়সে এসে কীভাবে সেটা সম্ভব হচ্ছে? উত্তরটা নিজেই দিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। বলেছেন, এক বছর ধরে নিবিড় প্রস্তুতির ফল তার এই পারফরম্যান্স।
এবার প্রথম পাঁচ ম্যাচে মেসি করেন আট গোল। পরের দুই ম্যাচে জালের দেখা পাননি তিনি। ওই দুই ম্যাচে অ্যাসিস্ট করে দলের জয়ে ভূমিকা রাখেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমি-ফাইনালে পিছিয়ে পড়েও ২-১ ব্যবধানে জিতে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে শেষ ধাপে পৌঁছায় আর্জেন্টিনা। এন্সো ফের্নান্দেস ও লাউতারো মার্তিনেসের দুই গোলে অ্যাসিস্ট করেন মেসি।
ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক নিজের প্রস্তুতি সস্পর্কে কিছুটা ধারণা দেন।
“গত বছরের আগ পর্যন্ত আমি কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। নিয়মিত (কোচ লিওনেল) স্কালোনির সঙ্গে কথা বলতাম। সম্ভাব্য সেরা পর্যায়ে পৌঁছাতে সবকিছু করেছি। এক বছর আগ থেকে প্রস্তুতি শুরুর পাশাপাশি নিয়মিত অনুশীলন করেছি।”
“পুরো ডিসেম্বর আর্জেন্টিনায় কাটিয়ে সকাল-বিকাল অনুশীলন করেছি। আমি জানতাম, সম্ভাব্য সেরা প্রস্তুতি নিতে এবং বিশ্বকাপ উপভোগ করতে আমাকে নিজের সবটুকু দিতে হবে।”
ওই প্রস্তুতি কাজে লেগেছে বেশ। বিশ্বকাপ চলাকালে ৩৯ বছর বয়স পূর্ণ করা মেসি সাত ম্যাচের ছয়টিতে ছিলেন শুরুর একাদশে, খেলেছেন ৭১২ মিনিট। আট গোল ও চার অ্যাসিস্ট করে গোল্ডেন বুটের পাশাপাশি গোল্ডেন বলের লড়াইয়েও এগিয়ে আছেন তিনি।
আসরে পাঁচ ম্যাচে পুরোটা সময় মাঠে ছিলেন মেসি। তিনটিতে ৯০ মিনিট আর অতিরিক্ত সময়ে যাওয়া বাকি দুই ম্যাচে মাঠে ছিলেন ১২০ মিনিট। পুরো সময় না খেলা দুই ম্যাচের একটিতে ৮০ মিনিট এবং আরেকটিতে বদলি নেমে খেলেছেন ৩০ মিনিট।
ফিটনেসের দিক থেকে দারুণ অবস্থায় আছেন মেসি। এছাড়া, কোচ স্কালোনি পুরো দলকে গড়ে তুলেছেন অধিনায়ককে কেন্দ্র করে। ম্যাচের পর ম্যাচ এর সুফল পাচ্ছে আর্জেন্টিনা।
এবারের আসরে এরই মধ্যে বেশ কিছু রেকর্ড গড়েছেন মেসি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তিনি আছেন চূড়ায়। এখানেই শেষ নয়, ছয় আসরে তার করা ১২ অ্যাসিস্টই বিশ্বকাপের ইতিহাসে যে কোনো ফুটবলারের সর্বোচ্চ।