Published : 21 Jun 2026, 09:26 PM
বিশ্বকাপে ফিফার চালু করা ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ নিয়মের কড়া সমালোচনা করেছেন মার্সেলো বিয়েলসা। উরুগুয়ের কোচের মতে, পানি পানের এই বিরতি ফুটবলে নতুন কিছুই যোগ করছে না। উল্টো খেলাটির আসল ঐতিহ্যকে ধ্বংস করছে।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার উষ্ণ আবহাওয়ার কথা চিন্তা করে, চলতি বিশ্বকাপে ম্যাচের দুই অর্ধেই পানি পানের বিরতির নিয়ম করেছে ফিফা। প্রতি অর্ধের মাঝে তিন মিনিটের এই সময়ে খেলোয়াড়দের সঙ্গে কৌশল নিয়ে আলোচনা করার সুযোগও পান কোচিং স্টাফের সদস্যরা।
তবে ফিফার নতুন এই নিয়ম নিয়ে খেলোয়াড় ও কোচ থেকে শুরু করে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝেও দেখা যাচ্ছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সমালোচকদের মতে, এই বিরতির কারণে ৯০ মিনিটের ম্যাচটি মূলত চার ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। যা টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে দুই মিনিটেরও বেশি সময় ধরে বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন দেখানোর সুযোগ করে দিচ্ছে।
বিশ্বকাপের মাঝেই এই বিরতি নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন নেদারল্যান্ডস অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক। এটাকে বিজ্ঞাপন প্রচারের অজুহাত হিসেবে দেখেন তিনিও। ফুটবল ঐতিহ্যের সমর্থকদের মধ্যে ফিফার এই নিয়ম এখন একটি বড় বিতর্কের বিষয়।
বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোরে কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে উরুগুয়ে। আগের দিনের সংবাদ সম্মেলনে বিয়েলসাও বলেন, এটা কেবল পানি পানের বিরতি নয়, এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো উদ্দেশ্য।
“দুই অর্ধে খেলার বদলে চার ভাগে খেলা ফুটবলকে ব্যাখ্যা করার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, সেটাকে বদলে দেয়। সংস্কৃতির এই পরিবর্তন নতুন কিছু যোগ করছে না, বরং অনেক কিছু কেড়ে নিচ্ছে। আমি শুধু এটুকুই বলব যে, এই সিদ্ধান্তের আগে ফুটবলের একটি নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ছিল, এখন সেটি বদলে গেছে। মানুষ এই খেলার প্রেমে পড়েছিল এর নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের কারণেই।”
“অবশ্যই ভিএআরের মতো প্রযুক্তিকে আমরা সাধুবাদ জানাই এবং এর মূল্যায়ন করি। প্রযুক্তি আরও বেশি সুযোগ (সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার) এনে দেয়। তবে এই বিরতির পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে। আর এখানে আমি যে মন্তব্যগুলো করছি, তা কেবল আমার একার নয়; চারপাশে যা শুনছি, তাই পুনরাবৃত্তি করছি।”
এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ জিততে পারেনি উরুগুয়ে। সৌদি আরবের বিপক্ষে ১-১ ড্র করে তারা। এবার তাদের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দ, যারা নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্পেনকে রুখে দিয়ে গোলশূন্য ড্র করেছিল।