২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ
Published : 23 Apr 2026, 08:15 AM
ড্রিবলিংয়ে দক্ষ, দুর্দান্ত ফুটবল মস্তিষ্ক এবং শারীরিক ও মানসিক শক্তির মিশেলে ফ্লোহিয়ান ভিয়েৎস সময়ের সবচেয়ে কার্যকর ফুটবলারদের একজন। তার মাঝে এমন সব উপাদানই আছে, যা আসছে বিশ্বকাপকে করতে পারে আলোকিত।
২০২৬ বিশ্বকাপে নিজ দেশের স্বপ্নের সারথীদের নিয়ে ফিফার আয়োজন ২৬ সুপারস্টার। এই পর্বে আছেন জার্মান প্লেমেকার ফ্লোহিয়ান ভিয়েৎস।
মূলত মিডফিল্ডার হলেও, মুহুর্মুহু আক্রমণ শাণানো ও গোল করায়ও তিনি দারুণ পটু। তাই এখন দেখার বিষয়, বৈশ্বিক আসরে জার্মানির কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমান তাকে কীভাবে কিংবা কোন কৌশলে কাজে লাগান। ইতোমধ্যে অবশ্য কোচের পরিকল্পনার কিছু ঝলক দেখা গেছে; যেখানে মাঠময় ছুটে বেড়ানোর স্বাধীনতা আছে ভিয়েৎসের এবং মনমতো খেলে জাদুও দেখিয়েছেন তিনি।
প্রতিপক্ষ যত শক্তিশালীই হোক না কেন, কৌশলগতভাবে দারুণ প্রতিভাবান এই ফুটবলারকে তার দিনে আটকানো একরকম অসম্ভব। বল পায়ে অসাধারণ সব কাজ করে এক নিমিষেই ম্যাচের গতিপথ পাল্টে দেওয়ার সামর্থ্য আছে ভিয়েৎসের।

ফুটবলের আঙিনায় ভিয়েৎসের অর্জন
বয়স কেবল ২২ বছর, তবে এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের ছাপ রাখতে পেরেছেন ভিয়েৎস। জাতীয় দলে জায়গা পাকা করেছেন আরও আগে।
জার্মানি জাতীয় দলে ২০২১ সালে অভিষেকের পর থেকে, দেশের হয়ে এখন পর্যন্ত ৩৯টি ম্যাচ খেলেছেন ভিয়েৎস। এই ম্যাচগুলোয় তিনি গোল করেছেন ১০টি, সঙ্গে ১১টি অ্যাসিস্ট। তবে কেবল গোল আর অ্যাসিস্টের সংখ্যায় মাঠে তার প্রভাব অনুধাবন করা সম্ভব নয়।
ভিয়েৎসের এই দুরন্ত যাত্রাপথের শুরুরদিকের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় হলো ২০২১ সালের উয়েফা অনুর্ধ্ব-২১ চ্যাম্পিয়নশিপ, যেখানে ১৮ বছর বয়সী এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার জার্মানির চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
ক্লাব ফুটবলে তার প্রথম সাফল্যের গল্পটা তো আরও চমৎকার। শাভি আলোন্সোর কোচিংয়ে ২০২৩-২৪ মৌসুমে ক্লাবের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বুন্ডেসলিগা জয় করে বায়ার লেভারকুজেন এবং আসরে একটিও ম্যাচ না হেরে। আর দলটির ওই অবিশ্বাস্য যাত্রায় ১১টি করে গোল ও অ্যাসিস্ট করেন ভিয়েৎস।
স্বপ্নের ওই মৌসুমে জার্মান কাপও জয় করে ভিয়েৎস ও তার সতীর্থরা। হতে পারতো ট্রেবল জয়ও; কিন্তু ইউরোপা লিগের ফাইনালে দলটি হেরে যায় আতালান্তার বিপক্ষে।
লেভারকুজেনের জার্সিতে সব মিলিয়ে ১৯৭টি ম্যাচ খেলে ৫৭টি গোল ও ৬৫টি অ্যাসিস্ট করেন ভিয়েৎস। নজরকাড়া ও মাঠে প্রভাববিস্তারী পারফরম্যান্সের সুবাদে বড় অঙ্কের ট্রান্সফার ফিতে গত বছরের গ্রীষ্মে লিভারপুলে যোগ দেন তিনি।

কোচ, সতীর্থ ও গ্রেটদের দৃষ্টিতে ভিয়েৎস
“কোন বিষয়টা লিওনেল মেসিকে এত ভালো করেছে? সে জানে কখন ও কীভাবে সহজ পাস দিতে হয়। ফুটবল মানে কেবল চমৎকার কিছু করা নয়; আপনাকে সবচেয়ে ভালো ও স্মার্ট সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ফ্লোহিয়ান সেটা করতে পারে, এই কারণেই সে একজন উঁচু মানের খেলোয়াড়।“
“এই ছেলেটার সঙ্গে খেলতে পারলে, আমার দারুণ লাগতো।”
“(অন্যদের চেয়ে) তাকে যেই বিষয়টা আলাদা করে তোলে, সেটা হলো খেলাটির প্রতি তার নিবেদন- বাঁ পাশের অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হয়ে সে মাঠে যত জায়গা জুড়ে খেলে এবং যে কঠোর পরিশ্রম করে, অসাধারণ।”
“আমরা ভালো বন্ধু এবং একসঙ্গে খেলতে সবসময়ই দারুণ উপভোগ করি। আমাদের মধ্যে বোঝাপড়া দারুণ এবং মাঠে আমরা সবসময় একে অন্য খুঁজি।”
“বল পায়ে তার সৃজনশীলতা ও সাহসের প্রশংসা করি আমি। এর পাশাপাশি, ফ্লো কঠোর পরিশ্রমী এবং সবসময় মাঠে ছুটতে থাকে। বল পায়ে আসলেই জেগে ওঠে সত্যিকারের ১০ নম্বর খেলোয়াড়, তার থেকে সে (ভিয়েৎস) অনেক ব্যতিক্রমী।
“ফ্লোর মতো মেধাবী (ফুটবলার) সেঞ্চুরিতে একবারই আসে। তাকে নিয়ে কেউ যদি উদ্বিগ্ন থাকে, তার চিন্তা করার দরকার নেই, আপনি নির্ভার থাকতে পারেন। সে সফল হবেই।”

পরিসংখ্যানের আলোয় ভিয়েৎস
তিন মাস পর ইউরোয় অভিযান শুরুর ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে দলের প্রথম গোলটি করেন ভিয়েৎস, সেই সঙ্গে প্রতিযোগিতার ইতিহাসে জার্মানির সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হয়ে যান তিনি।

২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে ভিয়েৎস ও জার্মানির প্রত্যাশা
চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে খেলার পথে ছিলেন ভিয়েৎস, কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় দুর্ভাগ্য; গুরুতর ক্রসিয়েট লিগামেন্ট চোটে দীর্ঘ সময়ের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে যান তিনি।
সবচেয়ে বড় মঞ্চে এবার মাঠে নামার হাতছানি ভিয়েৎসের সামনে এবং অভিষেকেই তার নায়ক হয়ে ওঠার উজ্জ্বল সম্ভাবনাও। অবিশ্বাস্য মেধাবী এই ফুটবলারের দিকে তাকিয়ে থাকবে তার দলও।
যেকোনো টুর্নামেন্টেই জার্মানি থাকে ফেভারিটের ছোট্ট তালিকায়। তবে গত দুই বিশ্বকাপ একদমই ভালো কাটেনি চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের; ২০১৪ সালে সবশেষ শিরোপাটি জয়ের পরের দুই আসরেই তারা বিদায় নেয় গ্রুপ পর্ব থেকে। এবার তাই, দলটির সামনে প্রথম লক্ষ্য থাকবে হতাশার সেই গল্পের হ্যাটটিক এড়ানোর।
তাদের প্রধান কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমান অবশ্য পেছনের হতাশায় কাতর নন, বরং দেশকে পঞ্চম বিশ্বকাপ ট্রফি এনে দেওয়ার লক্ষ্যের কথা বলেছেন একাধিকবার। দলটির কয়েকজন ফুটবলারও দিয়েছেন সেই প্রতিশ্রুতি, ভিয়েৎস তাদেরই একজন, “আমি এমন একজন, যে লক্ষ্যটা অনেক উঁচুতে রাখতে চাই। বিশ্বকাপ জয়ই আমার লক্ষ্য।”
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া ছোট্ট দেশ কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আসরে যাত্রা শুরু হবে জার্মানির, আগামী ১৪ জুন। ‘ই’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ কোত দি ভোয়া ও একুয়েডর।