Published : 30 Jun 2026, 08:40 PM
চোট গত মৌসুমে যতটা ভুগিয়েছে তাতে বিশ্বকাপে নিজের থাকার কোনো সম্ভাবনা দেখেননি রোমেলু লুকাকু। তবুও, চোট থেকে সেরে ওঠায় স্কোয়াডে ডাক পেয়ে যান অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার। এখন দলে যতটা সম্ভব অবদান রাখতে চান তিনি, বদলি হিসেবেও খেলতে নেই কোনো আপত্তি।
ইতালির দল নাপোলির হয়ে গত মৌসুমে সব মিলিয়ে এক ঘণ্টার একটু বেশি সময় খেলার সুযোগ পান লুকাকু। বিশ্বকাপে এরই মধ্যে এর প্রায় দ্বিগুণ সময় খেলে ফেলেছেন তিনি।
শেষ বত্রিশের ম্যাচে বুধবার সেনেগালের মুখোমুখি হবে বেলজিয়াম। এর আগে সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন দেশটির ইতিহাসের সর্বেচ্চ গোলদাতা লুকাকু।
“এখানে থাকতে পেরেই আমি খুশি। আপনারা যদি আমার মৌসুমের দিকে তাকান, সেটা যেভাবে গেছে, তাতে স্বাভাবিকভাবে আমার বিশ্বকাপে থাকারই কথা না।”
“তাই আমার জন্য, এখানে থাকা, খেলা, দলকে সাহায্য করা, পার্থক্য গড়ে দেওয়া- দারুণ ব্যাপার। তাই হ্যাঁ, সবাই যেমন বলে, পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া।”
৩৩ বছর বয়সী লুকাকুকে দেখে বোঝা যায় যে, শতভাগ ফিটনেস নেই তার। কিন্তু এরপরও ১২১ মিনিট খেলে একটি গোল করেছেন তিনি, অবদান রেখেছেন আরেকটি গোলে।
মিশরের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল বেলজিয়াম। যখন মনে হচ্ছিল, কোন কিনারা পাচ্ছে না তারা, তখন মাঠে নামেন লুকাকু। স্কোরলাইনে সমতা ফেরানো মিশরের আত্মঘাতী গোলের পেছনে মূল ভূমিকা ছিল তারই।
ইরানের বিপক্ষে শুরুর একাদশে ফেরেন তিনি। এক ঘণ্টার একটু বেশি সময় খেলেন। পরে বদলি নেমে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করেন তিনি, গোলে অবদানও রাখেন। গ্রুপ সেরা হয়ে নকআউট পর্বে যায় বেলজিয়াম।
লুকাকু মনে করেন, বদলি নামায় বেশ সুবিধা পাচ্ছেন তিনি।
“আমার প্রচুর সময় থাকছে কোথায় ফাঁকা জায়গা আছে বিশ্লেষণ করার। এরপর, আমি কেবল সেখানে ছুটে যাওয়ার এবং আরও বেশি কিছু করার চেষ্টা করি।”
“আমি মনে করি, যখন আপনি বদলি খেলোয়াড়ের তালিকায় থাকবেন, তখন বেঞ্চে থাকা অন্য খেলোয়াড়দের সঙ্গে মাঠের খেলায় মনোযোগ দিতে হবে।”
বেলজিয়ামের সোনালী প্রজন্মের শেষ সদস্যদের একজন লুকাকু। কোচ রুডি গার্সিয়ার ভাষায় ‘মুরুব্বি।’ তারা যে আভাস দিয়েছিলেন, সেটা বাস্তবানের সুযোগ আছে এখনও। সেই পথে এগিয়ে যেতে সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সতীর্থদের বাইরের কথায় কান দিতে মানা করলেন লুকাকু।
“দক্ষতার দিক থেকে তারা খুব ভালো দল। কৌশলের দিক থেকে তারা খুব শক্তিশালী। শারীরিক শক্তির বিচারে তারা পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।”
“আমি ড্রেসিং রুমে বলেছি, লড়াইটা হবে ৫০-৫০। এখন দেখা যাক, ম্যাচে কী হয়।”