Published : 12 Jun 2026, 11:17 AM
বিশ্বকাপে উদ্বোধনী ম্যাচের গেরো অবশেষে কাটাতে পারল মেক্সিকো। অষ্টম চেষ্টায় জিততে পারল কোনো আসরের প্রথম ম্যাচ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে স্বাগতিকদের জয়ের নায়ক রাউল হিমেনেস। সারা জীবন এমন মুহূর্তের জন্যই অপেক্ষায় ছিলেন তিনি, কয়েক বছর আগে যা মনে হচ্ছিল অসম্ভব।
দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ হারিয়ে বিশ্বকাপে শুভ সূচনা করেছে মেক্সিকো। শুরুতে হুলিয়ান কিনোনেস দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর, দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়িয়েছেন হিমেনেস।
২০২০ সালের নভেম্বরে মাথায় মারাত্মক চোট পান হিমেনেস। চিড় ধরে খুলিতে। খেলার মাঠে সেদিন মারাও যেতে পারতেন তিনি। এর প্রায় ছয় বছর পর হেডে গোল করে দলকে ৩ পয়েন্ট এনে দিলেন তিনি।
রবের্তো আলভারাদোর ক্রসে হেডে বল জালে পাঠিয়ে পাগলাটে উদযাপন করেন হিমেনেস। পরে আকাশের দিকে ইঙ্গিত করেন, হয়তো গত মার্চে মারা যাওয়া বাবা রাউল হিমেনেস ভেগাকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছিলেন তিনি।
৮০ হাজার দর্শকের বেশিরভাগই ছিলেন মেক্সিকান। ক্ষ্যাপাটে উদযাপন শুরু করেন তারা। মেক্সিকোর খেলোয়াড়রা দল বেঁধে ঝাঁপিয়ে পড়েন উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্স স্ট্রাইকারের উপর। তার চোখে তখন ছিল জল।
দলকে এগিয়ে নেওয়া কিনোনেস পরে বললেন ওই উদযাপন নিয়ে।
“আমরা সবাই তাকে অভিন্দন জানিয়েছি, কারণ সে আমাদের দলকে অনেক কিছু দিয়েছে। তাকে দলে পেয়ে আমরা গর্বিত। এটা চমৎকার ব্যাপার যে, সে এখনও আমাদের জাতীয় দলের হয়ে গোল করে চলেছে।”
মেক্সিকোর হয়ে ১২৫ ম্যাচে ৪৬ গোল করলেন হিমেনেস। দেশের হয়ে তার চেয়ে বেশি গোল করেছেন কেবল হাভিয়ের এর্নান্দেস, ৫২টি।
মাঠে নামার সময়ই ক্যারিয়ারের নতুন অর্জন ধরা দেয় হিমেনেসের হাতে। প্রথমবার বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে শুরুর একাদশে খেললেন তিনি। ২০১৪ আসরে একটি, ২০১৮ আসরে দুটি এবং ২০২২ আসরে তিনটি ম্যাচে তিনি খেলেন বদলি হিসেবে।
মেক্সিকোর ক্লাব আমেরিকায় আলো ছড়িয়ে আতলেতিকো মাদ্রিদ, বেনফিকায় খেলে ২০১৮-১৯ মৌসুমে ধারে উলভারহ্যাম্পটনে খেলেন হিমেনেস। প্রিমিয়ার লিগে ১৩ গোল করে পরের মৌসুমে সেই সময়ের ক্লাব রেকর্ডে পাকাপাকিভাবে থেকে যান তিনি। ওই মৌসুমে করেন ১৭ গোল।
তার জীবন পাল্টে যায় ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর।
দুর্ঘটনাবশত আর্সেনাল ডিফেন্ডার দাভিদ লুইসের সঙ্গে মারাত্মক সংঘর্ঘ হয় হিমেনেসের। এতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি।
সতীর্থ, কোচ, স্বজনরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখছিলেন, তিনি বেঁচে আছেন কিনা। মাঠেই অক্সিজেন দেওয়া হয় তাকে।
সেরে ওঠার পথ ছিল মন্থর, অন্য খেলোয়াড়দের সঙ্গে অনুশীলনের জন্য তাকে অপেক্ষা করতে হয় ছয় মাস। উলভারহ্যাম্পটনের হয়ে ফের মাঠে নামতে তাকে অপেক্ষা করতে হয় আট মাস। চোট থেকে ফিরে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে সাউথ্যাম্পটনের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানের জয়ে করেন একমাত্র গোল।
তাকে নিয়ে শঙ্কা কেটে যাওয়ার পর তৈরি হয়েছিল সংশয়। এখনও আগের মতো ধারাল থাকবেন তিনি? সেই সংশয়ও পরে দূর করেন তিনি। এখন পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগে ২৩৩ ম্যাচ খেলে করেছেন ৬৮ গোল। মাথায় ফের চোট এড়াতে এখন খেলছেন হেডব্যান্ড পরে। সেই ভয়াল স্মৃতি মনে রেখেই তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন মেক্সিকোর সর্বকালের সেরা গোলদাতা হওয়ার পথে।