‘ট্র্যাজিক কিছু ঘটতে পারত’, মারাকানার স্ট্যান্ডে মারামারি নিয়ে বললেন মেসি

দুই পক্ষের সমর্থকদের মারামারি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের লাঠিচার্জ, মারাকানার গ্যালারিতে সুপার ক্লাসিকোর আগের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা মানতে পারছেন না আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Nov 2023, 10:32 AM
Updated : 22 Nov 2023, 10:32 AM

ব্রাজিলের জাতীয় সঙ্গীত চলার সময় স্ট্যান্ডে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে শুরু হলো তুমুল মারামারি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে লাঠিচার্জ করল পুলিশ। সব মিলিয়ে সুপার ক্লাসিকোর আগে মারাকানার স্ট্যান্ড যেন হয়ে উঠল রণক্ষেত্র। পরিস্থিতি শান্ত করতে স্ট্যান্ডের দিকে সতীর্থদের নিয়ে ছুটে গিয়েছিলেন লিওনেল মেসিও। ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে তিনি উদ্বেগ জানালেন ম্যাচ শেষে। বললেন, ওই সময় বড় কোনো দুঃখজনক ঘটনাও ঘটে যেতে পারত স্ট্যান্ডে।

রিও দে জেনেইরোর ঐতিহ্যবাহী মারাকানা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল সাড়ে ছয়টায় শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইয়ের ম্যাচটি। মারামারির কারণে প্রায় আধ ঘণ্টা পর ম্যাচ শুরু হয়।

নিকোলাস ওতামেন্দির দ্বিতীয়ার্ধের একমাত্র গোলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে হারায় আর্জেন্টিনা।

আর্জেন্টিনার জয়ের চেয়ে ওই মারামারি নিয়েই যেন আলোচনা হচ্ছে বেশি।  চলছে কারণ অনুসন্ধান। আর্জেন্টাইন সমর্থকদের দায় দেওয়া হচ্ছে। মেসির দাবি, ওই স্ট্যান্ডে ছিলেন খেলোয়াড়দের পরিবার ও বন্ধুরা। মারামারি থেকে পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবদের রক্ষা করতে মেসিরা সেখানে গিয়েছিলেন, পরে মাঠ ছেড়ে লকার রুমে চলে যাওয়ার কারণও জানালেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।

“ঘটনাটা খুব খারাপ ছিল, কেননা, আমরা দেখলাম তারা কিভাবে মানুষগুলোকে মারছিল। লিবের্তাদোরেসের ফাইনালে যেমনটা হয়েছিল, আমরা আবারও দেখলাম সেভাবেই নাইট স্টিকস (লাঠি) দিয়ে পুলিশ পেটাচ্ছিল। আমরা লকার রুমে চলে গিয়েছিলাম, কেননা, সবকিছু শান্ত করতে এটাই সেরা উপায় ছিল। ট্র্যাজেডি দিয়ে এই ঘটনা শেষ হতে পারত।”

“পরিবারের লোকজনদের নিয়ে ভাবছিলাম, যারা স্ট্যান্ডে ছিলেন। কী ঘটছে বুঝতে পারছিলাম না এবং ম্যাচটা খেলার চেয়ে এগুলো নিয়ে বেশি ভাবছিলাম আমরা। ওই সময় ম্যাচ খেলা গৌণ হয়ে পড়েছিল, ওই ঘটনা ছিল মূখ্য বিষয়।”

আসলে স্ট্যান্ডে কী হয়েছিল? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর মেলেনি এখনও। আর্জেন্টিনার গণমাধ্যমের দাবি, পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে তাদের সমর্থকদের উপর। বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দুই পক্ষের মারামারির সূত্রপাত জাতীয় সঙ্গীত চলার সময় একটি গোলপোস্টের পেছনের স্ট্যান্ডে।

কিছু সমর্থক সিট উপড়ে ফেলে ছুঁড়তে শুরু করেন প্রতিপক্ষের দিকে, পুলিশের দিকে। কেউ কেউ সেখান থেকে পালাতে ঢুকে পড়েন মাঠে। পুলিশ ব্যাটন হাতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উপর চড়াও হন।

আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় ও ব্রাজিল দলের কয়েকজন পরিস্থিতি শান্ত করতে ছুটে যান স্ট্যান্ডের দিকে। আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসকে দেখা যায়, এক পুলিশ অফিসারের হাত থেকে ব্যাটন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে।

এরপর সতীর্থদের নিয়ে মাঠ ছাড়েন মেসি। আর্জেন্টিনা সমর্থকদের পৃথক আরেকটি স্ট্যান্ডে আলাদাভাবে বসার বন্দোবস্ত করে পুলিশ। তাতে পরিস্থিতি শান্ত হয়। আঘ ঘণ্টা পর শুরু হয় ম্যাচ।

কিছুদিন আগেও গ্যালারিতে একই কাণ্ড হয়েছিল। লিবের্তাদোরেসের ফাইনালে ব্রাজিলের ক্লাব ফ্লুমিনেন্স ও আর্জেন্টিনার ক্লাব বোকা জুনিয়র্সের সমর্থকদের মধ্যে বেধে গিয়েছিল। ওই ম্যাচটিও রিও দে জেনেইরোর এই মারাকানা স্টেডিয়ামেই হয়েছিল।

এদিন মেসি ও তার সতীর্থদের সঙ্গে ব্রাজিল অধিনায়ক মার্কিনিয়োসও ছুটে গিয়েছিলেন স্ট্যান্ডের দিকে। সেখানে যে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, বললেন মার্কিনিয়োসও।

“আমরা (সেখানে থাকা) পরিবার, মহিলা এবং শিশুদের নিয়ে চিন্তিত ছিলাম। কেননা, আমরা দেখছিলাম স্ট্যান্ডে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।”

“সেখানে কী ঘটছিল, মাঠ থেকে বোঝা আমাদের জন্য কঠিন ছিল। খুবই ভীতিকর পরিস্থিতি ছিল।”