Published : 20 Jul 2023, 03:48 PM
দুই বছর আগে লিওনেল মেসিকে পেয়ে পিএসজি যেন স্বপ্নপূরণের হাতিয়ার পেয়ে গিয়েছিল। নেইমার ও কিলিয়ান এমবাপের সঙ্গে মিলে গড়ে উঠেছিল ইর্ষণীয় এক আক্রমণত্রয়ী। তাদের কাঁধে চড়ে অধরা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল ক্লাবটি ঘিরে সবাই। সময়ের সঙ্গে সেই স্বপ্ন মিলিয়ে গেছে হাওয়ায়। প্রত্যাশার প্রতিফলন মাঠের পারফম্যান্সে ফেলতে পারেনি ওই ত্রয়ী।
ফুটবল বিশ্বের তিন সেরা ফরোয়ার্ডকে নিয়ে কাগজে-কলমে সবচেয়ে সেরা আক্রমণভাগ গড়েও সাফল্য না মেলায় নিশ্চিতভাবেই হতাশার শেষ নেই পিএসজির। ইউটিউব চ্যানেল ‘কি পাপিনিয়ো’-তে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এর কারণটাই ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করলেন নেইমার।
ইউরোপ সেরার মঞ্চে গত দুই মৌসুমেই চরম ব্যর্থ হয় দলটি; দুবারই বিদায় নেয় নকআউট পর্বের শুরুতে। ঘরোয়া ফুটবলে শিরোপার দেখা পেলেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দল ভালো করতে না পারায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে সমর্থকরা। ক্যারিয়ারে আগে কখনও যে অভিজ্ঞতা হয়নি মেসির, পিএসজিতে এসে সেই তেতো স্বাদও পেয়ে যান, শুনতে হয় নিজের ক্লাব সমর্থকদের দুয়ো।
অমন বিরূপ পরিস্থিতিতে পিএসজিতে আর থাকতে চাননি আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। চুক্তি না বাড়িয়ে পাড়ি জমিয়েছেন ইন্টার মায়ামিতে।
এমন তিন জন তারকাকে নিয়ে গড়া আক্রমণত্রয়ী কেন সফল হলো না, সেই প্রশ্ন আছে অনেকের মনেই। নেইমার চেষ্টা করলেন উত্তর খোঁজার। উদাহরণ হিসেবে টেনে আনলেন তিনি এই শতাব্দীর শুরুর দিকের রিয়াল মাদ্রিদকে, তারকায় ঠাসা যে দল পরিচিতি ‘গ্যালাকটিকোস’ নামে।
“ফুটবল এমনই। গ্যালাকটিকোস চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে পারেনি। এটা ফুটবলেরই অংশ। আমাদের খুব শক্তিশালী একটা দল ছিল। আমি, মেসি ও এমবাপে- আমরা বিশ্বের সেরা তিন ফুটবলার, এটা আমরা জানি, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তা কার্যকর হয়নি। আমাদের জন্য যা ফল দেয়নি।”
“অবশ্যই আমরা সবকিছু জিততে চেয়েছিলাম। লকার রুমে আমরা সবাই ঘনিষ্ঠ ছিলাম। কিন্তু ফুটবলে সবসময় সবকিছু ঠিকমতো হয় না। এটা কেক তৈরির রেসিপির মতো নয়।”
পিএসজিতে নেইমার ও এমবাপের ভবিষ্যৎ নিয়েও নানারকম গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড অনেক প্রত্যাশা নিয়ে প্যারিসের দলটিতে যোগ দিলেও গত পাঁচ বছরে আকাশছোঁয়া আশার অনেকটাই পূরণ করতে পারেননি। বিশ্বকাপজয়ী ফরাসি তারকা ধারাবাহিক উজ্জ্বল পারফরম্যান্সে দলের মূল খেলোয়াড় হয়ে উঠলেও নতুন চুক্তি করতে রাজি না হওয়ায় তাকে এই দলবদলেই বিক্রি করে দিতে চায় ক্লাব।