১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

গুরুতর অপরাধের মূলে মাদক আর জুয়া: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

“পুরোনো আইনের পাশাপাশি সময়ের চাহিদা অনুযায়ী নতুন আইন প্রণয়ন ও বিদ্যমান আইন সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে।"

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 16 Sep 2026, 04:27 PM

Updated : 16 Sep 2026, 04:27 PM

দেশে র্ব্তমানে যেসব অপরাধ ঘটছে, সেসবের পেছনে মাদক আর জুয়াকে অন্যতম মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরে তা ঠেকাতে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "শুধু অপরাধ সংঘটনের পর অপরাধীকে গ্রেপ্তার, বিচার ও শাস্তি দিলেই অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অপরাধ কেন সংঘটিত হচ্ছে, তার মূল কারণ খুঁজে বের করে তা মোকাবিলা করতে হবে।

“অনেক গুরুতর অপরাধের পেছনে গবেষণায় মাদকাসক্তি ও জুয়ার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়।"

বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন- ক্র্যাবের ৪৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে কথা বলছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেগুন বাগিচায় রিপোর্টার্স ইউনিটি - ডিআরইউ'রল শফিকুল কবীর মিলনায়তনে বুধবার ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মূল কারণ চিহ্নিত করে সেখানে ব্যবস্থা নিলে অপরাধের হার কমানো সম্ভব জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "জুয়া ও মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনা গেলে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অপরাধও কমানো সম্ভব।"

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায়, বর্তমানে অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।

"ডিজিটাল ও সাইবার স্পেসে অপরাধের বিস্তার বাড়ায় অপরাধ শনাক্তকরণে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা ও তথ্য বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।"

পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে শিগগিরই আধুনিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং বিভাগীয় পর্যায়ে আধুনিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট ও ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

অপরাধের ধরন পরিবর্তন হওয়ায় আইনও পরিবর্তন করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

"পুরোনো আইন দিয়ে নতুন ধরনের অপরাধ মোকাবিলা সবসময় সম্ভব হয় না। পুরোনো আইনের পাশাপাশি সময়ের চাহিদা অনুযায়ী নতুন আইন প্রণয়ন ও বিদ্যমান আইন সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে।"

এক্ষেত্রে তিনি অনলাইন ও সাইবার স্পেসে জুয়ার বিস্তারের বিষয় তুলে ধরেন।

"কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে আইন দুর্বল হলে আসামিকে গ্রেপ্তারের পরেও দ্রুত জামিন বা মুক্তির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই অপরাধের ধরন ও সমাজের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার করা প্রয়োজন।"

তিনি ক্রাইম রিপোর্টারদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

অনুষ্ঠানে ক্রাইম রিপোর্টারদের কাজের স্বীকৃতি হিসাবে সনদ দেওয়ার বিষয় ছাড়াও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে রিপোর্টিং ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে সনদ দেওয়া যায় কি না, সেই বিষয়টি যাচাই করে দেখার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) মো. রাশেদ খাঁন আগামী দিনে কর্মসূচি পালনের আগে সরকারে সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীকে আলোচনা করার প্রস্তাব দেন।

তিনি বলেন, "আগামীতে জামায়াতের যে লংমার্চ হবে তার আগে সরকারে সাথে আলোচনা করার সুযোগ রয়েছে।"

অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার-মিডিয়ার এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ের সভাপতি শহীদুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।