২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

‘আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করো না’, খেলোয়াড়দের প্রতি মরিনিয়ো

খেলোয়াড়দের পেশাদারিত্ব ও জীবনযাপন নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন রেয়াল মাদ্রিদ কোচ।

‘আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করো না’, খেলোয়াড়দের প্রতি মরিনিয়ো

কোচ ও খেলোয়াড়দের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার গুরুত্ব তুলে ধরলেন জুজে মরিনিয়ো।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 25 Sep 2026, 10:42 PM

Updated : 25 Sep 2026, 10:42 PM

নিজের কোচিং দর্শনের কথা তুলে ধরে খেলোয়াড়দের পেশাদারিত্ব ও জীবনযাপন নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন জুজে মরিনিয়ো। রেয়াল মাদ্রিদ কোচের স্পষ্ট উচ্চারণ-কোনো খেলোয়াড় প্রতারণার আশ্রয় না নিলে সবসময়ই তার পাশে থাকবেন তিনি।

দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোচ মরিনিয়ো রেয়ালকে সাফল্যের পথে ফেরানোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে এই মৌসুমে সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে ফিরে এসেছেন। ইউরোপের সফলতম ক্লাবটি গত দুই মৌসুমে কোনো বড় শিরোপা জিততে পারেনি এবং গত মৌসুমে শাবি আলোন্সো ও আলভারো আরবেলোয়া-এই দুই কোচকে বরখাস্ত করে তারা।

দ্বিতীয় দফায় রেয়ালে ফেরার পর মরিনিয়োর শুরুটা বেশ কঠিন হয়েছে। লা লিগায় সাত রাউন্ড শেষে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে তার দল ৬ পয়েন্ট পিছিয়ে আছে এবং সবশেষ ম্যাচে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে হেরেছে।

এখন চলছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের বিরতি। ‘বেট ইট ড্রাইভস শো’-তে কোচ ও খেলোয়াড়দের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার গুরুত্ব তুলে ধরলেন মরিনিয়ো।

“আমি তাদের বলি, ‘আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করো না’, যখন আমি এটা বলি, তখন অবশ্যই ফুটবলের প্রসঙ্গেই বলছি। আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করো না, তাহলে আমি সবসময়ই তোমার পাশে থাকব-পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন।”

২০২৫-২৬ মৌসুমে মাঠের বাইরের নানা ঘটনায় আলোচনায় ছিল রেয়াল। খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলা নিয়ে উঠেছিল প্রশ্ন। যার মধ্যে রয়েছে অহেলিয়া চুয়ামেনি ও ফেদেরিকো ভালভের্দে মারামারির ঘটনা, এর জেরে ভালভের্দেকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল।

খেলোয়াড়দের কোনটা করা উচিত আর কোনটা উচিত নয়, বললেন মরিনিয়ো।

“একজন ফুটবলার ২৪ ঘণ্টাই ফুটবলার-বিষয়টা আসলে এমনই। একজন হয়তো দিনে দুই বা তিন ঘণ্টা অনুশীলন করে, কিন্তু ২৪ ঘণ্টাই সে একজন ফুটবলার। ক্লাবের বাইরে সে কী খাচ্ছে বা পান করছে, কীভাবে ঘুমাচ্ছে, এমনকি তার ব্যক্তিগত জীবনের নানা বিষয়ও- তার কাজের ওপর সবকিছুই প্রভাব ফেলে।”

“দুর্ভাগ্যবশত, একজন ফুটবলার স্কি বা সাইক্লিং করতে পারে না; যদি তারা তা করে-কেউ কেউ তো ক্লাবের অগোচরে এসব করে থাকে... আমার কাছে চুক্তির শর্তের চেয়েও বড় বিষয় হলো কাজের প্রতি একজনের দৃষ্টিভঙ্গি। সাইকেল থেকে পড়ে গেলে হয়তো সে তিনটি ম্যাচ খেলতে পারবে না, অথবা আরও খারাপ কিছু ঘটতে পারে: পা ভেঙে যেতে পারে কিংবা এমন কোনো চোট পেতে পারে যা তাকে সেরাটা দেওয়া থেকে বিরত রাখবে।

এ নিয়ে নিজের আরও বিস্তারিত ভাবনা তুলে ধরে টেনিস কিংবদন্তি রাফায়েল নাদালের একটি উদাহরণও দিলেন পর্তুগিজ কোচ।

“একজন ফুটবলার হতে হলে অনেক কিছুই বিসর্জন দিতে হয়। তবে দিন শেষে, খেলোয়াড়ী জীবনটা কিন্তু সংক্ষিপ্ত। পঁয়ত্রিশের কোঠায় পৌঁছানোর পর জীবনের অন্যান্য দিক উপভোগ করার জন্য ওই খেলোয়াড়ের সামনে আরও অনেক বছর পড়ে থাকে। কিন্তু ফুটবল আসলে কেবল কোনো পেশা নয়, এটা একটি জীবনধারা। কেউ যদি এটাকে কেবল শখ হিসেবে দেখে, তাহলে তার ক্যারিয়ার শেষ। দিনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা নিজেকে ফুটবলার ভাবলে সে কখনোই সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছাতে পারবে না।

“সম্প্রতি রাফা নাদালের ওপর একটি তথ্যচিত্র দেখেছি। তিনি অবশ্য ফুটবলার নন; তবে নিঃসন্দেহে একজন অসাধারণ ক্রীড়াবিদ। এমন ক্যারিয়ার গড়ার জন্য তিনি যা কিছু বিসর্জন দিয়েছেন এবং যেসব ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তা সত্যিই বিস্ময়কর। দিন শেষে আপনি যা অর্জন করেন এবং তা অর্জনের জন্য যা কিছু উৎসর্গ করেন- দুটোর মধ্যে সবসময়ই একটি গভীর সম্পর্ক থাকে।”