বাংলাদেশের হয়ে খেলার ‘ইচ্ছা’ হামজার

ইংল্যান্ড ও গ্রানাডার হয়েও খেলার সুযোগ আছে ২৪ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারের।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 13 Sept 2022, 10:12 AM
Updated : 13 Sept 2022, 10:12 AM

অনূর্ধ্ব-২১ ফুটবলে প্রতিনিধিত্ব করেন ইংল্যান্ডের। পরে এই দেশটির হয়েই আন্তর্জাতিক ফুটবলে খেলতে চাওয়ার কথা বলেন হামজা চৌধুরি। তবে সেই ভাবনা বাস্তবায়নের দিকে যায়নি খুব একটা। আরও দুটি দেশের জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ আছে ২৪ বছর বয়সী এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের। এর মধ্যে একটু এগিয়ে বাংলাদেশ। সেকারণে হয়তো কোনো একদিন মায়ের দেশের হয়ে খেলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিলেন না হামজা।   

বাংলাদেশি মা ও গ্রানাডিয়ান বাবার সন্তান হামজার জন্ম, বেড়ে ওঠা, ফুটবল আঙিনায় পা রাখা; সবই ইংল্যান্ডে। ১৬ বছর বয়সে যোগ দেন লেস্টার সিটির একাডেমিতে। এই ক্লাবের হয়েই শুরু হয় তার পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার। 

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা একমাত্র ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ফুটবলার হামজা। ২০১৮ সালে ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে অভিষেক হয় তার। ইংল্যান্ডের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও গ্রানাডার হয়েও আন্তর্জাতিক ফুটবলে খেলার সুযোগ আছে তার। তবে সুযোগ পেলে ইংল্যান্ডের হয়েই খেলতে চাওয়ার কথা বলেছিলেন। পারফরম্যান্স দিয়ে এখনও সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হয়ে খেলার দাবি জানাতে পারেননি তিনি।

 ইংলিশ পেশাদার ফুটবল খেলা প্রথম ব্রিটিশ-বাংলাদেশি আনোয়ার উদ্দিনের সঙ্গে সম্প্রতি নিজের ক্যারিয়ারের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন হামজা। সেই সাক্ষাৎকারেই তিনি এবার বললেন, বাংলাদেশের হয়ে খেলতে পারা তার জন্য হবে গর্বের ও সম্মানের।

 “হ্যাঁ, আমি অবশ্যই তেমনটা (বাংলাদেশের হয়ে খেলা) চিন্তা করি।”

 “আগামী কয়েক বছরে (এখানে) আমি কতটা ভালো করতে পারি সেটা দেখতে চাই। তবে আমি আরও বেশি গর্বিত ও সম্মানিত হব বাংলাদেশের হয়ে খেলতে পারলে…।”

 মুসলিম ক্রীড়াবিদদের গ্রুপ নুজুম স্পোর্টসের দূত করা হয়েছে লেস্টার সিটি থেকে ধারে ওয়াটফোর্ডে যোগ দেওয়া হামজাকে। আনোয়ার উদ্দিনকে তিনি বললেন, তার প্রাপ্তিতে বাংলাদেশে যে প্রভাব পড়ত তা চমকে দিত তাকেও।

 “আমি আসলে বুঝতে পারিনি এর প্রভাব কতটা হতে পারে, যতক্ষণ না পর্যন্ত একের পর এক বার্তা আসতে শুরু করল। আমার মা প্রায়ই সারা রাত জেগে থাকতেন, কারণ বাংলাদেশ থেকে আমার খালা ও কাজিনরা কল করত।”

 “একজন পেশাদার ফুটবলার, বিশেষ করে একজন দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলার হিসেবে কতটা সমর্থন পাচ্ছি, এসব বিষয়ে আমার চোখ খুলে দিয়েছে।”

 বাংলাদেশে হামজার শেকড় সিলেটে। এই অঞ্চলের সঙ্গে দৃঢ় সংযোগ অনুভব করেন বলে জানান তিনি। সন্তানদের নিয়ে বাংলাদেশে কিছুটা সময় কাটানোর জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন এই ফুটবলার।

 “সম্ভবত শীতের ছুটিতে আমি বাংলাদেশে যাব, দেখি কতদিন বন্ধ থাকে (কাতার বিশ্বকাপের কারণে)। সন্তানদের সেখানে নিয়ে যেতে চাই। কারণ আমার শৈশবের কিছুটা তাদের দিতে চাই। আমার এক বছর বয়স থেকে আমরা প্রায়ই বাংলাদেশে যেতাম, যা ছিল ভিন্ন এক অনুভূতি।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক