হলান্ডের অ্যাক্রোবেটিক গোলে ক্রুইফকে মনে পড়ছে গুয়ার্দিওলার

বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে আর্লিং হলান্ডের শেষের ব্যবধান গড়ে দেওয়া গোলটির প্রশংসায় কিংবদন্তির কথা টানেন ম্যানচেস্টার সিটি কোচ।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 15 Sept 2022, 10:01 AM
Updated : 15 Sept 2022, 10:01 AM

বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে আর্লিং হলান্ডের প্রথম ৮০ মিনিটের পারফরম্যান্সই প্রমাণ করে, যে ছন্দে ছিলেন না তিনি। তবে দলের খুব প্রয়োজনীয় মুহূর্তে নিজেকে ঠিকই খুঁজে পেলেন তিনি। করলেন চমৎকার গোল। তরুণ শিষ্যের যে গোল ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গুয়ার্দিওলাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে কিংবদন্তি ইয়োহান ক্রুইফকে।

 চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বুধবার রাতে ‘জি’ গ্রুপের ম্যাচে হলান্ডের ৮৪তম মিনিটের ওই গোলেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সিটি।

 ওই গোলের আগ পর্যন্ত প্রায় পুরোটা সময় নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন হলান্ড। নরওয়ের বিধ্বংসী এই স্কোরারকে আটকে রাখায় প্রশংসার দাবি রাখে ডর্টমুন্ডও। পুরো ম্যাচে মাত্র ২৬ বার বলে ছোঁয়া লাগে তার, দুই দল মিলিয়ে যা সবচেয়ে কম। তারপরও শেষের নায়ক তিনিই। 

ম্যাচের তিনটি গোলই হয় দ্বিতীয়ার্ধে। বিরতি থেকে ফেরার কিছুক্ষণ পর জুড বেলিংহাম ডর্টমুন্ডকে এগিয়ে নেওয়ার পর ৮০তম মিনিটে সমতা টানেন জন স্টোনস। এর চার মিনিট পরই ওই দুর্দান্ত গোল। 

গোলটির পেছনে অনেক বড় অবদান আছে জোয়াও কানসেলোর দুর্দান্ত পাসে। বুটের পাশ দিয়ে অসাধারণ এক ক্রস বাড়ান এই পর্তুগিজ ডিফেন্ডার। বল হাওয়ায় বাঁক খেয়ে ডি-বক্সে খুঁজে নেয় হলান্ডকে। আর প্রতিপক্ষের দুই খেলোয়াড়ের মাঝে লাফিয়ে ভলিতে বল জালে পাঠান ২২ বছর বয়সী তারকা। 

সিটির জার্সিতে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৯ ম্যাচে তার গোল হলো ১৩টি। এর মধ্যে সেরার প্রশ্নে অনেকের চোখে হয়তো এটাই এগিয়ে থাকবে।

ম্যাচের পর কোচ গুয়ার্দিওলা আরও একবার দলে নতুন যোগ হওয়া এই খেলোয়াড়ের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। আর তার গোলের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে টানেন ডাচ কিংবদন্তির কথা।

 “কী চমৎকার গোল! আমার মনে পড়ে, অনেক দিন আগে বার্সেলোনায় ইয়োহান ক্রুইফ আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ঠিক এরকমই একটা গোল করেছিলেন। ইয়োহান ক্রুইফের গোলটির মতো গোল করেছে হলান্ড, দারুণ।”

“যারা আমাকে চেনে -তারা জানে যে ব্যক্তি জীবনে আমার ওপর ক্রুইফের প্রভাব কতখানি, তিনি ছিলেন আমার মেন্টর ও ম্যানেজার। অনেক বছর আগে তিনি কাম্প নউয়ে আতলেতিকোর বিপক্ষে একটা গোল করেছিলেন, যেটা প্রায় হলান্ডের এই গোলটার মতো। হলান্ড গোলটা করা মাত্র আমার ক্রুইফকে মনে পড়েছিল।” 

১৯৭৩ সালে আতলেতিকোর বিপক্ষে গোলটি করেছিলেন ক্রুইফ। সতীর্থের ক্রস পেয়ে বুক সমান উঁচুতে লাফিয়ে দুরূহ কোণ থেকে লক্ষ্যভেদ করেছিলেন ডাচ কিংবদন্তি।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অভিষেকের পর থেকেই ছুঁটছেন হলান্ড। প্রতিযোগিতাটিতে তার ২৬ গোল হয়ে গেল ২১ ম্যাচেই।

তার কাঁধে ভর করে সিটিও অধরা স্বপ্ন পূরণের পথে দারুণ শুরু পেয়েছে। টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে আছে গুয়ার্দিওলার দল।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক