দুর্বার বার্সেলোনার জয়রথ ছুটছেই
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুটিসহ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১০ ম্যাচের সবকটি জিতল হান্সি ফ্লিকের দল।
ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আক্রমণে দাপট দেখাল বার্সেলোনা। আচমকা গোল হজমের ধাক্কা সামলে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন পেদ্রি, লামিন ইয়ামালরা। গালাতাসারাইকে উড়িয়ে মৌসুমে শতভাগ জয়ের ধারা ধরে রাখল হান্সি ফ্লিকের দল।
প্রতিপক্ষের মাঠে মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচটি ৪-১ গোলে জিতেছে বার্সেলোনা।
বেত্রাকফের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর, প্রথমার্ধেই সমতা টানেন জুয়াও কান্সেলো। দ্বিতীয়ার্ধে একে একে জালের দেখা পান ফের্মিন লোপেস, অ্যান্থনি গর্ডন ও কারিম আডেইয়েমি। নিজে গোল না পেলেও চমৎকার দুটি অ্যাসিস্ট করেন ইয়ামাল।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুটি ও লা লিগায় আটটি, চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে প্রথম ১০ ম্যাচেই জিতল স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা।
আর এই ১০ ম্যাচে তারা গোল করল মোট ৪৩টি!
ইউরোপ সেরার মঞ্চে প্রথম ম্যাচে ফ্লিকের দল ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল ডাচ ক্লাব ফাইনর্টকে।
দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে বার্সেলোনা।
গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে ৭১ শতাংশ পজেশন রেখে গোলের জন্য ২২ শট নিয়ে ১১টি লক্ষ্যে রাখতে পারে বার্সেলোনা। তুরস্কের দলটির পাঁচ শটের তিনটি লক্ষ্যে ছিল।
শুরু থেকে যথারীতি বল দখলে রেখে খেলতে থাকে বার্সেলোনা। সপ্তম মিনিটে প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ পায় তারা। পেদ্রির থ্রু বল ধরে দানি ওলমোর শট এগিয়ে এসে রুখে দেন গোলরক্ষক। যদিও অফসাইডের পতাকা তোলেন লাইন্সম্যান। তবে রিপ্লেতে দেখা যায়, অনসাইডে ছিলেন ওলমো।
ষোড়শ মিনিটে আরেকটি ভালো সুযোগ পায় বার্সেলোনা। পেদ্রির উঁচু করে বাড়ানো বল দারুণভাবে বুকে নামিয়ে নেন অ্যান্থনি গর্ডন, কিন্তু ঠিকমতো শট নিতে পারেননি এই ইংলিশ উইঙ্গার, সহজেই আটকে দেন গোলরক্ষক। ২৪তম মিনিটে ইয়ামালের ক্রসে বক্সে ছুটে গিয়ে হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি ওলমো।
খেলার ধারার বিপরীতে ২৮তম মিনিটে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। গালাতাসারাইয়ের বক্সে গর্ডন পড়ে গেলে বার্সেলোনা পেনাল্টির আবেদন করলেও রেফারি সাড়া দেননি। পাল্টা আক্রমণে উঠে বাঁ দিক দিয়ে এগিয়ে গিয়ে খাফায়েল লেয়াও বল বাড়ান পেনাল্টি বক্সের মুখে। প্রথম স্পর্শে বেত্রাকফের শট বার্সেলোনা ডিফেন্ডার জুয়াও কান্সেলোর গায়ে লেগে দিক পাল্টে জালে জড়ায়।
তিন মিনিট পরই আবার বার্সেলোনার জালে বল পাঠায় গালাতাসারাই। তবে এ যাত্রায় বেঁচে যায় স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা, ভিএআরের সাহায্যে অফসাইডের সঙ্কেত দেন রেফারি।
৪৩তম মিনিটে সমতায় ফেরে বার্সেলোনা। ডি-বক্সের মুখে প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জে ইয়ামাল পড়ে যাওয়ার পর আলগা বল পায়ের টোকায় বক্সে বাড়ান ওলমো, অফসাইড পজিশনে থাকা গর্ডন সরে গিয়ে সতীর্থের পথ পরিষ্কার রাখেন, আর চমৎকার কোনাকুনি শটে দূরের পোস্ট দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন পর্তুগিজ ডিফেন্ডার কান্সেলো।
দ্বিতীয়ার্ধের দ্বিতীয় মিনিটে সুযোগ হারান গর্ডন। ওলমোর সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে বুটের বাইরের অংশ দিয়ে ক্রস করেন ইয়ামাল। গর্ডন দূরের পোস্টে ছুটে এলেও ছয় গজের কম দূরত্ব থেকে ভলি লক্ষ্যে রাখতে পারেননি।
৫০ থেকে ৫৩, চার মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ মুঠোয় নেয় বার্সেলোনা। দুটি গোলেই অ্যাসিস্ট করেন ইয়ামাল। প্রথমে তার ক্রসে ছয় গজ বক্সের মুখে হেডে দলকে এগিয়ে নেন লোপেস।
এরপর পেদ্রির পাস ধরে ইয়ামাল বক্সে ঢুকে প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ডান দিকের বাইলাইনের কাছ থেকে বল বাড়ান গর্ডনকে। বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দুরূহ কোণ থেকে শটে জালে পাঠান ইংলিশ তারকা।
বার্সেলোনার হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে অষ্টম ম্যাচে প্রথম গোল করার পরের ম্যাচেই দ্বিতীয়টি করলেন ২৫ বছর বয়সি ফুটবলার। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে টানা ছয় ম্যাচে জালের দেখা পেলেন তিনি।
৫৮তম মিনিটে ওলমো ও গর্ডনকে তুলে গাব্রিয়েল জেসুস ও আডেইয়েমিকে নামান বার্সেলোনা কোচ।
মাঠে নামার সাত মিনিটের মধ্যেই জালের দেখা পান আডেইয়েমি। ইয়ামালের পাস জেসুস নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হলে বক্সে বল পান জার্মান উইঙ্গার। নিচু শটে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি।
৭৬তম মিনিটে আরেকটি সুযোগ পান আডেইয়েমি। এবার বাঁ দিক থেকে পাশের জালে বল মারেন তিনি। ৮৩তম মিনিটে ইয়ামালের পাস থেকে জেসুসের শট ফিরিয়ে ব্যবধান আর বাড়তে দেননি গোলরক্ষক।
