আর্সেনালের ৭ মিনিটের ঝড়ে উড়ে গেল লিল
দ্বিতীয়ার্ধে এক নিমিষেই যেন ভেঙে পড়ে ফরাসি ক্লাবটির সব প্রতিরোধ।
রক্ষণাত্মক ফুটবলে অনেকটা সময় আর্সেনালকে বেঁধে রাখতে পারল লিল। তবে বিরতির পর আর পারল না তারা। বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ল ইংলিশ চ্যাম্পিয়নরা।
এমিরেটস স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে ৩-০ গোলে জিতেছে মিকেল আর্তেতার দল।
ইউরিয়েন টিম্বার দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর, ব্যবধান বাড়ান এবেরেসি এজে। তৃতীয় গোলটি করেন বুকায়ো সাকা।
লড়াই কতটা একপেশে ছিল, তা অন্যান্য পরিসংখ্যানেও পরিষ্কার। ৫৫ শতাংশের বেশি সময় পজেশন রেখে আর্সেনাল গোলের জন্য ১৬টি শট নিয়ে আটটি লক্ষ্যে রাখতে পারে। লিল চারটি শট নিলেও, একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি।
দুই ম্যাচে দুটিতেই জিতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে তিন নম্বরে আছে আর্সেনাল। সমান দুটি করে জয়ে ৬ পয়েন্ট করে নিয়ে গোলের হিসেবে বার্সেলোনা শীর্ষে ও স্পোর্তিং দুইয়ে আছে।
ঢিমেতালে শুরু ম্যাচের ২০তম মিনিটে প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগটি পায় আর্সেনাল। কিন্তু দারুণ পজিশন থেকেও শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি ব্রুনো গিমারাইস। দুই মিনিট পর মিকেল মেরিনোও দলকে হতাশ করেন, ১০ গজ দূর থেকে গোলরক্ষক বরাবর দুর্বল শট নেন তিনি।
কিছুক্ষণের মধ্যে পাল্টা আক্রমণে আর্সেনালের জালে বল পাঠান উয়েদা। তবে এই জাপানিজ স্ট্রাইকার অফসাইডে থাকায় মেলেনি গোল।
বিরতির আগমুহূর্তে ডি-বক্সের বাইরে থেকে শট নেন গিমারাইস, একজনের পায়ে লেগে দিক পাল্টায় বল। গোলরক্ষক ওজের কোনোমতে আটকালেও, বল হাতে রাখতে পারেননি। সুযোগ নিতে ছুটে যান ভিক্তর ইয়োকেরেশ, দ্রুততায় বল বাইরে পাঠান ওজের।
দ্বিতীয়ার্ধেও চাপ ধরে রাখে আর্সেনাল, এবং একটা মুহূর্তে লিলের সব প্রতিরোধ যেন ভেঙে পড়ে। তিন মিনিটে দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় স্বাগতিকরা।
৬৪তম মিনিটে ডান দিকে ননি মাদুয়েকের পাস দারুণ এক ছোঁয়ায় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ফাঁকে একজনকে কাটান টিম্বার, এবং দুরূহ কোণ থেকে জোরাল শটে ঠিকানা খুঁজে নেন এই ডাচ ডিফেন্ডার।
ওই ধাক্কা সামলে নেওয়ার আগেই দ্বিতীয় গোল হজম করে ফরাসি ক্লাবটি। ডান দিক থেকে সাকার পাস ডি-বক্সে প্রতিপক্ষের দুইজনের মাঝে পেয়ে, প্রথম স্পর্শে জোরাল শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন এজে।
প্রথম গোলের পরের মিনিটে একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন আনেন আর্সেনাল কোচ; সাকার সঙ্গে আরও নামেন কাই হাভার্টজ ও মার্টিন ওদেগোর। এই তিন জনের দারুণ বোঝাপাড়ায় ৭১তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ে।
ডি-বক্সে অধিনায়ক ওদেগোর ছোট পাস দেন হাভার্টজকে। এই জার্মান কাটব্যাক করেন সাকাকে এবং নিখুঁত শটে স্কোরলাইনে নাম লেখান ইংলিশ স্ট্রাইকার। ফল নিয়ে সব অনিয়শ্চতাও প্রায় শেষ হয়ে যায়।
