দশরথের গ্যালারিতে ‘এক টুকরো বাংলাদেশ’

নেপালের বিপক্ষে সাবিনা-কৃষ্ণাদের হয়ে গলা ফাটাতে দশরথের গ্যালারিতে এসেছেন বাংলাদেশি সমর্থকরাও।

কাঠমান্ডু থেকে মোহাম্মদ জুবায়েরবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 19 Sept 2022, 11:18 AM
Updated : 19 Sept 2022, 11:18 AM

মাঠের লড়াই শুরুর আগে হয়ে গেল রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরি খেলা। কাঠমান্ডুতে সোমবার দুপুর দেড়টা পর্যন্ত দেখা গেল কাঠফাটা রোদ। এরপরই ঝুম বৃষ্টি। কিন্তু ফুটবল পাগল নেপালের দর্শকদের ঘরে আটকে রাখতে পারেনি বৃষ্টি। ঝাঁকে ঝাঁকে তারা ছুটে এসেছেন দশরথ স্টেডিয়ামে, বাংলাদেশের বিপক্ষে সাবিত্র-অনিতাদের সমর্থন যোগাতে।

স্বাগতিক দলের সমর্থনে গ্যালারিতে ঢল নামাই স্বাভাবিক। তবে বাংলাদেশের সমর্থকও একদম যে নেই, তা নয়। দলে দলে না হলেও নেপালে থাকা বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরাও আসছেন স্টেডিয়ামে সাবিনা-মনিকাদের জন্য গলা ফাটাতে। যদিও গ্যালারিভরা নেপাল সমর্থকদের চিৎকার ভেদ করে তাদের কণ্ঠ সাবিনাদের কানে পৌঁছাবে কিনা, সে প্রশ্ন থাকছেই।

কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে সোমবার মেয়েদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক নেপাল ও বাংলাদেশ। স্থানীয় সময় ৫টায় মাঠে গড়াবে ম্যাচটি। প্রথম শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে নামবে দুই দল।

স্টেডিয়ামের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে হোটেলের লবিতেই দেখা মিলল কামরুল হাসান নামের এক বাংলাদেশের সমর্থকের সঙ্গে। হাতে বাংলাদেশের পতাকা। তিনি বললেন, দলকে অনুপ্রেরণা জোগাতে মাঠে যাবেন।

“মেয়েরা ফাইনালে উঠেছে; তাদেরকে সমর্থন দিতে অবশ্যই মাঠে যাব। শুধু আমি যাচ্ছি না, আমাদের সঙ্গে আরও অনেকেই যাবে।”

বাংলাদেশিদের ছবি তুলতে যাওয়ার সময় হোটেলের তিন কর্মী নেপালের পতাকা নিয়েও হাজির হলেন। ‘কে ফাইনালে জিতবে?’ এই প্রশ্নের জবাবে কিমিং তামাং দিলেন বিস্ময়কর উত্তর, যেখানে দুই বন্ধুপ্রতিম দেশ বাংলাদেশ-নেপালের সম্পর্কের চিত্রটাও ফুটে উঠল।

“ভারতকে হারিয়েই আমরা শিরোপা জিতে ফেলেছি! তোমরাও ওদেরকে হারিয়েছে। আজকের ফাইনালে যেই জিতুক, আমার কাছে কোনো ব্যাপার নয়।”

ভারি বর্ষণে কাঠমান্ডুর রাস্তায় পানি জমেছে। স্টেডিয়াম এলাকায় যানজটও বেশ। ট্যাক্সিচালক সাগর শুরুতে যানজটে বিরক্ত হলেও ম্যাচের প্রসঙ্গ পড়তেই যোগ দিলেন আলোচনায়।

“বৃষ্টি হোক আর যাই হোক, নেপালিরা মাঠে আসবেই। নেপালের ম্যাচে তাদেরকে ঘরে আটকে রাখা যাবে না। নেপাল নাকি বাংলাদেশ, কে জিতবে জানি না; তবে দুই দলই ভালো খেলে ফাইনালে এসেছে।”

গ্যালারিতেও বাংলাদেশের পতাকা হাতে দেখা গেল মাহি সাগর, সেজুঁতিদের। কেউ ঢাউস সাইজের বাংলাদেশি পতাকা দুলিয়ে চলেছেন নেপালিদের সঙ্গে সমান তালে পাল্লা দিয়ে। নবম শ্রেণিতে পড়া সাগরের বিশ্বাস, ট্রফি নিয়েই মাঠ ছাড়বে বাংলাদেশ।

“আমার মনে হচ্ছে বাংলাদেশ আজ শিরোপা জিতবে। খুব ভালো খেলে আমরা ফাইনালে এসেছি।”

একই বিশ্বাস অষ্টম শ্রেণিতে পড়া সেজুঁতিরও। বাংলাদেশ-বাংলাদেশ শ্লোগান দিতে দিতে সে জানান দিল তার বিশ্বাসের, ‘সাবিনা-কৃষ্ণারাই বাজিমাত করবে আজ।’

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক