Published : 08 Sep 2022, 02:53 AM
প্রথমার্ধের পুরোটা সময় কোণঠাসা থেকে বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিল ইন্টার মিলান। তবে দ্রুতই আবার মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিল বায়ার্ন মিউনিখ। বাকি সময়েও চাপ ধরে রেখে দারুণ জয় তুলে নিল জার্মান চ্যাম্পিয়নরা।
সান সিরোয় বুধবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে ২-০ গোলে জিতেছে বায়ার্ন। ছয়বারের ইউরোপ চ্যাম্পিয়নদের জয়ের নায়ক লেরয় সানে। দুর্দান্ত গোলে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর তিনি ব্যবধান দ্বিগুণ করায়ও ভূমিকা রেখেছেন।
নিজ নিজ ঘরোয়া লিগে দুই দলের কারোরই সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ভালো হয়নি। সেরি আয় সবশেষ তিন ম্যাচের দুটিতে হেরেছে ইন্টার, আর বায়ার্ন বুন্ডেসলিগায় সবশেষ দুই রাউন্ডেই ড্র করেছে। দারুণ জয়ে সেই হতাশা ঝেড়ে ফেলল তারা।
গতিময় ফুটবলে প্রথম ছয় মিনিটে উভয় পক্ষ ভালো দুটি আক্রমণ করে। তৃতীয় মিনিটে জসুয়া কিমিখের শট ইন্টার গোলরক্ষক ফেরানোর তিন মিনিট পর প্রতি-আক্রমণে লাউতারো মার্তিনেসের কোনাকুনি শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
২৩তম মিনিটে আবারও আন্দ্রে ওনানার বাধায় সুযোগ হারায় বায়ার্ন। এবার ডি-বক্সে সাদিও মানের ছোট পাস পেয়ে টমাস মুলারের জোরাল শট কোনোমতে এক হাত দিয়ে ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠান ক্যামেরুনের গোলরক্ষক।
এর দুই মিনিট পরই অসাধারণ নৈপুণ্যে দলকে এগিয়ে নেন সানে। নিজেদের অর্ধ থেকে কিমিখের উঁচু করে বাড়ানো দারুণ থ্রু বল অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে প্রথমে পা দিয়ে আলতো ছোঁয়ার পর বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ফাঁকে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। এরপর আরেক ছোঁয়ায় আগুয়ান গোলরক্ষকে কাটিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় ফাঁকা জালে বল পাঠান জার্মান উইঙ্গার।

প্রথমার্ধে আক্রমণে পরিষ্কারভাবে আধিপত্য করে বায়ার্ন। যথারীতি সুযোগও তারা তৈরি করে বেশি। ৩৭তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ হতে পারতো। একজনকে কাটিয়ে মানে ডি-বক্সে খুজে নেন আলফুঁস ডেভিসকে। কানাডার উইঙ্গারের নিচু শট ঝাঁপিয়ে আটকান ওনানা।
বিরতির পর প্রথম ১০ মিনিটে প্রবল চাপ তৈরি করে ইন্টার। কয়েকটি হাফ-চান্সও মেলে, তবে গোলমুখে কেউই নিখুঁত হতে পারেনি। এরপর আবার চাপ বাড়াতে থাকে বায়ার্ন।
লেভানদোভস্কির ইতিহাস গড়া হ্যাটট্রিকে বার্সার বড় জয়
৬৬তম আসে ইন্টারের ওই আত্মঘাতী গোল। এর পেছনের পুরো কৃতিত্ব সানের। দারুণ নৈপুণ্যে বক্সে মানের সঙ্গে দুবার ওয়ান-টু খেলে কোনাকুনি শট নেন সানে। ঠেকাতে গিয়ে উল্টো বল জালে পাঠান ইতালিয়ান ডিফেন্ডার দানিলো দি’আমব্রোসিও।
দুই মিনিট পর ব্যবধান আরও বাড়তে পারতো। তবে কিংসলে কোমানের পাস ধরে মানের পোস্ট ঘেঁষে নেওয়া শট কোনোমতে পা দিয়ে ঠেকিয়ে ব্যবধান বাড়তে দেননি গোলরক্ষক।
পুরো ম্যাচে গোলের উদ্দেশ্যে ২১ শট নিয়ে ১১টি লক্ষ্যে রাখে বায়ার্ন। তারপরও ব্যবধান বড় না হওয়ার অনেকটা কৃতিত্ব ইন্টারের গোলপোস্টে ব্যস্ত সময় পার করা ওনানার।

৮৩তম মিনিটে প্রতিপক্ষের ভুলে সুবর্ণ সুযোগ পান হোয়াকিন কোররেয়া। সতীর্থের পা ঘুরে ডি-বক্সে ফাঁকায় বল পান তিনি। সামনে একমাত্র বাধা ছিল গোলরক্ষক, কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট শটে লড়াইয়ে ফেরার শেষ সম্ভাবনাটাও শেষ করে দেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।
গ্রুপের আরেক ম্যাচে রবের্ত লেভানদোভস্কির হ্যাটট্রিকে ভিক্তোরিয়া প্লাজেনকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বার্সেলোনা।
আতলেতিকোর শুভ সূচনা
আসরে শুভ সূচনা করেছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে দিয়েগো সিমেওনের দল ঘরের মাঠে ২-১ গোলে হারিয়েছে পোর্তোকে।
আরেক ম্যাচে ক্লাব ব্রুজের মাঠে ১-০ গোলে হেরে গেছে বায়ার লেভারকুজেন।