‘আমিও অবাক হয়েছি, ৮-০ স্কোরলাইন!’ মেয়েদের কৃতিত্ব দিয়ে বললেন টিটুও

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এত বড় জয় ধরা দিবে, ভাবতে পারেননি বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের কোচ সাইফুল বারী টিটু।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 Dec 2023, 12:57 PM
Updated : 4 Dec 2023, 12:57 PM

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের পাশাপাশি অতীত পরিসংখ্যানেও এগিয়ে ছিল সিঙ্গাপুর। প্রথম প্রীতি ম্যাচে তাদেরই বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে দূর হয় সংশয়। যোগ হয় আত্মবিশ্বাস। কিন্তু, তিন দিন বাদে ৮-০ গোলের জয় ধরা দিবে, এতটা ভাবেননি সাইফুল বারী টিটু। ম্যাচ শেষের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের কোচের কণ্ঠে তাই শোনা গেল বিস্ময়মাখা শব্দ ‘ওয়াও’।

কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে সোমবার দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচে র‌্যাঙ্কিংয়ে ১২ ধাপ এগিয়ে থাকা সিঙ্গাপুরকে ৮ গোলের মালা পরায় বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষের প্রতিক্রিয়ায় দাপুটে পারফরম্যান্সের কৃতিত্ব সাবিনা-মারিয়াদের দেন টিটু।

“আমি নিজেও খেলোয়াড় ছিলাম, প্রথম ম্যাচ হয়ত আমাদের জন্য কঠিন ছিল না, স্বাচ্ছন্দ্যেই জিতেছিলাম, কিন্তু এবার এত বড় ব্যবধানে জিতব, ভাবিনি। প্রথম জয়ের পর আবারও সবটুকু নিংড়ে দেওয়া…এই কৃতিত্ব পুরোপুরি মেয়েদের। ভিন্ন মাত্রার মানসিকতা এই মেয়েদের।”

“আমার ধারণা, সাফের পর পুরো দেশের মানুষই ওদের হৃদয়ে ধারণ করে নিয়েছে। ওটার ধারাবাহিকতায় থাকাটাই ছিল গুরুত্বপূর্ণ এবং আমরা কঠিন যে ম্যাচ খেলেছি (এশিয়ান গেমসে), বিশেষ করে জাপানের বিপক্ষে, আমার মনে হয় ওই ম্যাচটি মানসিকভাবে মেয়েদের আরও শক্ত করেছে, অভিজ্ঞ করেছে। এখানে আমার বিন্দুমাত্র অবদান নেই, পুরোটাই মেয়েদের। আমিও তো অবাক হয়েছি, স্কোরলাইন ৮-০! ওয়াও।”

দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচে সিঙ্গাপুরকে নিয়ে সতর্ক ছিল বাংলাদেশ। সেটা গত বছর জুনে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের অভিজ্ঞতার কারণে। প্রথম প্রীতি ম্যাচে ৬-০ গোলে জেতার পর দ্বিতীয় ম্যাচে তাদের বিপক্ষে গোলশুন্য ড্র করেছিল দল। গত বছর নেপালকে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিল বাংলাদেশ, কিন্তু গত জুলাইয়ে তাদের বিপক্ষে নিজেদের মাঠে দুই প্রীতি ম্যাচে ড্র করে মেয়েরা।

সাবিনা খাতুন জানালেন মালয়েশিয়া ও নেপালের বিপক্ষের ওই অভিজ্ঞতা ভাবনায় ছিল তাদের। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে একবার জালের দেখা পেলেও নিজে নষ্ট করা সুযোগগুলো নিয়ে হতাশাও জানালেন অধিনায়ক।

“নেপালের বিপক্ষে আমরা যে দুইটা প্রীতি ম্যাচ খেলেছিলাম, তখনও বলেছিলাম, মেয়েদের ফিটনেসে বড় একটা ঘাটতি ছিল। গত তিন-চার মাস যে অনুশীলন করেছে, একসাথে আছে, সেটারই ধারাবাহিকতা মাঠে মেলে ধরেছে। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে খেলার পর (৬-০ গোলে জয়ের পর) আমাদের একটা অভিজ্ঞতা হয়েছিল যে, দ্বিতীয় ম্যাচ গোলশুন্য ড্র হয়েছিল, ওটা আমাদের মাথায় ছিল। তবে আজ আমাদের লক্ষ্য ছিল ১৫ মিনিটের মধ্যে গোল তুলে নেওয়া।”

“আসলে আমার গোলটা দর্শনীয় গোল হয়নি, যেসব গোল মিস করেছি…আমি মনে করি, আমার ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বাজে মিসগুলো আজকে হয়েছে। তারপরও মেয়েরা ভালো খেলেছে, সবার প্রচেষ্টা ছিল, আমার মনে হয় মেয়েরা দুইশ ভাগ দিয়ে খেলেছে।”