নারী ফুটবল
Published : 13 Feb 2026, 05:07 PM
১০ ম্যাচের সবগুলোতে জয়, প্রতিপক্ষের জালে ৯০ গোলের উৎসব, ‘ক্লিনশিট’ নিয়ে আসর শেষ-সব মিলিয়ে উইমেন’স ফুটবল লিগের এবারের আসরে রাজশাহী স্টার্স ছিল দুর্বার। প্রথমবারের মতো লিগে খেলতে এসেই অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর শিউলি-ঋতুপর্ণা-আফঈদারা বললেন, গতবারের তুলনায় এবারের লিগ ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
এবারের মতো গতবারও অবশ্য শিরোপা লড়াইয়ে ছিল তিন দল। তিন পয়েন্টের ব্যবধানে এআরবি কলেজকে পেছনে ফেলে সেরা হয়েছিল জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া দল নাসরিন একাডেমি। ১৮ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় হয়েছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
এবারও সেনাবাহিনী শেষ রাউন্ড পর্যন্ত সম্ভাবনা জিইয়ে রেখেছিল, কিন্তু শুক্রবার কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে তারা ৩-০ গোলে হেরে যায় রাজশাহী স্টার্সের বিপক্ষে। লিগ টেবিলে তাদের অবস্থান চূড়ান্ত হবে ফরাশগঞ্জের ম্যাচের ফলের পর।
এ রাউন্ডে সেনাবাহিনী জিতলে লিগ শিরোপার লড়াই গড়াত প্লে-অফে। ঋতুপর্ণা, আলপিরা তা হতে দেননি। দ্বিতীয়ার্ধে তিন গোল করে তুলে নেন সহজ জয়। তবে এই ম্যাচে ড্র করলেও শিরোপা জিতত রাজশাহী। অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দ নিয়ে দলটির কোচ মাহমুদা শরীফা অদিতি জানালেন ড্র তাদের ভাবনাতেই ছিল না।
“আমাদের পরিকল্পনাই ছিল ‘ম্যাচ বাই ম্যাচ’ আমরা ৩ পয়েন্ট করে নেব। এ ম্যাচেও ড্রয়ের কথা মাথায় আনিনি। জয়ের জন্য, ৩ পয়েন্টের জন্য আমরা মাঠে নেমেছিলাম। ড্র করার কোনো চিন্তাও ছিল না আমাদের।”
রাজশাহী অধিনায়ক শিউলি আজিম বললেন, সেনাবাহিনীর সামর্থ্যের দিকটি ভাবনায় রেখেই খেলতে নেমেছিলেন তারা।
“ফরাশগঞ্জ এবং সেনাবাহিনী—এই দুইটা টিমই আমার কাছে মনে হয়েছে যে, খুব কঠিন প্রতিপক্ষ ছিল। ফুটবলটা তো আনপ্রেডিক্টেবল। যে যত ভালো দলই হোক, আসলে রুখে দেওয়া সম্ভব যেকোনো দলের জন্যই। আমরা ওইটা মাথায় রেখেই মাঠে নেমেছি। আমরা জানি সেনাবাহিনী একটা ভারসাম্যপূর্ণ এবং ভালো দল। আমরা ওইটা মাথায় রেখেই খেলেছি।”
“এবারের লিগটা অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল। কেননা, জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা চারটা-পাঁচটা টিমে ভাগ হয়ে গিয়েছে। তাই প্রতিটা ম্যাচেই কিন্তু অনেক লড়াই হয়েছে। আগের মতো একপাক্ষিক খেলা হয়নি।”
অধিনায়কের সুরে সুর মিলিয়ে ফরোয়ার্ড ঋতুপর্ণা চাকমাও বললেন, অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথটা তাদের জন্য মসৃণ ছিল না মোটেও।
“অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়া সহজ ছিল না অবশ্যই। বিগত লিগের থেকে এই লিগটা খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়েছে এবং আমাদের এবং ক্লাবেরও লক্ষ্য ছিল শিরোপা জয়ের। সেটা আমরা পূরণ করতে পেরেছি। আমরা খুশি।”
লিগের প্রাপ্তির আনন্দ উদযাপনের জন্য অবশ্য খুব বেশি সময় পাচ্ছেন না ঋতুপর্ণারা। মার্চের উইমেন’স এশিয়ান কাপের প্রস্তুতিতে নেমে পড়তে হবে তাদের; যেটি পিটার জেমন বাটলারের অধীনে ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। রাজশাহী স্টার্সের ডিফেন্ডারও জাতীয় দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকারের মনে হচ্ছে, লিগের খেলার অভিজ্ঞতা মার্চে চীন, উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষের ম্যাচে কাজে লাগবে তাদের।
“(লিগ হওয়ায়) সুবিধা অনেক হয়েছে। কারণ যেহেতু এশিয়া কাপের খেলা আছে… আমরা খেলার ভিতরে থাকতে পারি, গেম টাইম পাই, তাহলে ম্যাচগুলো থেকে আমাদের ভুলগুলা শিখতে পারব.. এখানে যে ভুলগুলো আমাদের হয়েছে, সেগুলো শুধরে নিয়ে এশিয়া কাপের জন্য আমরা তৈরি হতে পারব।”
“চীন, কোরিয়া ওরা তো খুবই ভালো দল, এশিয়ার মধ্যে সেরা দল। ওদের সঙ্গে খেলতে পারব, ওদের সঙ্গে খেলে আমরা অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবো। ওদের পর্যায়ে যেতে গেলে আমাদেরকে আরও কত পরিশ্রম করতে হবে, কঠোর পরিশ্রম করতে হবে—এগুলা আমরা শিখতে পারব। অবশ্যই চেষ্টা করব ওখানে ওদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আর উপরওয়ালা তো আছেই।”