উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ
Published : 06 Jun 2026, 03:32 PM
ভারতের বিপক্ষে ফাইনালের আগের সংবাদ সম্মেলনে মারিয়া মান্দা কখনও গম্ভীর, কখনও বিষন্ন, বিমর্ষ। সংবাদ সম্মেলন শেষ করে লবিতে জল-খাবার খাওয়ার সময়, তার মুখে অবশ্য দেখা গেল চেনা হাসি। বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের ‘কড়া কোচ’ পিটার জেমস বাটলার যে, শিষ্যদের সাথে মজা করতে পারেন, দেখা গেল সেটাও। মারিয়ার হাতে কিছু বিস্কুটের প্যাকেট দিয়ে হাসতে হাসতে বাটলার বললেন, শুধু তুমি খাবে কেন? সতীর্থদের জন্যও নিয়ে যাও!
হাসিখুশি এই আবহের মধ্যেও মারিয়া ভোলেননি মা হারানো শিউলি আজিমের কথা। শিউলি তার মামাতো বোনে মেয়ে। শিউলিকে তিনি ডাকেন ‘মম’ বলে। নেপালের বিপক্ষে সেমি-ফাইনালের আগে শিউলির মতোই প্রিয়জন হারানোর কষ্ট ছিল মারিয়ার অনুভূতিতে।
হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশ দলের সঙ্গী হয়ে গোয়া আসা শিউলি মায়ের মৃত্যুর পর ময়মনসিংহের কলসিন্দুরে ফিরতে চাননি। বুকের ব্যথা সেরে উঠলেও গ্রুপ পর্ব ও সেমি-ফাইনালে তাকে খেলাননি বাংলাদেশ কোচ পিটার জেমস বাটলার। তবে, অভিজ্ঞ এই ডিফেন্ডার দলের সাথে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
মায়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শিউলি দেখেছেন টিম হোটেলে বসে, টিম ম্যানেজার খালিদ মাহমুদ নওমীর মোবাইলে ভিডিও কলের মাধ্যমে। চিরতরে চোখের আড়ালে চলে যাওয়া মা বাসনা দেবির অন্ত্যেষ্টিক্রীয়া দূর থেকে দেখে অঝোরে কেঁদেছেন, কিন্তু দেশের প্রয়োজনে, তৃতীয় সাফ মাকে উপহার দেওয়ার স্বপ্ন আকঁড়ে ধরে তিনি রয়ে গেছেন গোয়ায়।
জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে শনিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শিরোপা লড়াইয়ে ভারতের মুখোমুখি হবে দল। এ ম্যাচে দুটি সাফ জয়ী ডিফেন্ডার এবং দলের সবচেয়ে বয়সী শিউলিকে খেলানোর ভাবনা আছে কোচ বাটলারের। তবে, নিশ্চিত নয়।
অধিনায়ক মারিয়ার ভাবনা অবশ্য অন্যরকম। সেখানে পেশাদার মানসিকতা এবং আবেগের প্রবল মিথস্ক্রিয়া। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আয়োজন অদম্য-৩২-এর আয়োজনে কলসিন্দুরে যাওয়া হয়েছিল। তখন দেখা হয়েছিল, মায়ের জন্য টিনের চালার ঘরের পাশেই শিউলির নতুন পাকা ঘর নির্মাণকাজ চলছে। মারিয়ার সাথে আলাপচারিতায়, মায়ের জন্য শিউলির বানানো নতুন বাড়ির প্রসঙ্গ উঠতেই তিনি আবেগাক্রান্ত কণ্ঠে জানালেন, শিউলির জন্য তার হৃদয়স্পর্শী চাওয়া।
“যে বাড়ি বানানোর কাজ দেখে এসেছিলেন, সেটা শেষ হয়েছে। মমে’র মাও সে ঘরে উঠেছিল। কিন্তু বেশি দিন তার থাকা হলো না। কিডনিতে অসুখ বেঁধেছিল, মম (শিউলি) ওর সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছে, চিকিৎসা করেছে, কিন্তু সৃষ্টিকর্তা সহায় হলেন না।”
এতটুকু বলে, দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মারিয়া থেমে যান। দমকে ওঠা আবেগ সামলে নিয়ে ফের বলতে থাকেন, শিউলির জন্যই শিরোপা জিততে চান তিনি।
"এই চ্যাম্পিয়নশিপটি আসলে আমার জন্য, আমাদের দেশের জন্য এবং শিউলির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিউলির মায়ের চলে যাওয়া…সে তার মায়ের পাশে থাকতেও পারেনি। সে তার মাকে আর কখনোই দেখতে পাবে না।”
“শিউলির মনের ভেতরের কষ্টটা কিছুটা লাঘব করতে, ওকে একটু সান্ত্বনা দিতে-এই ভেবে যে, দেশের জন্য কিছু করার জন্যই আসলে আমরা এখানে ছিলাম এবং সেও ছিল। এই কারণেই এই শিরোপাটা আমাদের জন্য এত দরকার। দেশের জন্য যে, আমরা লড়াই করতে এসেছি, এটি (মানসিকতাই) আমাদের সেই সাফল্য এনে দেবে।"