Published : 15 May 2026, 07:17 PM
ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর বয়স হয়ে গেছে ৪১ বছর। তবে রবের্তো মার্তিনেসের কাছে বয়স কেবল একটি সংখ্যা মাত্র। পর্তুগাল কোচ বললেন, খ্যাতি বা বয়স নয়, রোনালদোকে তার বর্তমান ফর্মের ভিত্তিতে এবং অন্য সবার মতো একই মানদণ্ডে দলে বিবেচনা করা হয়।
উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের আর এক মাসও বাকি নেই। সব ঠিক থাকলে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলবেন পর্তুগাল অধিনায়ক রোনালদো। ফুটবলের রেকর্ড বইকে নতুন রূপ দেওয়া একজন খেলোয়াড়ের জন্য এটি হবে দারুণ অর্জন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই কীর্তি নেই কারো। রোনালদোর মতো একই অর্জনের হাতছানি আছে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসির সামনেও।
লিসবনে বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্তিনেস জোর দিয়ে বলেন, রোনালদোকে অতীতের সাফল্যের ভিত্তিতে বিবেচনা করেন না তিনি।
“কোনো কিংবদন্তিকে নয়, আমরা সেই ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে পরিচালনা করি, যে জাতীয় দলের হয়ে খেলতে ২০২৬ সালের স্কোয়াডে জায়গা পাওয়ার চেষ্টা করছে।”
“বয়স কেবল একটি সংখ্যা। জাতীয় দলে নির্দিষ্ট দিনে ঠিক কী ঘটছে, তা আমরা কেবল পরিমাপ করতে পারি এবং পরের দিনের জন্য সিদ্ধান্ত নিতে পারি। কখনোই পরের দিনের চেয়ে বেশি দূরের কথা ভাবতে পারেন না।”
আন্তর্জাতিক ফুটবলে রেকর্ড ১৪৩ গোল করা রোনালদোকে বিশ্বকাপে কীভাবে ব্যবহার করা হবে, এই প্রশ্নে মার্তিনেস বলেন, আধুনিক ফুটবলে এখন আর শুরুর একাদশকে মর্যাদার একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে দেখা হয় না।
“এখন আমাদের পাঁচ বদলি খেলোয়াড় নামানোর সুযোগ আছে। তাতে বিষয়টা অনেকটা এমন দাড়িঁয়েছে যে, আমাদের একটি শুরুর দল ও একটি শেষের দল আছে। এর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। বিভিন্ন ভূমিকা থাকে, আর ক্রিস্তিয়ানো সবসময় তার ভূমিকা মেনে নেয়।”
রোনালদো দলে তার ভূমিকা কমাতে রাজি হবেন কি না, এই প্রশ্নটি উঠছে ২০২২ বিশ্বকাপের পর থেকেই। ওই আসরে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে রোনালদোকে তুলে নিয়েছিলেন তখনকার পর্তুগাল কোচ ফের্নান্দো সান্তোস। পরে শেষ ষোলোয় সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে দলের সেরা তারকাকে বেঞ্চে রেখেছিলেন তিনি।
আগের আসরের সঙ্গে তুলনা টানতে রাজি জন মার্তিনেস। তার মতে, ফর্ম, খেলার ধরন ও প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হয়। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, অন্য সবার মতো রোনালদোর জায়গাও যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে।
“জাতীয় দলে সব খেলোয়াড়ই একই অবস্থানে থাকে। যখন তারা ভালো খেলে, যখন তারা দলকে জেতাতে নিজেদের ভূমিকা ভালোভাবে পালন করে, তখন তাদের খেলার সুযোগ বেশি থাকে, যেটা তারা ভালো না খেললে থাকে না। ব্যাপারটা খুবই সহজ।”
বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ফুটবলের সবুজ আঙিনায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন রোনালদো। মার্তিনেসের কোচিংয়ে পর্তুগালের হয়ে ৩০ ম্যাচে ২৫ গোল করেছেন পাঁচবারের বর্ষসেরা এই ফুটবলার, যা জাতীয় দলের আগের যেকোনো কোচের সময়ে করা তার ম্যাচপ্রতি গোলের অনুপাতের চেয়ে ভালো।
মার্তিনেসের মতে, রোনালদোর আরও অনেক কিছুই আছে যা শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে তুলে ধরা সম্ভব নয়।
“মাঠে নিজের মুভমেন্ট, ছুটে যাওয়া, জায়গা তৈরি করা, মাঝমাঠের খেলোয়াড়দের ফাঁকি দেওয়ার ক্ষেত্রে সে অসাধারণ।”
“সঠিক পজিশনে থাকার ব্যাপারে সে খুব সুসংগঠিত এবং আমাদের আক্রমণাত্মক কৌশলগুলো সবসময় বাস্তবায়ন করে। আর এটাই তাকে গোল করার সুযোগ করে দেয়, যেমনটা সে করে আসছে, একই সঙ্গে আমাদের খেলোয়াড়দের জন্য জায়গা তৈরি করার সুযোগও করে দেয়।”