২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ
Published : 18 May 2026, 07:33 PM
কাতার বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব পেরুতে না পারা ঘানার সামনে এবারও অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা। ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়ার মতো শক্তিশালী দল পড়েছে তাদের গ্রুপে। তবে প্রতিপক্ষ নিয়ে একদমই ভাবছেন না অ্যান্টোয়ান সেমেনিও। বিশ্ব মঞ্চে বড় দলগুলোকে হারিয়ে নিজেদের প্রমাণ করতে মুখিয়ে আছেন তিনি ও তার সতীর্থরা।
উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপে ‘এল’ গ্রুপে ঘানার অন্য প্রতিপক্ষ পানামা। দ্বিতীয়বার বৈশ্বিক আসরে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা দলটির বিপক্ষেই কেবল জয়ের বাস্তব সম্ভাবনা আছে সেমেনিওদের। ২০২২ আসরে পর্তুগাল ও উরুগুয়ের বিপক্ষে হারা ঘানা জয়ের স্বাদ পায় দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে।
চার বছর আগের ওই বিশ্বকাপে জাতীয় দলে নতুন সদস্য ছিলেন সেমেনিও। পর্তুগালের বিপক্ষে এক মিনিট ও উরুগুয়ের বিপক্ষে ১৮ মিনিট খেলার সুযোগ পান তিনি। এবার অনেকটাই পরিণত ২৬ বছর বয়সী এই ফুটবলার। তাই তাকে ঘিরে দেশের মানুষের আশাও অনেক।
সেমেনিও এখন খেলছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিতে। গত জানুয়ারিতে দলটিতে যোগ দিয়ে এখন পর্যন্ত ২৫টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ১০টি গোল করার পাশাপাশি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনটি। ধীরে ধীরে পেপ গুয়ার্দিওলার দলের আক্রমণভাগের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠছেন এই রাইট উইঙ্গার।
যে দেশের ক্লাবের হয়ে খেলছেন, সেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই মাঠে নামতে হবে সেমেনিওকে। ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইংল্যান্ড ম্যাচ নিয়ে তার মধ্যে তেমন বিশেষ কোনো অনুভূতি কাজ করছে না।
“(ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ) স্বাভাবিকই লাগবে। আমার মনে হয় না, বিশেষ কোনো অনুভূতি কাজ করবে। যদি কিছু থাকে সেটা হলো, কেবল ম্যাচটা জিততে চাইব এবং প্রমাণ করতে চাইব যে আমরা বিশ্বসেরা দলগুলোর সঙ্গেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারি। মনে হয় না, আমার জন্য (ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ) আলাদা কিছু। তবে বন্ধুদের বিপক্ষে খেলার সময় নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করতে চাই। দেখাতে চাই যে, আমরাও বড় দল, দলগতভাবে খেলতে পারি এবং যেকোনো শীর্ষ দলকে হারাতে পারি।”
এনিয়ে পঞ্চমবার বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে ঘানা। বিশ্ব মঞ্চে তাদের সেরা সাফল্য আসে ২০১০ সালে। সেবার কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলে দলটি। এবারও দারুণ কিছু করতে আত্মবিশ্বাসী সেমেনিও।
“পুরো দেশের সমর্থন রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই, দলের জন্য সবাই অনেক প্রার্থনা করছে এবং আশীর্বাদ আছে। পাশাপাশি ম্যানেজমেন্ট এবং স্টাফরা দারুণ। সবাই খুব ইতিবাচক ও আত্মবিশ্বাসী, আমাদের মাঠে নেমে নিজেদের কাজটা করতে এবং ম্যাচ জিততে বাড়তি প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।”
“আমার মতে, আমাদের দলে আক্রমণভাগে অনেক প্রতিভা আছে এবং সবার মাঝে আগ্রাসী মনোভাব কাজ করছে। খেলোয়াড়দের অনেকেই সঠিক পজিশনে গিয়ে শট নিতে এবং গোল করতে মুখিয়ে থাকে। রক্ষণেও আমরা বেশ জমাট। আমরা দল হিসেবে খেলি।”
আগামী ১৮ জুন পানামার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ঘানা। ২৩ জুন ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে তারা। আর ২৭ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া।