Published : 06 May 2026, 08:20 PM
রবিনিয়ো জুনিয়র ও তার পরিবারের কাছে আগেই দুঃখপ্রকাশ করেছেন নেইমার জুনিয়র। তরুণ সতীর্থকে ‘চড় মারার’ ঘটনার জন্য এবার প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড।
গত রোববার সান্তোসের অনুশীলনে নেইমার ও রবিনিয়ো ঝামেলায় জড়ান। গণমাধ্যমের খবর, উত্তপ্ত তর্কে জড়ানো দুই খেলোয়াড়কে টেনে আলাদা করেন সতীর্থরা। আর এসবের সূত্রপাত হয় ১৮ বছর বয়সী রবিনিয়ো কারিকুরিতে নেইমারকে কাটানো নিয়ে। সেটাকে নাকি অসম্মাজনক ধরে নিয়ে তরুণ সতীর্থের উপর চড়াও হন নেইমার।
পরে শারীরিকভাবে আঘাতসহ নেইমারের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনেন রবিনিয়ো। যা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে সান্তোস।
ওই ঘটনার পর মঙ্গলবার দেপোর্তিভো রিকলেতার বিপক্ষে ১-১ ড্র ম্যাচে গোল করে বেঞ্চে থাকা রবিনিয়ো জুনিয়রকে জড়িয়ে ধরে উদযাপন করেন নেইমার। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান তিনি।
“যদি রবিনিয়ো জুনিয়রের প্রতিনিধিরা চান সংবাদমাধ্যমে আমি ক্ষমা চাই, তাহলে এখন সেটাই করছি। আগেই রবিনিয়ো ও তার পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। হ্যাঁ, আমার প্রতিক্রিয়াটা বাড়াবাড়ি মাত্রায় হয়ে গিয়েছিল, পরিস্থিতি ভিন্নভাবে সামাল দেওয়া যেত। কিন্তু আমি মেজাজ হারিয়ে ফেলেছিলাম।”
“সবাই ভুল করে। আমারও ভুল হয়েছে, তারও হয়েছে, তবে আমার ভুলটা একটু বেশিই ছিল। সোমবার দলের সবার সামনে তার কাছে ক্ষমা চেয়েছি। সবার সঙ্গে কথা বলেছি, সেও ক্ষমা চেয়েছিল। আমরা ভেবেছিলাম বিষয়টি সেখানেই শেষ।”
নেইমারের বিরুদ্ধে আনা রেয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক ফরোয়ার্ড রবিনিয়োর ছেলের অভিযোগগুলো হলো- চড় মারা, অপমান করা ও ফেলে দেওয়া। ঘটনা সত্যি হলেও, দুইজনের মধ্যে মীমাংসা হয়ে গেছে বলে জানালেন রবিনিয়ো জুনিয়র।
“হ্যাঁ, চড় মারার ঘটনা সত্য। তবে তিনি (নেইমার) সঙ্গে সঙ্গেই বুঝতে পারেন যে, সীমা লঙ্ঘন করে ফেলেছেন এবং কয়েকবার ক্ষমা চান তিনি। আর সেটা আমি মেনেও নিয়েছি, যা আগেই বলেছি আমি।”
“নেইমার ছোটবেলা থেকেই আমার আদর্শ, তাই ঘটনাটি আমাকে কষ্ট দিয়েছিল। মানুষ এমন অনেক কিছু বলছে, যা সত্য নয়। বিষয়টি এই পর্যায়ে চলে গেছে, যা দেখে খারাপ লাগছে। তবে আমি ঠিক আছি, তাকে আমি অনেক পছন্দ করি। আমাদের মধ্যে ইতিমধ্যে কথা হয়েছে এবং সব মিটমাট হয়ে গেছে।”
নেইমারের মতে, তার নামের কারণেই বিষয়টি বড় করা হয়েছে।
“অবশ্যই (আমার নামের কারণে)। বিশেষ করে এখানে, ব্রাজিলে, যেখানে প্রতিদিন আমার নাম আলোচিত হয়।”
“যারা ফুটবল খেলে তারা সবাই জানে যে এমনটা ঘটে থাকে—ঝগড়া, হাতাহাতি, চড়-থাপ্পড়, যা-ই বলুন না কেন। এটাই ফুটবল, এটা খেলারই অংশ। মাঝেমধ্যে মানুষ এসবে জড়াতে গিয়ে আসল ঘটনাকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করতে শুরু করে...শেষ পর্যন্ত এটি অত্যন্ত বাজেভাবে অতিরঞ্জিত হয়ে দাঁড়ায়।”
সান্তোস কোচ কুকাও এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
“এটি ঠিক হয়নি। যদিও এটা হয়ে গেছে; কিন্তু এড়িয়ে যাওয়া যেত। আমরা এটাকে ফুটবলের স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখতে পারি না, কারণ আসলে ঘটনাটা তেমন ছিল না। ওই পরিস্থিতিতে কে সঠিক ছিল? কেউ না। এমন পরিস্থিতিতে সবাই মেজাজ হারিয়ে ফেলে।”
“সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সান্তোস, ক্লাবের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। সমর্থকরা চায় দল জিতুক, ভালো খেলুক, গোল করুক; তারা এসব নেতিবাচক খবর দেখতে চায় না।”