২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ
Published : 24 May 2026, 08:45 AM
কেউ পায়ের কারিকুরিতে, কেউ বা গতিতে, কেউ আবার এই দুইয়ের মিশেলে কিংবা কেউ রক্ষণে দুর্দান্ত কার্যকারিতায় তারুণ্যেই ঝলক দেখিয়ে চলেছেন। ক্যারিয়ারের শুরুতেই উঠে এসেছেন পাদপ্রদীপের আলোয়। ক্লাব ফুটবলে ইতোমধ্যে তারা প্রতিপক্ষের বুকে কাঁপন ধরাতে পেরেছেন, জাতীয় দলেও দিয়েছেন দুর্দান্ত কিছু করে দেখানোর আভাস। সেই সম্ভাবনাকেই এবার পূর্ণতা দেওয়ার পালা, ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ- বিশ্বকাপে।
উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপ সামনে রেখে প্রতিভাধর তরুণ তারকাদের নিয়ে ফিফার বিশেষ আয়োজন বিশ্বকাপের বিস্ময়বালক। এই পর্বে আছেন ইংল্যান্ডের লেফট-ব্যাক নিকো ও’রাইলি।
জন্ম তারিখ: ২১ মার্চ, ২০০৫
দল: ইংল্যান্ড ও ম্যানচেস্টার সিটি
আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক: ১৩ নভেম্বর ২০২৫, সার্বিয়ার বিপক্ষে (২০ বছর বয়সে)
পজিশন: লেফট-ব্যাক/মিডফিল্ডার
বিশেষ দক্ষতা: টেকনিক, পজেশন ধরে রাখা, শারীরিক শক্তি ও একাধিক পজিশনে খেলতে পারদর্শী
কেন বিশ্বকাপের সেনসেশন হয়ে উঠতে পারেন ও’রাইলি?

ম্যানচেস্টার সিটির একাডেমিতে বেড়ে ওঠা এই ফুটবলারের সিনিয়র ফুটবলে অভিষেক হয় তার শৈশবের ক্লাবের জার্সিতে, যুক্তরাষ্ট্রে, ২০২৪ সালের প্রাক-মৌসুম সফরে। আর এই যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই এবার তার সামনে বড় তারকা হয়ে ওঠার হাতছানি।
অভিষেক মৌসুমে সিটির মূল দলের হয়ে ২০টি ম্যাচ খেলেন ও’ রাইলি। চলতি মৌসুমের ডিসেম্বরেই আগের সংখ্যাটা ছাড়িয়ে যান তিনি। এই বয়সেই সিটি কোচ পেপ গুয়ার্দিওলার পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছেন ও’রাইলি।
সিটির হয়ে চলতি মৌসুমে এরই মধ্যে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৯টি ম্যাচ খেলা এই ফুটবলার ইংল্যান্ডের বয়সভিত্তিক দলের হয়ে খেলেন ২১টি ম্যাচ। জাতীয় দলে প্রথম ডাক পান গত অক্টোবরে। ওই মাসের দুটি ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ না পেলেও, পরের মাসে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে সার্বিয়া ও আলবেনিয়ার বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে পুরোটা সময় খেলেন তিনি।
সন্দেহাতীতভাবে, সিটির জার্সিতে তার সেরা পারফরম্যান্সের দেখা মেলে ২০২৬ সালের মার্চে, লিগ কাপের ফাইনালে। আর্সেনালের বিপক্ষে ওই শিরোপা লড়াইয়ে দলের ২-০ ব্যবধানে জয়ের পথে দলের দুটি গোলই করেন তিনি; এক ঘণ্টার মাথায় সবাইকে ফাঁকি দিয়ে হেডে দলকে এগিয়ে নেওয়ার চার মিনিট পর, একইভাবে জয় নিশ্চিত করেন ও’রাইলি।
মৌসুম জুড়ে দলের প্রয়োজনে নানা পজিশনে খেলেছেন এই তরুণ। তার এমন ধারাবাহিক প্রভাববিস্তারী পারফরম্যান্স গুয়ার্দিওলার চোখে ‘অসাধারণ।’ অধিকাংশ সময় লেফট-ব্যাক পজিশনেই খেলেছেন ও’রাইলি। তবে মাঝেমধ্যেই তাকে বাঁ দিকের আরও ওপরে খেলিয়েছেন কোচ, এছাড়া কখনও সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে, আবারও কখনও নাম্বার টেন হিসেবেও।

কোচ ও সাবেকদের চোখে ও’রাইলি
“সে রক্ষণে, আক্রমণে ও সেট-পিসে অবিশ্বাস্য। কী দারুণ এক খেলোয়াড় হয়ে উঠছে সে, ভিন্ন ভিন্ন পজিশনে খেলতে পারে। সে অসাধারণ। কী দারুণ এক মৌসুম কাটাচ্ছে! আমি জানি না, সে সেরা খেলোয়াড় অথবা মৌসুমের সেরা ফুটবলার কিনা, নাকি তরুণ একজন?”
- পেপ গুয়ার্দিওলা, ম্যানচেস্টার সিটি কোচ
“সে খুব শান্ত একজন। মাঠে সে খুবই বুদ্ধিদীপ্ত এবং তার কাছে আমাদের চাওয়া অনুযায়ী নতুন কিছুর সঙ্গে খুব ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারে।”
- টমাস টুখেল, ইংল্যান্ড জাতীয় দলের কোচ
“আমার দেখা সে যেন এই বয়সের ফুটবলারদের মধ্যে প্রায় রোলস রয়েসের (সবচেয়ে দামি গাড়ি) সমতুল্য…সে সাহসিকতার সঙ্গে বল দখলে নেয়, নিজের রক্ষণভাগে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের পরাস্ত করে এবং এরপর ইতিবাচক মানসিকতায় এগিয়ে যায়। সে যখন আক্রমণে এগিয়ে যায়, মনে হয় যেন গ্যারেথ বেল। দীর্ঘ পদক্ষেপে সে ছোটে এবং তার দৌড়ানোর ভঙ্গিও দারুণ। এরপর, সে বক্সে প্রবেশ করে এবং সে বাতাসেও কার্যকর।”
- গ্যারি নেভিল, ইংল্যান্ডের সাবেক ফুটবলার
ও’ রাইলির সম্ভাব্য বিশ্বকাপ অভিযান
৪৮ দলের আসছে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড পড়েছে ‘এল’ গ্রুপে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া, ঘানা ও পানামা।
আগামী ১৭ জুন ডালাস স্টেডিয়ামে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে যাত্রা শুরু করবে ইংলিশরা। এরপর, ২৩ জুন বস্টন স্টেডিয়ামে তারা খেলবে ঘানার বিপক্ষে। আর গ্রুপের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ পানামা, ম্যাচটি হবে নিউ জার্সিতে।